বগুড়া জেলা

বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ৭টি ঘর ভেঙে পুনরায় নির্মাণ

বগুড়ায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমি ও গৃহহীনদের দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ২০টি ঘরে ফাটল ধরেছে। এর মধ্যে সাতটি ঘর ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় সদর উপজেলার নিশিন্দারা দশটিকা এলাকার দিঘীর পাড়ে সরকারি খাস খতিয়ানের জায়গাতে ৬০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। সেই ঘরগুলো ভূমিহীন ৬০ জনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘর পাওয়া ৬০ জন তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করে। ঈদুল ফিতরের আগে থেকে ঘরগুলোতে ফাটল দেখা যায়। তার কিছুদিন পর দিঘীর পাড়ের পূর্বদিকের সাতটি ঘরের পেছনের দেয়ালে ফাটল ধরে হেলে পড়ে। ফাটলে ভেঙে পড়ার উপক্রম হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান পরিদর্শন করেন। পরে ঘরগুলো ভেঙে ফেলেন এবং তা আবার নির্মাণ শুরু করেন।

রোববার সরেজমিনে সদরের নিশিন্দারা দশটিকা দিঘীর পার আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের প্রায় ২০টি ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ঘর ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হচ্ছে।

ফাটল ধরা ঘরের বাসিন্দা সুমি, আতাউল, মোখলেছার, মনজিলাসহ বেশ কয়েকজন জানান, রোজার ঈদের সময় বৃষ্টিতে ঘরে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। প্রথমে মনে হয়েছিল হয়ত পলেস্তারায় ফাটল ধরছে। কিন্তু পরে দেখা গেছে, পলেস্তারায় নয় বরং ঘরের দেয়ালগুলোতে ফাটল ধরেছে। ঘরে ফাটল ধরায় বেশ কয়েকজন তাদের ঘর থেকে বের হয়ে বারান্দায় থাকা শুরু করেন। 

শাহিদা নামে একজন জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে সেখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করা শুরু করি। মাসখানেক আগে রাতে বৃষ্টি হয়। সকালে উঠে দেখি ঘরের পেছনে ফাটল। দুপুরের দিকে ভেঙে পড়ে। রান্না ঘরের চাল পড়ে যায়। ভয়ে সেদিন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিই। এখন আবার কবে ঘরে উঠতে পারব তা জানা নেই। স্যাররা বলেছেন, তাড়াতাড়ি ঠিক করে দেবেন।

উপস্থিত অনেকেই জানান, যে ঘরগুলোতে ফাটল ধরেছে এবং ভেঙে ফেলা হয়েছে তার অধিকাংশই করা হয়েছে দীঘির পাড়ের সঙ্গে পূর্ব ও দক্ষিণ পাশের আলগা মাটিতে। এতে বৃষ্টিতে মাটি কৃষি জমির দিকে ধসে গেছে। তাই ঘরগুলোতে ফাটল ধরেছে। 

ওই এলাকার ইউপি সদস্য লাল মিয়া জানান, ফাটল ধরায় ঘরগুলো ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানান, আমরা আজ আশ্রয়ণ প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছি। ঘরের দেয়াল দেবে যাওয়ায় আমরা তা ভেঙে আবার করছি। ঈদ ও কঠোর বিধিনিষেধের কারণে নির্মাণ শ্রমিকদের পেতে কষ্ট হচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব সাতটি ঘর পুনরায় নির্মাণ করে ও ফাটল ধরা প্রতিটি ঘর সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করে হস্তান্তর করা হবে। 

বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজ করতে প্রতিবন্ধকতা দেখা  দিয়েছে। এই ঘরগুলো সংস্কারে আবারও ব্যয় হচ্ছে, বিষয়টি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছি। নির্মাণে কোনো সমস্যা ছিল না, নিয়ম মেনে করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button