সারাদেশ

কাঁচাঘর-টয়লেট দেখে ঝগড়া করায় স্ত্রীকে হত্যা

স্বামীর বাড়ি গিয়ে কাঁচাঘর ও টয়লেট দেখে ঝগড়া শুরু করেন কলেজছাত্রী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে তার গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন স্বামী। বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ঘটনাটি ঘটেছে। 

এ ঘটনায় ঘাতক স্বামীকে নিয়ে মঙ্গলবার (১ জুন) দিনভর অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময়ে নিহত ওই কলেজছাত্রীর আঙুলের নখ, শরীরের চামড়া ও ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন গৌরনদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন। অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

পুলিশ জানায়, নিহত ওই ছাত্রীর নাম নাজনীন আক্তার (১৮)। তিনি বগুড়া সদর থানার সাপগ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে স্থানীয় সৈয়দ আহম্মেদ কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ফেসবুকের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয় হয় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনচর জাহাপুর গ্রামের আব্দুল করিম হাওলাদারের ছেলে সাকিব হোসেন হাওলাদারের। সাকিব হোসেন বগুড়ার জাহাঙ্গীরাবাদ সেনানিবাসে ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত।

বগুড়া সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাকিব ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে কলেজছাত্রীকে বিয়ে করেন।

নাজনীন আক্তারের ভাই আহাদ প্রমাণিক বলেন, গত ২৪ মে সাকিব হোসেন হাওলাদার তার বাবা অসুস্থ বলে নাজনীনকে নিয়ে বরিশালে যায়। পরবর্তীতে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি কেউ যোগাযোগও করেনি। সন্দেহবশত ২৬ মে আমার বাবা আব্দুল লতিফ বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন এবং সেনানিবাসে অভিযোগ দেন। অভিযোগের সূত্র ধরে বেরিয়ে আসে সাকিব আমার বোনকে হত্যা করেছে।

এদিকে অভিযান চালানোর সময়ে সাকিব হোসেন হাওলাদার স্ত্রী নাজনীনকে হত্যার কথা স্বীকার করে বলেন, ২৪ মে রাত ৯টার দিকে অসুস্থতার কথা বলে গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের হরহর গ্রামে বাবার ভাড়াটিয়া সালাউদ্দিনের বাড়িতে আমরা আসি। এ সময় আমার বাবা-মা কেউ বাসায় ছিলেন না। তার নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। 

আমার স্ত্রী নাজনিন আমাদের কাঁচাঘর ও টয়লেট দেখে আমার সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে। এতে আমি ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের বাইরে থাকা প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করি। পরে পাশের সেপটিক ট্যাংকে মরদেহ গুম করি। আমার শ্বশুর আব্দুল লতিফ প্রমাণিক ২৬ মে আমার ইউনিটে ও থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনিট ইনচার্জ আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমি খুন ও মরদেহ গুমের কথা স্বীকার করি।

গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের সহায়তা বগুড়া সদর থানা পুলিশ সেপটিক ট্যাংকে পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশন করে। ট্যাংকের মধ্যে মরদেহের শরীরের বিভিন্ন অংশ, চামড়া, দুটি নখ এবং পরিধেয় ওড়না পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও মরদেহ উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button