নব্যদীপ্তি_শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

সংগঠন এখন খেলনা

“অর্গানাইজেশন” এই শব্দটা আমার মতে এখন একটা হাসির খোড়াক। বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম কিংবা সংগঠনের সাথে আমরা যুক্ত হই মুক্ত চিন্তার, যুক্তিবাদী, সঠিক কিছু মানুষের সাথে কাজ করে নিজের পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার যাত্রাটাকে সহজ করতে এবং সমাজের অবাঞ্চনীয় চিন্তাধারা, জটিলতাকে ভেংগে একটা সুন্দর জায়গা তৈরি করতে। আর সেই সংগঠন গুলোর মুখ্যপাত্র কিংবা দায়িত্বশীল পদে যারা থাকেন তাদের কাছে আমাদের আশা যেন একটু বেশিই থাকে। কারণ একটি সংগঠনে অনেকের অনেক ধরনের মনোভাব থাকতেই পারে, বিভিন্ন সমস্যা কিংবা জটিলতার মুখোমুখি আমরা হতেই পারি, এবং সেটি থেকে আমাদের বের করার জন্য সেই সংগঠনের মূল মানুষগুলোই আমাদের ভরসা!তারা সকলেই একেকজন লিডার এবং একজন লিডারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা সর্বদাই বেশি।

বর্তমানে অলিতে গলিতে অনেক সংগঠন গড়ে উঠছে। বিভিন্ন সংগঠনের সাথে আমরা যুক্ত হচ্ছি। তবে আমরা কি জানি সেই সংগঠনটি যারা গড়ে তুলছেন তারা কতটুকু যোগ্য, সংগঠন গড়ে তোলার সময় কিংবা সংগঠনের দায়িত্ব নেয়ার সময় তাদের মোরালিটি কতটা স্ট্রং থাকছে?

আমি নিজে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে দেখছি, বর্তমানে সংগঠনগুলোর মূল ইঞ্জিনেই জং ধরে যাচ্ছে। এমন খুব কম সংগঠনই দেখলাম যেখানে মূল দায়িত্বে থাকা মানুষগুলো, যারা নতুনদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের মোরালিটি এখনো দৃঢ়। যেই সংগঠনের কাজ ছিল আমাদের চিন্তাভাবনা, যুক্তি, মোরালিটিকে মজবুত করে তোলা সেই সংগঠনের মূল কিংবা দায়িত্বশীল মানুষগুলার মোলারিটিই যদি ঠিক না থাকে তাহলে কিসের আপনার সংগঠন?

মনে রাখবেন, একটি সংগঠন খুলে ফেললে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ একটা পোস্ট পেয়ে সেটা ফেসবুকের বায়োতে যুক্ত করে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না! একটা অর্গানাইজেশন যেখানে অনেকগুলো মানুষ কাজ করছে সেটি আপনার ব্যক্তিগত সাধ্যসিদ্ধির জিনিস না। আর দায়িত্ব কার হাতে তুলে দিচ্ছেন সেই ব্যপারে উদাসীন থাকার রাইট আপনার নাই! কারণ তার সাথে আরো অনেক মানুষই যুক্ত।

সংগঠনগুলো একেক্টা ভালোলাগা আর ভালোবাসার স্থান, প্রতিটি সংগঠন এক একটি পরিবার। তাই সংগঠন গুলোকে যোগ্য নেতৃত্বের হাতে তুলে দিন। নিজেকে সঠিক ভাবে না গড়ে তুলেই একটা সংগঠন গড়ে তুলতে আসবেন না! এভাবে সংগঠন কিংবা সংগঠকদের হাসির খোড়াক বানাবেন না প্লিজ!

আরমানী তরফদার
নব্যদীপ্তিশুদ্ধচিন্তায়_তারুণ্য

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button