নব্যদীপ্ত_শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

তরুণ প্রজন্মে ভাষা আন্দোলন

‘মোদের গরব মোদের আশা,
আ মরি বাংলা ভাষা’
লাইন দুটো মনে হলেই যেন বুঝে উঠতে পারি বাংলা ভাষা বাঙ্গালির কাছে কতটা প্রিয়। হ্যাঁ, প্রিয় হবারই কথা। বিশ্বের কোনো জাতিই তো বাঙ্গালির মতো ভাষার জন্য জীবন বলিদান করেনি। বাংলা তো আর সাধারণ কোনো ভাষা না। এ তো রক্তে কেনা ভাষা। তাই এর প্রতি শুধু বাঙ্গালী না বিশ্বের প্রতিটি জাতিরই আলাদা একটা দৃষ্টি বিদ্যমান।

ভাষার কথা শুনলেই মনে পড়ে সেই বায়ান্ন সাল, সেই একুশ তারিখ,সেই ফাল্গুন মাস। প্রতিটি বছরের ন্যায় সেবারও তো পলাশ, শিমুল ফুটেছিলো। কিন্তু সেই ফুলের সুবাসে পরিবেশ মুখরিত না হয়ে, সেদিন বাংলার আকাশ-বাতাস দুমড়ে জেগেছিলো তাজা রক্তের গন্ধ।সেই রক্তে পাড়া দিয়ে বেয়নেট, পিস্তল, রাইফেল, কাদানে গ্যাস ছুড়েছিলো স্বৈরাচারী পাকিস্তান সরকার। তবে বাংলার মানুষের এই আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। পরিপূর্ণতা লাভ করে তখন, যখন সেই অত্যাচারী শোষক গোষ্ঠী এই বাংলাকেই অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

এতক্ষন তো দেখলাম ভাষা আন্দোলন এর সোনালী ইতিহাস। এখন আসা যাক তরুন প্রজন্ম কিভাবে গ্রহন করছে এই ভাষা দিবসকে। ভাষা দিবস আসলেই আজকাল দেখা যায় সমগ্র দেশ সেজে ওঠে রঙ বেরঙের ফুলে। শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দিতে যায় লাখ লাখ মানুষ৷ এতেই বোঝা যায়, এই ভাষা আন্দোলনের প্রতি মানুষের আগ্রহ কতটা বেশি।

তবে দুঃখের বিষয় এখনো আছে একটা। তা হলো প্রজন্মের উদাসীনতা। দেশের প্রতিটি জাতীয় দিবসেই প্রজন্মের একটা অযাচিত উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়৷ ভাষা দিবসেও এর ব্যতিক্রম নেই। অনেকেই মনে করে যে একুশে ফেব্রুয়ারি শুধুই শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কেবল জাকজমকের সাথে বইমেলা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালনের মাঝে সীমাবদ্ধ। এই চিন্তা তাদেরকে ইতিহাস সম্পর্কে উদাসীন করে রেখেছে।

এখন সময় এসেছে বদলানোর৷ কেবল বইমেলা, শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া, র‍্যালী আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এ আটকে না থেকে উজ্জীবিত হতে হবে ভাষা শহীদের আদর্শে। দেশের ভালোর জন্য জীবন দানেও নির্দ্বিধ হতে হবে। আপন স্বার্থ বলিদান দিয়ে বাংলা ভাষার প্রতি মর্যাদাশীল হতে হবে। অন্য ভাষার প্রতি মর্যাদাশীল থেকে বাংলার ব্যবহারকে সমুন্নত রাখতে হবে। তবেই সার্থক হবে ভাষা আন্দোলন। ভাষা শহীদের বলিদান। স্মরনে থাকুক তাদের প্রতিটি মহান কীর্তি।

আবিদ হামজা
নব্যদীপ্তি শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button