বগুড়া জেলা

ডিসির সভা বর্জনের ঘোষণা দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যানরা

বগুড়ায় উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সব ধরনের সভা বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন


বুধবার (২৬ মে) বেলা ১২ টার দিকে শহরের টেম্পল রোড দলীয় কার্যালয়ে বগুড়া উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন এই সিদ্ধান্ত দেয়।

ঘোষণায় বলা হয়, নন্দীগ্রাম উপজেলায় বিধি বর্হিভূতভাবে উপজেলা পরিষদকে পাশ কাটিয়ে অনৈতিকভাবে রনবাঘা হাটের ইজারা দিয়েছে। আবার এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে সদর ও নন্দীগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক। এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের সব ধরনের সভা বর্জন ঘোষণা করা হয়।

বিষয়টি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন বগুড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান সফিক। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক নন্দীগ্রাম উপজেলার রনবাঘা হাট অনৈতিকভাবে ইজারা দিয়েছেন। হাট ইজারা দেয়ার আগে উপজেলা পরিষদের কোন মতামত নেয়া হয়নি। আবার এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করতে গেলে আমাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এর একটি সমাধান তো হওয়া লাগবে। ততদিন পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সকল সভা বর্জন করা হবে।

বুধবার দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপত্বি করেন গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন। তিনি বলেন, সভায় বলা হয়-গতকাল মঙ্গলবার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান সফিক এবং নন্দ্রীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করতে যান। সেখানে জেলা প্রশাসক তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। এ বিষয়ে সভায় অন্য উপজেলা চেয়ারম্যানদের সর্বসম্মতি ক্রমে জেলা প্রশাসকের সকল সভা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আদমদীঘি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খান রাজু, দুপচাঁচিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক, ধুনটের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন, সোনাতলার চেয়ারম্যান মিনহাদুজ্জামান লিটন, শিবগঞ্জের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু, শাজাহানপুরের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সান্নু, কাহালুর চেয়ারম্যান আল হাসিবুল হাসান কবিরাজ।

এ ছাড়া আরও ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি ও শাজাহানপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক ও গাবতলী উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মুক্তা, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি ও শাজাহানপুর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেফাজত আরা মিরা, সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ডালিয়া নাসরিন রিক্তা সহ আরো অনেকে।

জানতে চাইলে ঘোষণার বিষয়টি জানা ছিল না বলে উল্লেখ করেন বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) জিয়াউল হক। তিনি বলেন, সদর ও নন্দীগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান আমার সাথে দেখা করেছিলেন। সেখানে কোন অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়নি। মূলত তারা যা চেয়েছিলেন, তা আমার পক্ষে করে দেয়া সম্ভব হয়নি। এ কারনে যদি তারা বিষয়টি অসৌজন্যমূলক মনে করেন, তাহলে কিছু করার নেই।

প্রসঙ্গত, উত্তরাঞ্চলে ধান বেচাবিক্রির অন্যতম বড় মোকাম বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা হাট ও বাজার গত বছর ইজারা দেওয়া হয়েছিল ১ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার টাকায়। এ বছর একই হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে ৮৩ লাখ ৪০ হাজার টাকায়, যা গত বছরের চেয়ে ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা কম। অভিযোগ উঠেছে, ১৭ মে ইজারা কমিটির সভায় আপত্তি উপেক্ষা এবং উপজেলা পরিষদকে না জানিয়েই বিধিমালা লঙ্ঘন করে হাটটি ইজারা দেয়া হয়।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button