বগুড়া জেলা

কালাম ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড সম্মাননা পেয়েছেন বগুড়ার মাসুমা

ভারতের ‘কালাম ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের মাসুমা মরিয়ম। মানবসেবায় কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে তার যাত্রা শুরু। দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবুল কালাম স্মরণে খোয়াব ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

মাসুমা মরিয়মের বাড়ি বগুড়ার শেরপুর উপজেলায়। পৌরশহরের শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া মাদ্রাসার প্রভাষক মোহাম্মাদ আলী ও শাহনাজ পারভীনের মেয়ে মাসুমা মরিয়ম। শাহনাজ পারভীন ২০১৭ সালের গেস্নাবাল টিচার্স প্রাইজ- বিশ্বের সেরা পঞ্চাশ শিক্ষকের একজন।

সম্প্রতি মাসুমা মরিয়ম জানান, চলতি মাসের ২৬ ও ২৭ জুলাই ভারতের খোয়াব ফাউন্ডেশন দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবুল কালাম স্মরণে তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করেন কালাম ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুবরা অংশগ্রহণ করেন। এই কনফারেন্সে ‘কালাম ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এবছর ভারত, পাকিস্তান, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক ও বাংলাদেশ থেকে ২২ জনকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। সেখানে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে এবার মাসুমা মরিয়মকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

মাসুমা মরিয়ম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। মানুষের জন্য বিশেষ করে যুব-সমাজের জন্য বিগত ২০১৫ সাল থেকেই কাজ করছেন নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘স্বপ্ন ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশনসহ দেশের ও দেশের বাইরের বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে। করোনা মহামারির কঠিন সময়ে মাসুমা শুধু যুবদের জন্য নয়, নারী-শিশু থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন।

তার উলেস্নখযোগ্য সামাজিক কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে, লক-ডাউনের আগে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে করোনা সচেতনতা সৃষ্টি, যুবাদের জন্য ফটোগ্রাফি, লেখালেখি ও পাওয়ার-পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতা আয়োজন। ৩৪টি দেশের প্রায় সাড়ে ৭০০ তরুণ-তরুণী নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ভার্চুয়াল ‘ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সামিট’। তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে ‘স্বপ্ন ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’-এর মাধ্যমে প্রতি মাসেই আয়োজন করছেন সময়োপযোগী বিভিন্ন ট্রেইনিং ও ওয়ার্কশপ। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতার জন্য ‘হাউ আর ইউ, রিয়েলি?’ ক্যাম্পেইন আয়োজন করেছিলেন তিনি। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শতাধিক যুবাদের নিয়ে ‘সাইকোলজিক্যাল ফার্স্ট এইড ট্র্রেইনিং’ও আয়োজন করেন তিনি।

এছাড়া নারীনির্যাতন ও ধর্ষণ প্রতিরোধে ‘রাইট টু ফাইট অ্যাগেইনস্ট হারেসমেন্ট’ ক্যাম্পেইনসহ করোনা সংক্রমণ রোধে নিজ এলাকায় মাস্ক বিতরণ করেছিলেন এই নারী। করোনাকালে সবার জন্য যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং বাল্যবিয়ে বন্ধে পুরুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে যুবদের অ্যাডভোকেসি প্রকল্পতে কাজ করেছেন মাসুমা। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তাদের জন্যও কাজ করছেন তিনি। এসব কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মাসুমা মরিয়ম পেয়েছেন ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ আইকন অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’, জায়গা করে নেন ‘ওয়ার্ল্ড ইয়াং পারসন অব দ্য ইয়ার ২০১৯’-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায়। পেয়েছেন ডিউক অব এডিনবার্গ অ্যাওয়ার্ড’-এর ব্রোঞ্জ পদক। অতিমারির সময় পান ‘গেস্নাবাল চেইঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড-২০২০’ ও ‘আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ এজ এ ফ্রন্ট লাইন ফাইটার ডিউরিং কোভিড-১৯’। এছাড়া ‘কালাম ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স-২০২০’-এ সেরা বক্তার পুরস্কারও পান তিনি। তার এসব সফলতার পেছনে পরিবারের সহযোগিতা ও তার সঙ্গে কর্মরত সব স্বেচ্ছাসেবীদের ভূমিকাকেই তিনি মুখ্য বলে মনে করেন মাসুমা মরিয়ম।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button