আইন ও অপরাধ

বগুড়ায় যুবলীগ নেতার হাতে আ.লীগ নেতা লাঞ্ছিতের অভিযোগ

বগুড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা মারুফ রহমান মঞ্জুর গলা টিপে ধরে ২২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা পৌর কাউন্সিলর আমিন আল মেহেদি ও তার মোটরসাইকেল চালক সোবহানের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) রাতে নিশিন্দারা উপশহর এলাকার এ ঘটনায় লাঞ্ছিত আওয়ামী লীগ নেতা সদর থানায় দুইজনের নামে এজাহার দিয়েছেন।

বুধবার (১৮ আগস্ট) বিকালে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা বলেন, ‘তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে বগুড়া পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আমিন আল মেহেদি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবো।’

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদ (১০নং ওয়ার্ড) সদস্য মারুফ রহমান মঞ্জু সদর থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিয়ে নিশিন্দারা উপশহরের বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে উপশহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শফিক আমিন কাজলের সঙ্গে দেখা হলে তাকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখতে দেন। এ সময় মোটরসাইকেলে সেখানে আমিন আল মেহেদী ও তার সঙ্গী সোবহান আসেন। তখন ‘মদ্যপ’ যুবলীগ নেতা কাউন্সিলর মেহেদী বলতে থাকেন, তিনি উপশহর এলাকার ‘ইমাম, সবাইকে তার পেছনে নামাজ পড়তে হবে’। তখন ডা. কাজল তাকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। এতে মেহেদী আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম মোহনের (জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক) লোক। আর মারুফ রহমান মঞ্জু নিজে আলহাজ মমতাজ উদ্দিনের (জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি) লোক।

এক পর্যায়ে মেহেদী আরও উত্তেজিত হয়ে মারুফ রহমান মঞ্জুকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজের পর মারধর শুরু করেন। তখন বাইকচালক সোহবান গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় মঞ্জুর পকেটে থাকা ২২ হাজার টাকা বের করে নেন মেহেদি। আশপাশে থাকা উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলে এলাহী সহ অন্যরা এগিয়ে এলে তারা সটকে পড়েন।

আওয়ামী লীগ নেতা মারুফ রহমান মঞ্জু বলেন, ‘জীবনে এমন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুনিনি। লজ্জা ও অপমানে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করছে।’ তিনি রাতেই সদর থানায় মেহেদি ও তার সঙ্গী সোবহানের বিরুদ্ধে এজাহার দিয়েছেন। এছাড়া বিষয়টি জেলা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের অবহিত করেছেন। তারা আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার সময় পৌর কাউন্সিলর অসংলগ্ন (মদ্যপ) ছিলেন। এজাহার পাওয়া গেছে; তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে আমিন আল মেহেদি আরও জানান, তিনি যুবলীগ ও মঞ্জু আওয়ামী লীগ করেন। দুইজনই জনপ্রতিনিধি। তাই তিনি তাকে মারপিট বা টাকা ছিনিয়ে নিতে পারেন না। তিনি উপশহর এলাকার ‘ইমাম’ এমন কথাও বলেননি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করলে তিনি মঞ্জুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button