বগুড়া

বগুড়ায় বাড়তে শুরু করেছে নিত্য পণ্যের দাম, বেকায়দায় পড়েছে মধ্যবিত্তরা

বগুড়ার খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রশুন, আদার পাশাপাশি মাছ, গোশত, মুরগির দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

বিজ্ঞাপন

দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। একদিকে করোনাকালীন সময়ে এনজিওসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই অন্যদিকে দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে এই শ্রেণির মানুষেরই।

বিজ্ঞাপন

বগুড়ার ফতেহ আলী বাজারে মুরগির দোকানে এসে পাকিস্তানি ১ কেজি মুরগির দাম ৩২০ টাকা শুনে রীতিমতো ঘাবড়ে গেলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম। কারণ গত সপ্তাহেই তিনি এখানে এসে ২৬০ টাকায় কিনেছেন পাকিস্তানি মুরগী। সপ্তাহের ব্যবধানে মূল্যের এই হেরফেরে তিনি অবশেষে ব্রয়লার মুরগি নিয়ে বাড়ি ফিরলেন।

বগুড়ার বাজারে ১২০/১৩০ টাকা কেজির ব্রয়লার মুরগিই নিম্ন আয়ের মানুষের সম্বল। গোশতের বাজারে গরু প্রতিকেজি ৫৫০ এবং খাসি ৮৫০ টাকায় স্থির থাকায় মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কাছে এসব এখন সোনার হরিণ। বগুড়া অঞ্চলে এবার প্রচুর পরিমাণে আলু, পেঁয়াজ, রসুন উৎপাদন হলেও রমজানের মজুতদারির কারণে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ৪০ টাকা কেজির রসুন এখন ৬০ টাকা, ৬০ টাকার আদার দাম বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। একইভাবে সব ধরনের ডাল, চিনা বাদাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা করে। বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে চালের বাজার। বাজার মূল্য বেশি থাকায় সরকারিভাবে ধান/ চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হয়েছে পুরোপুরি। আমদানি করে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণের সরকারি চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়ার চাল ব্যবসায়ীরা। ফলে বগুড়ায় নিম্নমানের চালের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮/৫২ টাকায়। বাড়তে শুরু করেছে আলুর দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম বেড়ে উঠেছে ১৮/২০ টাকায়। অবশ্য টমেটো, বেগুন, মুলা, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম ইত্যাদির মূল্য কম থাকায় কিছুটা রক্ষা ক্রেতাদের।

বগুড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত প্রশাসনিক মনিটরিং এর কোন পদক্ষেপের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। ভ‚ক্তভোগীরা চান, রমজান ও ঈদের আগেভাগেই যেন বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া হোক।

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button