ফিচার

বগুড়ায় সরকারি সহায়তায় সূর্যমূখী ফুলের চাষ

যে জমিতে একসময় ছিল সবুজ ধানের ক্ষেত সেখানে এখন হাসছে সূর্যমুখী ফুল। সফলতাও মিলছে দারুণ। মুজিববর্ষ উপলক্ষে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো বগুড়া সদরের শাখারিয়া ইউনিয়নের গোপালবাড়ীতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে।

সূর্যমুখী ফুলের চাষে কৃষকদের প্রযুক্তিসহ সব ধরণের সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি অফিস।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে তেল ও খৈল উৎপাদন করা হয়। পাশাপাশি পুষ্টিকর সবজি হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া এই ফুলের মাধ্যমে মৌচাক বসিয়ে বাণিজ্যিক ভাবে ব্যাপক মধু উৎপাদন করা সম্ভব। সেই সাথে জ্বালানির চাহিদা পূরণেও ভূমিকা আছে। সূর্যমুখী বীজ রোপণের ৯০-১০৫ দিনের মধ্যেই কৃষকরা ফুল থেকে বীজ ঘরে তুলতে পারেন। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ বীজ পাওয়া যাবে। বিঘা প্রতি থেকে কৃষক ১০-১১ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করতে পারেন।

সূর্যমুখীর তেল অন্যান্য সাধারণ তেলের চাইতে একটু আলাদা। কোলেস্টেরলমুক্ত প্রচুর পরিমাণে প্রাণশক্তি থাকায় সূর্যমুখী তেল আমাদের শরীরের দুর্বলতা, কার্যক্ষমতা বাড়ায়। রান্নার জন্য সয়াবিন তেলের চাইতে এর তেল দশগুণ বেশি পুষ্টি সমৃদ্ধ।

বগুড়া সদরের গোপালবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক পান্না মিয়া জানান, ৩৬ শতক জমিতে বগুড়া সদর উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় প্রথম সূর্যমূখী ফুলের চাষ শুরু করি। ব্যাপক ফলন হয়েছে। প্রথমবার এত সহজে এই ফুলের চাষ করতে পারব ধারণা ছিলনা। কিন্তু প্রতিদিন দর্শনার্থীর আগমনে অনেক ফুল নষ্ট হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ফুল সংরক্ষণ করা কষ্টের হয়ে দাড়িয়েছে। বীজ তৈরী হতে সব মিলে ৬ মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূর্যমুখী ফুলের খামার দেখতে আসা সাদী জানান, দৃষ্টিনন্দন এই ফুল প্রকৃতিকে করেছে মনোমুগ্ধকর। অনেকেই ক্যামেরাবন্দি হচ্ছেন সুর্যমূখীর সঙ্গে। বগুড়া শহরের পাশে সূর্যমূখী ফুলের বাগান এই প্রথম হওয়াতে আমরাও এসেছি সূর্যমূখীর সাথে ক্যামেরাবন্দী হতে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী ফুল চাষে খরচ কম। এতে সার ওষুধ কম লাগে। তেমন পরিচর্যাও করতে হয় না। তাছাড়া অন্যান্য তৈল বীজ যেমন সরিষার, তিলের চেয়ে তেলও বেশি পাওয়া যায়। পুষ্টি চাহিদা পুরুণে সুর্যমূখী তেলের জন্য বিদেশ থেকে এর বীজ আমদানি করতে হয়।

বগুড়া সদরে ২০ জনকে এক বিঘা জমিতে চাষের জন্য এই প্রণোদনা সূর্যমূখী ফুলের বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে ৫ জনের জমিতে এখন দৃশ্যমান হয়েছে।

এই ফুলের প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি শতক জমিতে ৮ কেজি বীজ উৎপাদন হয়। এতে তেল উপাদন হবে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের বাজার সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। প্রতি শতক জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। স্বাস্থ্য রক্ষা ও রোগ জীবাণু প্রতিরোধে এই ফুলের উৎপাদিত তেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

তিনি জানান, শরীরের হাড় সুস্থ ও মজবুত করে। সূর্যমুখী তেলে থাকা ম্যাগনেসিয়াম আমাদের মানসিক চাপ দূর করে। এক কথায় সূর্যমুখী তেলে মানবদেহের মহাওষুধ হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও জানান কৃষকরা ফসল উৎপাদন শেষে ভালো দামে বীজ বিক্রি করতে পারবে অথবা তেল তৈরী করেও বিক্রি করতে পারবে।

হাইব্রীড এই বীজ পরের বছরের জন্য সংরক্ষণ করা যাবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button