খেলাধুলা

আর্জেন্টিনা- ব্রাজিল ম্যাচ মাঝপথে বন্ধ

ম্যাচের তখন পঞ্চম মিনিটের খেলা চলছে। সাইড লাইনের পাশে অচেনা একজনকে দেখে আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড় নিকোলাস ওতামেন্দি ও মার্কোস আকুনা জিজ্ঞেস করলেন তিনি কে? সঙ্গে সঙ্গে তাদের ঘিরে ধরলেন অনেকেই।

আর্জেন্টিনার ক্রীড়া পত্রিকা টিওয়াইসি জানিয়েছে, ম্যাচ অফিসিয়ালদের বাইরের উপস্থিত ব্যক্তিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। ইংল্যান্ড থেকে আসা আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড়ের ব্যাপারে খোঁজ নিতে এসেছেন তারা। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর মাঠ ছেড়ে ড্রেসিং রুমে চলে যান আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা।

রয়টার্স জানায়, কোয়ারেন্টিনের নিয়ম ভাঙার দায়ে আর্জেন্টিনার একাদশের তিন খেলোয়াড়ের খেলা নিয়ে আপত্তি জানায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগের পর করিন্থিয়ান্স আরেনা ছেড়ে ড্রেসিং রুমে চলে যায় সফরকারীরা।

ওই চার খেলোয়াড়ের তিন জন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস, ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো ছিলেন সফরকারীদের শুরুর একাদশে।

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ঘিরে ধরার পর তারা কথা বলেন মেসি ও নেইমারের সঙ্গে। সেখানে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় রেফারি কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়নদের ড্রেসিং রুমে পাঠিয়ে দেয়।

ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়-কোচদের স্বাস্থ্যা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি পুরোটা সময় মাঠেই ছিলেন। তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ব্রাজিল কোচ তিতের সঙ্গে কথা চালিয়ে যান। পরে এসে যোগ দেন মেসিও।

আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ব্রাজিলে এলেন। দিন তিনেক থাকলেন, অনুশীলন করলেন। হোটেলে সময় কাটালেন। কোয়ারেন্টিন না মানার জন্য অভিযুক্ত চার খেলোয়াড়কে তখন দেশ থেকে বের না করে দিয়ে ব্রাজিলের স্বাস্থ্যকর্তাদের কি না হুঁশ হলো ম্যাচ শুরুর সাত মিনিট পর!

হ্যাঁ, এ অভূতপূর্ব কাণ্ডটাই ঘটেছে। ইংল্যান্ডে খেলেন বিধায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে এসে প্রয়োজনীয় কোয়ারেন্টিন-বিধি মানেননি, যে কারণে আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড়কে ব্রাজিল থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে, এমন খবর সারাদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রাজিল কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। ওদিকে কনমেবল আর্জেন্টিনাকে আশ্বস্ত করে, খেলতে পারবেন অভিযুক্ত এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, জোভান্নি লো সেলসো, এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরো।

বুয়েন্দিয়া বাদে বাকি তিনজনই ছিলেন আজ আর্জেন্টিনার মূল একাদশে। তিন দিন ধরে এদের ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়া ব্রাজিলের স্বাস্থ্য কর্তারা ম্যাচ শুরুর সাত মিনিটের মাথায় মাঠে ঢুকে শুরু করলেন তুলকালাম! অভিযুক্ত চার খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে নিয়ে যেতে চান তাঁরা! ফলে এখন আনুষ্ঠানিকভাবেই ম্যাচ স্থগিত। ফুটবলপ্রেমীরা বঞ্চিত হলেন আরেকটা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ দেখা থেকে।

তবে এ ক্ষেত্রে ব্রাজিল অন্তত কনমেবলের নিয়মকে নিজেদের পক্ষে পাচ্ছে না। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের শৃঙ্খলাবিধির ৭৪ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করা আছে, ম্যাচ শুরু হয়ে গেলে খেলা থামিয়ে খেলোয়াড়দের ম্যাচ খেলায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যাবে না। খেলতে বাধা দেওয়া যাবে না। খেলোয়াড় সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে সেটা মেটাতে হবে ম্যাচ শুরুর আগে বা পরে, ম্যাচ চলাকালীন সময়ে অবশ্যই নয়। এমনটি হলে যে দলের কারণে ম্যাচ থেমে যাবে, সে দল তিন পয়েন্ট হারাবে। প্রতিপক্ষ দল পাবে সেই তিন পয়েন্ট।

সে হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে আর্জেন্টিনাই। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এইরে দে সান্তা ফে’র সাংবাদিক আন্দ্রেস ইয়োসেন এই ব্যাপারটা তুলে ধরেছেন একটি টুইটে। যদিও এখনও পয়েন্ট দেওয়া নিয়ে কনমেবল আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।

এদিকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কনমেবল জানিয়েছে, ম্যাচ রেফারি ও কমিশনার এই ম্যাচের রিপোর্ট জমা দেবেন ফিফার শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির কাছে। এরপর কী হবে না হবে সেটা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ফিফাই সিদ্ধান্ত নেবে। এখন সবকিছু নির্ভর করছে ফিফার ওপর।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button