বগুড়া সদর উপজেলা

সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন বগুড়ার কৃষকরা

বগুড়ায় সূর্যমুখী ফুল এখন অর্থকরি ফসল হিসাবে পরিচিতি লাভ করছে। আগে বাংলাদেশে শখের বসে অনেকে বাগানে সূর্যমুখী ফুলের গাছ লাগাতেন। কিন্তু কৃষি বিভাগ এই ফুলের বীজ থেকে যে তেল হয় তা বোঝাতে সক্ষম হয়েছে কৃষকদের । তাই যারা এক সময় সরিষা চাষ করতেন, তাদের অনেকে এখন সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু মধ্যসত্বভোগীরা স্বল্পমূল্যে সূর্যমুখী বীজ ক্রয় করায় কৃষকরা প্রকৃত অর্থ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

লাভের কারণ হিসেবে কৃষকরা জানান, সরিষা ৫০ টাকা কেজি । আর সূর্যমুখীর বীজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সূর্যমুখী চাষে উৎপাদন খরচ কম। বগুড়ার এক ব্যবসায়ী শাহ আলম জানান, তিনি চট্ট্রগ্রাম, সিলেট বগুড়া ,ভৈরব, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সূর্যমুখীর বীজ ক্রয় করেন। সেই বীজ বগুড়ার রানা নামের এক ব্যক্তি কিনে থাকেন। তিনি ৬০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করেন। আর বিক্রি করেন ৭০ টাকা কেজিতে। তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে সূর্যমুখীর বীজ ক্রয় করলেও কোথায় এর মিল আছে তা তিন জানেন না। ফলে সামান্য কেজিতে ৫ টাকা লাভে সূর্যমুখী বীজ বিক্রি করে থাকেন।

ছবি: বগুড়া লাইভ

সূর্যমুখী চাষ লাভজনক হওয়ায় বগুড়ায় সরকারি প্রণোদনায় অনেক কৃষক সূর্যমুখী চাষে এগিয়ে আসছেন। জেলার অতিরিক্ত উপপরিচালক শাহাদুজ্জামান জানান , জেলায় এবছর ২৬০০ বিঘায়  সূর্যমুখীর চাষ হযেছে।  প্রণোদনা হিসেবে একজন কৃষককে বিঘাপ্রতি ৫ কেজি বীজ, ২০ কেজি ডিএপি এবং ২০ কেজি এমওপি প্রদান করা হয়েছে।

বগুড়ার শাখারিয়ার কৃষক পান্না মিয়া জানান , তিনি সূর্যমুখী চাষ করে বিপাকে পড়েছেন।  সূর্যমুখী  ক্ষেত  দেখতে প্রতিদিন বিকালে শত শত দর্শনার্থী ভীড় জমাচ্ছেন। সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে সূর্যমুখী ক্ষেতের মধ্যে প্রবেশ করে গাছ পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করছেন । প্রতিদিন তাকে অন্য কাজ ফেলে সূর্যমুখী ক্ষেত পাহারা দিতে হয়। দর্শনার্থীদের এতো ভীড় সামলাতে তিনি হিমসিম খাচ্ছেন। এর আগে তিনি ওই জমিতে সরিষা চাষ করেন। কৃষি বিভাগ সূর্যমুখী চাষে প্রণোদনা দেওয়ায় তিনি এবার প্রথমবারের মত সূর্যমুখী চাষ করেছেন। ফলন ভাল হবে। কিন্ত কার কাছে তিনি সূর্যমুখী বীজ বিক্রি করবেন তা কৃষি কর্মকর্তারা জানাননি। তবে কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন সূর্যমুখী চাষিদের কাছে ক্রেতাদের পাঠানো হবে।

পান্না মিয়া জানান, সূর্যমুখী বীজ বিক্রি করে ভাল দাম পাবেন এমনটাই শুনেছেন তিনি। তাই কষ্ট করে হলেও ফসল বাঁচাতে দিনরাত পাহারা দিচ্ছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এটি একটি ফসল। জেলার বড় বড় কর্তা ব্যক্তিরা সেলফি তুলতে গিয়ে ফসল নষ্ট করছেন। তারা যদি দূর থেকে দেখে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতেন তবে তার ফসল নষ্ট হতো না।

সূর্যমুখী বীজের ক্রেতা শাহ আলম জানান, রানা নামে এক অপরিচিত ব্যক্তি তার কাছ থেকে বীজ  কিনে কোন মিলে সরবরাহ করেন তা বলেন না। সূর্যমুখী তেল তৈরির মিলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারলে কৃষক ও পাইকারি ক্রেতা-বিক্রেতা ভাল দাম পেতেন। এ অঞ্চলের মানুষ সূর্যমুখী চাষে উৎসাহ পেতেন। পুষ্টিসম্মত এ তেল উৎপাদন দেশে বৃদ্ধি পেলে দেশে সয়াবিন তেলের উপর আমদানি নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমতো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সূর্যমুখী বীজ থেকে তেল তৈরির জন্য নোয়াখালতে ছোট ছোট বেশ কয়েকটি মিল আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালী জেলার চৌমুহনিতে নবযুগ, স্টার ,মমতা, তরী, যমুনা রাজপুরিসহ বেশ কয়েকটি মিলে সূর্যমুখী তেল উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। ভোলা জেলাতেও সূর্যমুখী তেলের মিল গড়ে উঠেছে বলে জানান বগুড়া কৃষি কর্মকর্তারা।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button