খেলাধুলা

জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফিরলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

ইতালির স্থানীয় সময় সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা। নিজস্ব জেটে তুরিন-ক্যাসেল বিমানবন্দরে অবতরণ করলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সেখান থেকে সরাসরি গেলেন জুভেন্টাস কন্টিনাসা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে রিপোর্ট করতে। ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এলেন জুভেন্টাস মেডিকেলে। উদ্দেশ্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো। কিন্তু সময়মতো চেক-আপ করাতে পারলেন কই? হাজার হাজার অপেক্ষমাণ ভক্ত যে তাকে মৌমাছির মতো ঘিরে ফেলেছে!


নিজ ঠিকানায় ফেরার পর রোনালদোও ছিলেন ফুরফুরে মেজাজে। ভক্তদের সেলফি-অটোগ্রাফের আবদার মেটাতে তাই একটুও কার্পণ্য করেননি। দুই শারীরিক প্রতিবন্ধী ভক্তকে তো রীতিমতো চমকে দিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। পেছন দিক দিয়ে এসে তাদের পিঠে হাত রাখলেন ৩৬ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড। স্বপ্নের ফুটবলারের সান্নিধ্য পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়লেন তারাও। তাদের হাত থেকে মোবাইল ফোনটা নিয়ে রোনালদো নিজেই তুললেন হাস্যোজ্জ্বল সেলফি। এরপর সঙ্গে আনা ডায়েরিতে দিলেন অটোগ্রাফ।


গতকাল কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রোনালদোর এত সব কর্মকাণ্ডে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো। হ্যাঁ, তিনি থেকে যাচ্ছেন জুভেন্টাসেই। সব ঠিক থাকলে আজ থেকেই তুরিনের বুড়িদের হয়ে প্রাক-মৌসুম অভিযান শুরু করবেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার।


ক্লাবে হতাশার মৌসুম শেষে গত মে মাসে রোনালদো যোগ দেন জাতীয় দলে। পর্তুগালের জার্সিতে ইউরোয় আগুন ঝরিয়েছেন ‘সিআর সেভেন’। কিন্তু সতীর্থদের ব্যর্থতার মাশুল দিতে হয়েছে তার দলকে। বেলজিয়ামের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিতে হয়েছে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামা পর্তুগালকে। তবে দেশের জন্য আসরটা হতাশার হলেও রোনালদোর জন্য একটা বড় সান্ত্বনা ছিল। ইউরোয় পাঁচ গোল করে বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়েছেন তিনি। পরে গোল্ডেন বুটও জিতে নিয়েছেন। সেই গৌরব নিয়েই গতকাল তিনি ফিরে এসেছেন নিজ ক্লাবে।
ভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন বলেই ক্লাব বদলানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন রোনালদো। তবে ২০১৮ সালে যে লক্ষ্য নিয়ে জুভেন্টাসে যোগ দিয়েছিলেন, তা পূরণ করতে পারেননি। গত মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ৪৪ ম্যাচে ৩৬ গোল করেন। ২৯ গোল নিয়ে ইতালিয়ান সিরি ‘আ’-এর শীর্ষ গোলদাতাও হন তিনি। কিন্তু কাজের কাজটা আর করতে পারেননি। গতবারও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা এনে দিতে পারেননি জুভকে। তার দল খুইয়েছে সিরি ‘আ’-এর সিংহাসনও। মৌসুমের শেষ দিন নাপোলি হোঁচট না খেলে ২০২১-২২ চ্যাম্পিয়নস লিগেও ঠাঁই হতো না দলটির। দলীয় অর্জন বলতে ছিল কেবল কোপা ইতালিয়া। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ছাঁটাই করা হয় কোচ আন্দ্রেয়া পিরলোকেও। সব মিলিয়ে তুরিনের ক্লাবটিতে রোনালদোরও শেষ দেখে ফেলেছিলেন অনেকে। কিন্তু চুক্তি সম্পন্ন না করেই ক্লাব ছাড়ার মতো ‘বেঈমানি’ করতে চাননি পর্তুগিজ যুবরাজ। সে কারণেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। সে যাই হোক, জুভদের সঙ্গে এটাই তার সম্ভাব্য শেষ মৌসুম।
নতুন মৌসুম রোনালদোকে শুরু করতে হচ্ছে নতুন কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির অধীনে। যদিও এই কোচের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো নয় বলে গণমাধ্যমে গুঞ্জন আছে। এসব উড়ো খবর মাথায় নিয়েই অবশ্য উড়ে এলেন রোনালাদো। গত কয়েক সপ্তাহ পরিবারের সঙ্গে স্পেনের মায়োর্কাতে কাটিয়েছেন তিনি।


গত শনিবার রোনালদোকে ছাড়াই প্রাক-মৌসুমের প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলেছে জুভেন্টাস। চেসেনার বিপক্ষে সেই ম্যাচটা ৩-১ গোলে জয়ের পর ক্লাবের ভাইস-প্রেসিডেন্ট পাভেল নেদভেদ বলেছিলেন, ‘চুক্তির প্রতি রোনালদোর শ্রদ্ধা রয়েছে। তাকে ২৬ জুলাই ডাকা হয়েছে। যদিও ক্লাবে তার ভবিষ্যত নিয়ে খোলামেলা কিছু জানায়নি। তবে আশা করছি সে আমাদের সঙ্গেই থাকবে।’


আগামী শনিবার সিলভিও বারলুসকোনি ট্রফিতে মোনজার মুখোমুখি হবে জুভেন্টাস। এই ম্যাচ দিয়েই প্রাক-মৌসুমে সাদা-কালো শিবিরের হয়ে প্রথমবার খেলতে নামবেন রোনালদো। এরপর ৮ আগস্ট হোয়ান গাম্পার ট্রফিতে বার্সেলোনার বিপক্ষে লড়বে জুভরা। সেই ম্যাচে দেখা হতে পারে সময়ের দুই সেরা ফুটবলার মেসি-রোনালদোর। ২২ আগস্ট উদিনেসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সিরি ‘আ’ অভিযান শুরু করবে ইতালির সফলতম ক্লাবটি।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button