বগুড়া

দখলবাজীর অপচেষ্টা সহ সন্ত্রাসী কায়দায় যেকোন পদক্ষেপ প্রতিহত করবে মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটি

বগুড়া জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটির বিশেষ সভায় বক্তারা বলেছেন, দখলবাজীর অপচেষ্টা সহ সন্ত্রাসী কায়দায় যেকোন পদক্ষেপ প্রতিহত করবে মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটি।

বগুড়া জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটির বিশেষ সভা গতকাল শনিবার বিকেলে সংগঠনের প্রধান কার্যালয় চারমাথা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি সামছুদ্দিন শেখ হেলালের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সিনিঃ সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান আকন্দ, সাধারন সম্পাদক ও নবনির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর আব্দুল মতিন সরকার, জেলা মোটর মালিক গ্র“পের সভাপতি শাহ আখতারুজ্জামান ডিউক, পিকআপ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বুলবুল, পশ্চিম বগুড়া সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম।

এতে বক্তারা বলেন, বগুড়া জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটি পরিবহন সেবা ও ব্যবসা সু-শৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করার জন্য এবং সকল পরিবহন মালিক শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ বজায় রাখার লক্ষ্যে এ জেলায় ৮টি পরিবহন সংগঠন নিয়ে গঠিত। পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী দাওয়া এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলের ঐক্য নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আন্দোলন করাও এই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য। বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্র“পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ১৭-১১-২০১৮ তারিখে বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্র“পের অবাধ নিরপেক্ষ অনুষ্ঠিত  নির্বাচনে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পরিবহন নের্তৃবৃন্দসহ আরো অনেকেই পর্যবেক্ষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের পর কার্য-নির্বাহী কমিটি সফল ভাবে দাযিত্ব পালন করে আসছে। বর্তমান নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ গত ইং ২৪-১১-২০২০ তারিখ পর্যন্ত বলবৎ ছিল কিন্তু দেশে করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হইতে গত ইং ২৩-১২-২০২০ তারিখের ২৬.০০.০০০০.১৫৭.৯৯.০০১.১৮-৩৭৪ নং স্মারকের একটি পত্রে উলে­খ করা হয় যে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স প্রাপ্ত যে সকল বাণিজ্য সংগঠনের কার্য-নির্বাহী পরিষদের মেয়াদ ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং কোভিড-১৯ জনিত সরকারের স্থগিতাদেশের কারণে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি সে সকল সংগঠনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আগামী ৩১ মে ২০২১ তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো উলে­খ আছে। সে মোতাবেক বর্তমান বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্র“পের কার্য-নির্বাহী কমিটিও ৩১ মে ২০২১ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

বক্তারা বলেন, যখন নির্বাচিত কার্য-নির্বাহী কমিটি সুষ্ঠু এবং সফল ভাবে বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্র“পের সকল কার্যক্রম গঠনতন্ত্র মোতাবেক চালিয়ে আসছিল ঠিক তখন মাত্র দু/তিনজন মালিক নামধারী সদস্য তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাণিজ্য সংগঠন কে ভূল তথ্য দিয়ে ভূল পথে প্রবাহিত করে সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্র বিরোধি ভাবে প্রশাসক নিয়োগের কার্যক্রমে লিপ্ত হয়। এর ফলশ্র“তিতে হঠাৎ করে কোন কারণ ছাড়াই এবং গ্র“পের নির্বাচিত কমিটির সাথে কোন আলোচনা না করেই একতরফা ভাবে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্র“পের নির্বাচন করার জন্য গত ইং ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হইতে বগুড়ার এডিএমকে গ্র“পের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ১২০ দিন সময় নির্ধারন করিয়া দিয়া পত্র প্রদান করিলে উক্ত পত্র চ্যালেঞ্জ করে আদেশের ২ দিন পর ২৩-০৯-২০২০ তারিখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দা ট্রেড ওরগানাইজেশন ওডিন্যান্স ১৯৬১ ধারা ১৫ (১) অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর ২১-০৯-২০২০ তারিখের আদেশের বিরুদ্ধে প্রশাসক নিয়োগের সময়সীমা বর্ধনের আদেশ রহিত, স্থগিত ও বাতিল করণের জন্য আপিল করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও আপীল নিষ্পত্তি বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না নেয়ায় চলমান কার্য-নির্বাহী কমিটির কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করার জন্য বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্র“পের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক বাদী হয়ে ১৫-১১-২০২০ তারিখে ৬৩০১/২০২০ নং একটি রীট পিটিশন আনয়ন করিলে মহামান্য হাইকোর্ট তিন সপ্তাহ স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। অতঃপর ১ মাস স্থিতাবস্থা বর্ধিত করেন। তারপর স্থিতাবস্থা ২ সপ্তাহ বর্ধিত আদেশ দেন। তারপর মহামান্য হাইকোর্টে (ভার্চুয়াল কোর্ট) বর্ধিত শুনানী করা সম্ভব না হওয়ার সুযোগে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেব গত ০৬-১২-২০২০ তারিখে অবৈধ ভাবে বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্র“পের ২ জন বহিঃস্কৃত সদস্যর উপস্থিতিতে নিজে নিজে দায়িত্ব গ্রহন করেন। উলে­খ্য যে, তখনো মামলা পেনডিং ছিল। এবং পেনডিং অবস্থায় কোন আদেশ না হওয়ায় এডিএম কর্তৃক প্রশাসকের দায়িত্ব নেয়া আইন সম্মত হয়নি। পরবর্তীতে শুনানী অনুষ্ঠিত হলে মহামান্য হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি মামলাটির বিষয়ে চুড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৫ (১) ধারা অনুয়ায়ী আপীল করার আদেশ দেন। সে আদেশের ভিত্তিতে ২৩-০৯-২০২০ তারিখের দাখিলকৃত আপীলের আবেদন পত্র বিষয়ে আজ পর্যন্ত কোন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোন আদেশ প্রদান করা হয়নি। অন্যদিকে সম্পূর্ণ বে-আইনী ও একতরফা ভাবে আপীলের আবেদনকে পাশ কাটিয়ে উদ্দেশ্যে প্রনোদিত ভাবে প্রশাসক নিয়োগের আদেশ নিয়ে প্রশাসক হিসেবে এডিএম সম্পূর্ণ বে-আইনী ভাবে সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে অবৈধ পথে সন্ত্রাসী দ্বারা দখল করার হীন চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাসী কায়দায় বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালয়, বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্র“পের অফিস দখল করার জন্য গত ০৯-০২-২০২১ তারিখে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বহিরাগত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদ্বারা অবৈধ ভাবে দখল এবং নির্বাচিত কমিটিকে উৎখাতের জন্য অগ্নিসংযোগ, গাড়ী ভাংচুর মালিক শ্রমিকদের উপর সশন্ত্র হামলা চালানো হয়। সেই দিনের নারকীয় ঘটনায় সাধারন সম্পাদক আমিনুল ইসলাম নির্বাচিত কমিটির পক্ষ থেকে মঞ্জুরুল আলম মোহনসহ ৩০ জন কে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ প্রশাসন থেকেও ঐ চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা নিজেদের সহিংসতা কর্মকান্ড আড়াল করার জন্য আমিনুল ইসলামসহ ৩৩ জন মালিক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এই নারকীয় সহিংসতার কারণে বগুড়াসহ রাজশাহী বিভাগীয় সকল পরিবহন সংগঠনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এবং তাৎক্ষনিক ভাবে প্রতিবাদ হিসেবে বন্ধ হয়ে যায়। বক্তারা বলেন, গত ২৭-০১-২০২১ তারিখে মাননীয় হাইকোর্টের বিচারপতির আদেশ অনুযায়ী এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৫ (১) ধারা অনুযায়ী সচিবের কাছে দাখিলকৃত আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কার্য-নির্বাহী কমিটিকে উচ্ছেদের চেষ্টা সম্পূর্ণ ভাবে বে-আইনী। সেই সাথে প্রশাসক নিয়োগও বাণিজ্য মন্তণালয়ের ১৫ (১) ধারা সাথে সাংঘর্ষিক এবং নিয়ম বহির্ভূত। আমরা সর্ব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইন প্রক্রিয়ায় যে আদেশ হবে তা মানতে রাজী। অবৈধ পথে দখলবাজী করার অপচেষ্টা কোন ভাবে বগুড়া জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক যৌথ কমিটি মেনে নেবে না। যদি আবারো সন্ত্রাসী কায়দায় কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়, তাহলে যৌথ কমিটি যে কোন মূল্যে তা প্রতিহত করবে এবং সে দিন থেকেই প্রতিবাদ হিসেবে বগুড়া জেলা সহ রাজশাহী বিভাগে পূর্ণ পরিবহন কর্ম-বিরতী পালন করা হবে।

বক্তারা আমিনুলসহ সকল মালিক শ্রমিকদের উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার আহবান জানিয়ে বলেন, ২৩-১২-২০২০ তারিখের বাণিজ্য মন্ত্রাণালয়ের পত্র মোতাবেক কার্য-নির্বাহী কমিটির মেয়াদ ৩১ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে। এ কারণে উলে­খিত তারিখের মধ্যে কোন হস্তক্ষেপ করা মেনে নেয়া হবে না। যেহেতু এডিএম কর্তৃক বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্র“পের বাইরে ঘোষিত তথকথিত নির্বাচনী তফশিলে গ্র“পের সকল সদস্য অনাস্থা এনে কোন প্রকার সাড়া না দেওয়াই ঘোষিত তফশিল সম্পূর্ণ ভাবে অকার্যকর হয়েছে। বিধায় এতে প্রমানিত হয় যে, অবৈধ প্রশাসকের কোন কার্যক্রম গ্র“পের সদস্যগণ গ্রহন করেনি। জেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বক্তারা বলেন, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করে মহামান্য হ্ইাকোর্টের আদেশ এবং ট্রেড ওরগানাইজেশন ওডিন্যান্স ১৯৬১ সালের ১৫ (১) ধারা অনুযায়ী দাখিলকৃত আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন ব্যবসা সুষ্ঠু রাখার লক্ষ্যে অবৈধ পথে কোন প্রকার প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন থেকে বিরত থাকার জোর দাবী জানাচিছ। অন্যথায় আমরা আমাদের সিদ্ধান্তের প্রতি অটল থাকবো।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button