আইন ও অপরাধ

বগুড়ার কলেজ ছাত্রীর বস্তাবন্দি লাশ বরিশালে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার

বগুড়ার কলেজছাত্রী নাজনীন আক্তার নিখোঁজের ছয় দিন পর বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে তার বস্তায় বন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে গৌরনদী মডেল থানা ও বগুড়া সদর থানা পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বুধবার বেলা ১২টায় গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এদিকে পালিয়ে থাকা সাকিবের পিতামাতাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

কলেজছাত্রী নাজনীন আক্তার বগুড়া সদরের সাবগ্রাম (উত্তরপাড়া) এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফের মেয়ে। বগুড়ার গাবতলী সৈয়দ আহম্মেদ কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।

ঘাতক বগুড়া জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসের ঝাড়ুদার সাকিব হোসেন হাওলাদার। সে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনচর জাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা ভ্যানচালক আব্দুর করিম হাওলাদারের ছেলে। বর্তমানে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের হরহরগ্রামে ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করে সাকিবের পরিবার।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার দিনভর নিষ্ফল অভিযান শেষে বগুড়া সদর থানা পুলিশ আসামি সাকিবকে নিয়ে বগুড়ায় চলে যান। ইতিমধ্যে বুধবার সকাল ১০টায় বাটাজোর এলাকা থেকে এক ব্যক্তি মোবাইলে জানান সেখানকার একটি ধানক্ষেতে বস্তা পড়ে রয়েছে। তা থেকে মারাত্মক দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।

তাদের ধারণা ছিল ওই বস্তায় মরদেহ রয়েছে। তবে কার মরদেহ তা তারা নিশ্চিত ছিল না। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখান থেকে বস্তা উদ্ধার করে তার মুখ খোলার পর বের হয়ে আসে নাজনীন আক্তারের মরদেহ। সাথে সাথে বিষয়টি বগুড়া সদর থানাকে অবহিত করা হয়।

ওসি আরো জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নাজনীনের পরিবারের সদস্যদেরও খবর দেয়া হয়েছে। তারাও বগুড়া পুলিশের সাথে রওয়ানা হয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই গোলাম মোস্তফা বলেন, ঘটনার পর ২ দিন বাড়িতে অবস্থান করছিল সাকিব। ধারণা করা হচ্ছে ওই সময়ে সাকিব তার পিতামাতাকে হত্যার বিষয়টি জানিয়ে দেয়। এমনকি সেফটি ট্যাংকে মরদেহ ফেলার কথাও বলে। সাকিব বগুড়ায় চলে যাওয়ার পর পিতামাতা সেখান থেকে মরদেহ তুলে অন্যত্র সরিয়ে ফেলায় মরদেহের সন্ধান মেলেনি। তবে সেখান থেকে নাজনীনের ব্যবহৃত ওড়না, দুটি নক ও শরীরে চামড়ার অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়। তাছাড়া অভিযান চলাকালে সাকিবের পিতামাতাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তারা আগেভাগে পালিয়েছে। এখন তাদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে।

গ্রেপ্তারকৃত ঘাতক সাকিব হোসেন হাওলাদার স্বীকারোক্তিতে বলেন, মোবাইলে আমাদের প্রেমের সম্পর্কের পর পর গত বছর ২৩ আগস্ট বগুড়ার একটি পার্কে আমার দেখা করে বিয়ের দিন ঠিক করি। ৩০ সেপ্টেম্বর নাজনিনের বাড়িতে আমাদের বিয়ে হয়। নাজনিনের খালু আমাদের বিয়ে পড়ান। বিয়েতে আমার ঠিকানা গোপন রাখি। এ বছর ২৪ মে বগুড়ার চারমাথা থেকে নাজনীনকে নিয়ে বরিশাল নিজের বাড়িতে নিয়ে আসি। আমার বাবা-মা বিয়ে সম্পর্কে কিছুই জানতো না। তারা নানাবাড়িতে অবস্থান করার সুযোগে আমি নাজনিনকে বাড়িতে তুলি। তার পূর্বে নাজনীনকে জানিয়েছিলাম বাবা অসুস্থ এ সুযোগে বাড়িতে গেলে কোন সমস্যা হবে না।

নাজনীন বাড়িতে গিয়ে আমাদের টিনের ঘর এবং ওয়াশরুম দেখে আমার সাথে খারাপ আচরণ করে। এমনকি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এতে করে নাজনীনের উপর আমার প্রচণ্ড রাগ হয়। এরপর বাহির থেকে লাইলন রশি এনে নাজনীনের গলায় লাগিয়ে ফাঁস দেই। মৃত্যু নিশ্চিত করতে বিছানার উপর ফেলে বালিশ দিয়ে চাপা দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করি। এরপর নাজনীনের লাশ কাঁধে তুলে আমাদের বাড়ির সেপটি ট্যাংকের মধ্যে ফেলে দেই।

২৬ মে বগুড়া সেনাবাহিনী থেকে তাকে কাজে যোগদান করতে বলা হয়। যোগদানের পরপরই আমার ইউনিট অফিসার আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় আমি সকল ঘটনা খুলে বলে আমার ভুল স্বীকার করি। এরপর আমাকে বগুড়া পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।

নাজনীন আক্তারের ভাই আব্দুল আহাদ প্রমাণিক জানান, গত ২৪ মে সাকিব তার পিতার অসুস্থতার কথা বলে বোনকে নিয়ে বরিশালে আসে। পরবর্তীতে আমার বোন ও সাকিবের মোবাইল বন্ধ থাকায় কোন যোগাযোগ করতে না পারায় ২৬ মে আমার বাবা বগুড়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি ও সেনানিবাসে অভিযোগ করেন। এরপরই গ্রেপ্তার করা হয় সাকিবকে। সাকিবের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বোনের লাশ উদ্ধারে গৌরনদীতে আসি।

প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কে সাকিব নাজনীনকে বিয়ে করে। কিন্তু প্রেম ও বিয়ের সময় নাজনীনকে সে ভুল তথ্য দেয়। সে জানায় তাদের নিজস্ব ভবনসহ আর্থিকভাবে সচ্ছল। এর এক পর্যায়ে গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর সাকিব ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে কলেজছাত্রী নাজনীনকে বিয়ে করে। ২৪ মে নাজনিনকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসার পর হত্যা করে সাকিব।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button