ধর্ম

দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম

প্রশ্ন : আমার বড় ভাইয়ের কিডনি অকেজো হয়ে গেছে। এখন আমি একটি কিডনি দিতে চাচ্ছি। শরীয়তের বিধান জানতে চাই।
উত্তর : শরীয়তে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মালিক সে নিজে নয়। এর মালিক আল্লাহ তায়ালা। সে জন্য কারো নিজের রক্ত বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রয় করা জায়েজ নয়। দান করা বা মৃত্যুর পর অপরকে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়ে যাওয়াও নিঃশর্তভাবে জায়েজ নয়। বিশেষ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ মুফতি সাহেবের সুনির্দিষ্ট ফতোয়া নিয়ে দান করা যায়। আপনার ভাইয়ের ক্ষেত্রে যদি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরামর্শ দেন, আপনার জীবনের কোনো বড় আশঙ্কা না থাকে, আপনার বড় ভাইয়ের সুস্থতা ও ম্যাচিং যদি সন্দেহমুক্ত হয়, তাহলে আপনি তাকে একটি কিডনি দিতে পারবেন।
প্রশ্ন : মরণোত্তর চক্ষুদান বা অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান কি শরীয়ত সমর্থন করে?
উত্তর : শরীয়তে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মালিক সে নিজে নয়। এর মালিক আল্লাহ তায়ালা। সে জন্য কারো জন্যই নিজের রক্ত বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রয় করা জায়েজ নয়। রক্তদান করা যায়। বিক্রয় করা হারাম। চক্ষু বা অন্যান্য অঙ্গ দান সাধারণত জায়েজ নয়। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে মৃত্যুই মানুষের শেষ নয়। এরপরও তার পুনরুত্থান ও পরকালীন জীবন আছে। তাছাড়া মৃত ব্যক্তির প্রচ্ছন্ন একটি অনুভূতি শক্তিও থাকে। সে আশপাশের লোকজনকে বুঝতে পারে। শরীয়তবিরোধী কাজ, বেপর্দা, সীমাতিরিক্ত বিলাপ, কান্নাকাটি তাকে কষ্ট দেয়। জোরে নড়াচড়া, অধিক ঠান্ডা বা অধিক গরম পানি ব্যবহারে তার কষ্ট হয়। জানাজা নিয়ে বেশি ছোটাছুটি, ঝাঁকুনি ও আঘাত সে অনুভব করে। কবর থেকে লোকজন চলে যাওয়ার সময় সে পায়ের আওয়াজ পর্যন্ত শুনতে পায়। এমন একজন মৃত ব্যক্তির সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যদি সে দান করে যায় আর মৃত্যুর পরই ছয় ঘণ্টার মধ্যে ডাক্তার এসে তার চোখ খুলে নেয়, হার্ট খুলে নেয়, লিভার খুলে নেয়। উন্নত বিশ্বে এখন শরীরের ভেতর বাইরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই ব্যবহারযোগ্য। এমতাবস্থায় শরীরের সব অঙ্গ খুলে নিয়ে গেলে দাফন করা হবে কাকে? এ অবস্থাটি মৃত ব্যক্তির জন্য কী পরিমাণ কষ্টের হবে? আর তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যা ও সকল আত্মীয়ের জন্য কতটুকু বেদনার হবে তা ভেবে দেখা দরকার। এ জন্যই শরীয়ত এসব দান সমর্থন করে না। একান্ত ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো মাসআলা যদি সামনে আসে তাহলে সবদিক বিবেচনা করে মুফতিগণ সুনির্দিষ্ট ফতোয়া দিতে পারেন।

-দৈনিক ইনকিলাব

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button