নব্যদীপ্তি_শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

লোক দেখানো লকডাউনে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

গত ৫ ই এপ্রিল থেকে চলছে দ্বিতীয় লকডাউন। করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ফ্লো তে আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে সাথে মৃতের সংখ্যা ও। এই পরিস্থিতিতে সরকারের লকডাউনের ঘোষণা সাধারণ মানুষের মনে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুইধরণের প্রভাব ই ফেলেছে। কিছু সংখ্যক মানুষ এই লকডাউনে খুশি হলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন কমছেই না। সরকার কি আসলেই একটি কার্যকর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নাকি নিছক লোক দেখানো এই নিয়েই দ্বন্দ্বে ভুগছি। চলুন একটু বিশ্লেষণ করি।

বিজ্ঞাপন

গত একবছর ধরে দেশের সকল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করোনা মহামারীর জন্য। কিন্তু সরকার ১৮ই মার্চ থেকে বইমেলার ঘোষণা দিলো যা চলবে এক মাসব্যাপী। মেনে নিলাম যেহেতু করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল তখন। তারপরও যদি একজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি বইমেলায় যায় কোন সতর্কতা ছাড়া তাহলে তার দ্বারা কতজন মানুষ আক্রান্ত হয়েছে বা হতে পারে ভেবে দেখেছেন? সরকার তখনো ভাবেনি কিন্তু হঠাৎ করেই যখন বাড়তে শুরু করলো আক্রান্তের সংখ্যা তখনই সরকার দিলো লকডাউন।
লকডাউনে যেখানে সকল ধরণের গণপরিবহন বন্ধ, মার্কেট বন্ধ, দিনমজুর মানুষগুলোর আয়ের উৎস বন্ধ সেখানে সরকার বইমেলা খোলা রাখার ঘোষণা দিলো। তাহলে কি এই লকডাউন নিছকই হাস্যরসের বিষয় হয়ে উঠলোনা? সরকারের কাছে আমার প্রশ্ন সাধারণ মানুষ যদি ঘর থেকে বেরই না হতে পারে তাহলে বইমেলায় যাবে কে?

সরকারের আরেকটি ঘোষণা ছিলো গণপরিবহনে পাশাপাশি সিটে দুইজন বসা যাবেনা এবং একজনকেই দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হবে। একই পরিবারের যারা লোকজন যারা দিনের বাকি সময়গুলোতে একসাথেই থাকে তারা গণপরিবহনে এসে কিছু সময়ের জন্য আলাদা বসলেই করোনা থেকে মাফ পাবে? ভাবার বিষয়। এছাড়াও গণপরিবহন হলো সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তির চেয়ে অস্বচ্ছল ব্যক্তিরাই এটি বেশি ব্যবহার করে তাদের সবার পক্ষে দ্বিগুণ ভাড়া দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। এই বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রাখেনি।

এই লকডাউনে কত শ্রমিক কাজ হারিয়েছে কত দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে সেই হিসেব করারও সময় নেই সরকারের। তার উপর বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। সাধারণ মানুষগুলো যদি আয়ই না করতে পারে তাহলে তাদের চাহিদা মিটাবে কিভাবে তাও আবার চড়া দামে? বলতে পারেন সরকার প্রণোদনা দিবে কিন্তু সেই প্রণোদনার অর্ধেকই যে চেয়ারম্যান আর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের খাটের নিচে বা বাড়ির পিছে লুকানো থাকে এই দৃশ্য আমরা আগেই দেখেছি। তাহলে বলুন এই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো কই যাবে? কে দিবে এদের তিনবেলা খাবার? এদের জন্য লকডাউন না, পেটের দায়ে এদের ঘর থেকে বের হতেই হয় কারণ বাঙালী চাল, ডাল বোঝে লকডাউন বোঝেনা।

সরকারের কাছে আবেদন থাকবে লোক দেখানো লকডাউন দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি না করে হাসপাতালের বেড সংখ্যা বাড়ান, ইমারজেন্সি ইউনিট বাড়ান, এ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বাড়ান যাতে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা টা অন্তত পায়। চিকিৎসার অভাবে রাস্তায় পড়ে মরে না থাকতে হয় আর কোন ব্যাংক কর্মকর্তাকে। উন্নত আইনশৃঙ্খলা, দ্রুত চিকিৎসা সেবা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতাই পারে এই মহামারী আবারো নিয়ন্ত্রণে আনতে।

তাসনিয়া তাসনিম শ্রুতি
নব্যদীপ্তি _শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button
ভাষা নির্বাচন