বগুড়া জেলা

ঈদ উপলক্ষে বগুড়া থেকে ঢাকায় যাচ্ছে গরু, আসছে মানুষ

পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে বগুড়া থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় যাচ্ছে কুরবানীর গরু ফেরত আসছে মানুষ নিয়ে।

ঢাকার হাটে গরু বিক্রেতা মহিদুল হোসেনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি ৬০ টি বগুড়ার বিভিন্ন হাট থেকে ক্রয় করে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে। করোনাকলীন লকডাউন ও বিভিন্ন হাট বন্ধের জন্য তিনি কম গরু ক্রয় করেছেন।

বগুড়ার ট্রাক ড্রাইভার আতাউর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বগুড়ার বিভিন্ন হাট থেকে ঢাকার ক্রেতারা গরু নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছে কিন্তু ট্রাক আসার সময় ফাকা আসে এজন্য মানুষ আসতে চাইলে তাদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের চাপ রয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ফলে মহাসড়কটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করছে। উত্তরবঙ্গগামী লেনে যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও বিকেল থেকে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী যানবাহনের চাপ বেশি দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মহাসড়কের ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী লেনের যানবাহনে থেমে থেমে যানজট লেগেই আছে। আবার মাঝেমধ্যেই একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অনেক সময়। ধীরগতিতে কিছুদূর এগোতেই যানবাহনগুলোকে আবার থেমে থাকতে হচ্ছে। তবে সকালের দিকে মহাসড়কটির উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে অনেকটাই স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলতে দেখা গেলেও বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকেলে লেনটিতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে যানজট সৃষ্টি হতে দেখা গেছে।

বঙ্গবন্ধু পশ্চিম থানার ওসি মোসাদ্দেক হোসেন জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে মহাসড়ক অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ঈদকে সামনে রেখে জেলার ১২ উপজেলায় ৪০ হাজার ৮০৯ জন খামারি তিন লাখ ৭৬ হাজার ৫৭৭টি পশু কোরবানির উপযোগি করেছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪০ হাজার ৫০৩টি, শিবগঞ্জে ৪১ হাজার ৪৩টি, সারিয়াকান্দিতে ৩৪ হাজার ৫৫৭টি, শেরপুরে ৩৯ হাজার ৯৫০টি, ধুনটে ৩২ হাজার ৫৮৮টি, গাবতলীতে ৩১ হাজার ৪৪৫টি, দুপচাঁচিয়ায় ৩০ হাজার ১৬৪টি, কাহালুতে ২৬ হাজার ৫৭৮টি, শাজাহানপুরে ২৫ হাজার ৯১৮টি, আদমদীঘিতে ২৫ হাজার ৮১২টি, সোনাতলায় ২৫ হাজার ৭৪৭টি এবং নন্দীগ্রামে ২২ হাজার ২৭২টি। এসব পশুর মধ্যে গরু (ষাঁড়, বলদ ও গাভী) দুই লাখ ৫০ হাজার ৮৫২টি, মহিষ দুই হাজার ৮১৩টি, ছাগল এক লাখ তিন হাজার ২৫২টি এবং ভেড়া ১৯ হাজার ৬৬০টি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৮টি স্থায়ী হাট রয়েছে। তবে ঈদকে সামনে রেখে অন্তত ৮৫টি হাটে গবাদিপশু তোলা হচ্ছে। এরমধ্যে বগুড়ার মহাস্থান হাট, দুপচাঁচিয়ার ধাপের হাট, সদরের ঘোড়াধাপ হাট, চাঁদমুহা হাট, বনানী হাট, সুলতানগঞ্জ হাট, সাবগ্রাম হাট, নামুজা হাট, পেরীর হাট, শেরপুর হাট অন্যতম।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) ডা. রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, তারা সচেতন থাকায় খামারিরা গবাদি পশু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করতে পারেনি। গতবার এ জেলায় তিন লাখ ২৭ হাজার পশু কোরবানি দেওয়া হয়। সেই হিসাবকে মাথায় নিয়েই এবারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। রোগবালাই না থাকায় খামারে চাহিদার অতিরিক্ত ৫০ হাজার পশু রয়েছে। করোনা ও বন্যার কারণে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়ায় ৪-৫ মণ ওজনের গরুগুলো বিক্রি নিয়ে চিন্তিত খামারিরা। তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় গবাদি পশু বেশি থাকলেও কিছু পশু অন্য জেলায় যাবে, তাই অবশিষ্ট থাকার সম্ভবনা কম।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button