অন্যান্য

‘সাইকো’ বলাতে তামিমার বিরুদ্ধে রাকিবের থানায় অভিযোগ

মানসিক বিকারগ্রস্ত (সাইকো) বলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেনের স্ত্রী তামিমার বিরুদ্ধে এবার সাবেক স্বামী রাকিব থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রোববার (২১ মার্চ) রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগ দায়ের করেন রাকিব।

অভিযোগে বলা হয়, আমি মো. রাকিব হাসান গত ২৪ ফেব্রয়ারি বর্ণিত আসামি তামিমা সুলতানা এর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করি যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। গত ১৯ মার্চ তারিখে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ‘Channel 24’ এ ‘সার্চলাইট’ নামক অনুষ্ঠানে একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রচারিত হয় যেখানে আসামি সাক্ষাৎকার প্রদান করে। উক্ত সাক্ষাৎকারে আসামি আমার সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং ন্যাক্কারজনক এবং মানহানিকর মন্তব্য করে বলেন, ‘ওনার শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক কম’, ‘সে একজন সাইকিক’, ‘সাইকোলোজিকাল প্রেম না হলে এসব জিনিস বিশ্বাস করে’, ‘ও নিজেও হাতের মধ্যে এখানে তাবিজ পরে, গলায় তাবিজ পরে, হ্যাঁ একেক জায়গায় তাবিজ পরে’, ‘আধ্যাত্বিক টাইপের কথাবার্তা বলে’, ‘ওকে মেডিকেলে পাঠানো হোক’, ‘ওর মেন্টালিভাবে সাইকো’, ‘তুবা মণি রাকিবের জন্য একটা এটিএম কার্ড’।

অভিযোগে আরও বলা হয়, উক্ত অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। আসামি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে মানহানিকর ও আক্রমণাত্নক মন্তব্য প্রকাশ করে। এছাড়াও আসামি আমার ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত দিয়ে কথা বলেছেন এবং আমার আর আমার শিশু কন্যা তুবা (০৮) এর পিতা-কন্যার সম্পর্ককে অপমান করেও বক্তব্য দিয়েছেন, যা আমাকে এবং আমার পরিবারকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করেছে এবং আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এমতাবস্থায় আসামির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ২৫, ২৮ এবং ২৯ ধারার অপরাধের অভিযোগ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এজাহার দায়ের করলাম।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে দেশের একটি টেলিভিশনের অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠানে বিয়ের তালাকের কাগজপত্র নিয়ে কথা বলার সময় তামিমা তাম্মি তার সাবেক স্বামী রাকিবকে একজন সাইকো হিসেবে তুলে ধরেন এবং তাকে মেডিকেলে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

তালাকনামা নিয়ে রাকিব (আগের স্বামী) যেসব প্রশ্ন তুলেছেন সেই কাগজগুলো মিথ্যা কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তামিমা বলেন, আমি জানি যে তার (রাকিব) শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক কম। উনার (রাকিব) ছোট মস্তিষ্ক থেকে হয়তো এটা বের করে এনেছে। আমি কি জানতাম ২০২১ সালে নাসিরের সঙ্গে আমার বিয়ে হবে? আর ২০১৬ সালের ওই তালাকনামার পেজ আমি খালি রাখব, ওখানে নাম বসানোর জন্য।

তিনি বলেন, রাকিব একজন সাইকো। কারণ সাইকোলজিক্যাল সমস্যা বলেই সে হাতের মধ্যে, গলায়, একেক জয়গায় বিশ্বাস করে তাবিজ পরে। আর আধ্যাত্মিক টাইপের কথাবার্তা বলে। আমি বলব, ওকে মেডিকেলে পাঠানো হোক। সে মেন্টালিভাবে একজন সাইকো।

প্রসঙ্গত, গত মাসের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমাকে বিয়ে করেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন। বিয়েকে স্মরণীয় করতে ভালোবাসা দিবসটিকেই বেছে নেন তিনি। কিন্তু বিয়ের সপ্তাহ পার না হতেই চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে।

২০ ফেব্রুয়ারি নাসিরের স্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসে। সকাল থেকে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তামিমার আরেক স্বামী ও সন্তানের ছবি। রাকিব নামে ওই স্বামীর সঙ্গে তার বিয়ে হয় ১১ বছর আগে। সেই ঘরে কন্যাসন্তানের বয়স এখন নয় বছর।

নাসিরের সঙ্গে বিয়ের ভিডিও ও খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় জিডি করেন রাকিব। এ কথা নিশ্চিত করেন উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওসি) শাহ মো. আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস।

জিডিতে রাকিব উল্লেখ করেন, তামিমার সঙ্গে এখনো তার ডিভোর্স হয়নি। ডিভোর্স ছাড়া স্ত্রী কীভাবে অন্যের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন সেই প্রশ্ন তার। এ জন্য স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করেছেন তিনি।

পরে জিডির কপি ও তাদের বিয়ের কাবিননামাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জিডিতে রাকিব অভিযোগ করেছেন, তার সঙ্গে সংসার করা অবস্থায় তামিমা গোপনে আরেকজনকে বিয়ে করেন। সেখানে ছয় মাস সংসারও করেন।

জিডি সূত্রে আরও জানা যায়, তামিমা ছয় মাস যে ছেলের সঙ্গে সংসার করেছেন ওই ছেলের নাম অলক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপে এই ছেলের বিষয়েই নাসির ও রাকিবের মধ্যে কথোপকথনও শোনা যায়।

এদিকে রাকিব ও নাসিরের ফোন রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে রাকিবকে ফোন করে জিডি করার ব্যাপারটি ধামাচাপা দিতে বলেন নাসির।

কথোপকথনে রাকিবের প্রশ্ন ছিল, আপনি কি তামিমা সম্পর্ক সবকিছু জানেন? উত্তরে নাসির হোসেন বলেন, তার সবকিছু জেনেশুনেই আমি তাকে বিয়ে করেছি। তার বাচ্চা আছে, তার আগেও বয়ফ্রেন্ড ছিল সবকিছুই আমি জানি। আপনার বউ আপনার সঙ্গে ভালো থাকলে নিশ্চয়ই আপনার ১১ বছরের সংসার ভেঙে আমার কাছে চলে আসত না।

রাকিব হাসান ও তামিমার কাবিননামায় দেখা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। রাকিবের দাবি, গত ১১ বছরে তার স্ত্রীর পড়াশোনা থেকে শুরু করে জব, সবক্ষেত্রেই তিনি সাহায্য করেছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button