আইন ও অপরাধ

তথ্য গোপন রেখে বিয়ে করার দায়ে মৌসুমীর বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা

সিলেটে আমেরিকান প্রবাসী এক নারীর বিরুদ্ধে তথ্য গোপন রাখার মাধ্যমে বিয়ে করে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে থানায় মামলা হয়েছে। অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আমেরিকা প্রবাসী শারমিন সুরভী মৌসুমী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পরিবারসহ আমেরিকায় বসবাসরত মৌসুমী ২০১২ সালে প্রথম বিয়ে করেন এক চিকিৎসককে। তাদের ঘরে পাঁচ বছরের এক ছেলেও রয়েছে। এই তথ্য গোপন রেখে গত বছর সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর দক্ষিণভাগ গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে জাকের আহমদকে বিয়ে করেন মৌসুমী। বিয়ের পর কিছুদিন একত্রে থেকে ওই বছরের জানুয়ারি মাসে আমেরিকায় ফিরে যান অভিযুক্ত মৌসুমী।

গত বছরের ২১ নভেম্বর মৌসুমী তার দ্বিতীয় স্বামী জাকের আহমদকে ফোন করে বলেন, তোমাকে আমেরিকা আনতে হলে ২৫ লাখ টাকা লাগবে। কিন্তু স্ত্রীর কথায় টাকা দিতে রাজি হননি জাকের। পরে মৌসুমী ২৫ নভেম্বর ফোন করে বলেন, দেশে এলে তাকে নিয়ে উপশহরে বাসা ভাড়া করে থাকতে হবে। তিনি শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকবেন না। এই কথাতেও রাজি হননি জাকের।

মৌসুমীর এসব কথায় জাকেরের সন্দেহ দেখা দেয়। তিনি গত ২৮ ডিসেম্বর মৌসুমীর গ্রামের বাড়ি জৈন্তাপুরে গিয়ে স্ত্রীর পরিবারের ব্যাপারে খোঁজখবর নেন। তখন জানতে পারেন মৌসুমীর মা-বাবা ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার পৃত্থিমপাশা সুজাপুর গ্রামের মো. শফিক মিয়ার ছেলে ডা. মো. ফরিদ আহমদের সঙ্গে মৌসুমের বিয়ে দেন। বিয়ের পর ২০১৫ সালের ৩ মার্চ তাদের ঘরে একটি ছেলের জন্ম হয়।

খবর পেয়ে প্রথম স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন জাকের। তখন প্রথম স্বামী জানান, তার সঙ্গে বিয়ের পর ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই মৌসুমী বাদী হয়ে মোহরানার জন্য সিলেটের জৈন্তাপুর পারিবারিক আদালতে মামলা দাখিল করেন। যা গত বছরের ১৫ মার্চ সোলেনামা দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।

জাকের তার দায়ের করা মামলায় আরও উল্লেখ করেন, তার সঙ্গে মৌসুমীর বিয়ের জন্য উভয়পক্ষের আলোচনায় ১৫ লাখ টাকার স্বর্ণ ও দেনমোহর বাবদ ৬ লাখ টাকা মু’আজ্জল রেখে কাবিন সাব্যস্তে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কাবিননামা তুলে দেখা যায়, সেখানে ২১ লাখ টাকার কাবিননামা ও মাত্র ১ লাখ টাকা স্বর্ণালংকার বাবদ পরিশোধ দেখানো হয়েছে।

মামলার বাদী জাকের আহমদ জানান, তার বিশ্বাস ভঙ্গ করে টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ এবং প্রথম বিয়ে গোপন করেন মৌসুমী। তিনি বিয়য়টি জানতে পেরে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য হাকিম আদালতে মামলা করেন। মামলায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলাধীন নিজপাট চুনাহাটি গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে রফিকুর আর এমএ মুনিম, তার স্ত্রী ইমামা বেগম চৌধুরী এবং তাদের মেয়ে শারমীন সুরভী মৌসুমীকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এফআইআর গণ্যের আদেশ প্রদান করেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুর রহমান আফজাল জানান, প্রথম স্বামীর সঙ্গে মোহরানা নিষ্পত্তি মামলা চলাকালীন সময়ে প্রথম বিয়ে গোপন রেখে জাকেরকে বিয়ে করেন মৌসুমী। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দাখিল করলে আদালত তা গ্রহণ করে এফআইআর হিসেবে প্রেরণের জন্য এসএমপির এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেন। ফলে এয়ারপোর্ট থানা মামলাটি গ্রহণ করেন।

এয়ারপোর্ট থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, আদালতের নির্দেশমতো মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button