খেলাধুলা

বার্সেলোনাকে উড়িয়ে দিয়েছে পিএসজি, এমবাপের হ্যাটট্রিক

নেইমার নেই, আনহেল দি মারিয়াও নেই। আক্রমণভাগের সেরা তারকাদের ছাড়াই ক্যাম্প ন্যুতে খেলতে এসেছিল পিএসজি। কিন্তু সেরা তারকাদের অনুপস্থিতি একাই মিটিয়ে দিলেন আরেক তারকা কিলিয়ান এমবাপে। তুলে নিলেন অসাধারণ এক হ্যাটট্রিক। আর তার হ্যাটট্রিকেই বার্সেলোনার মাঠেই তাদের নাস্তানুবাদ করে ছাড়ল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।

নিজেদের মাঠে পিএসজির কাছে ১-৪ গোলের ব্যবধানে উড়ে গেছে বার্সেলোনা। এমবাপের হ্যাটট্রিকের সঙ্গে অপর গোলটি করেছেন ময়েস কিন। বার্সেলোনার পক্ষে একমাত্র গোলটি পেনাল্টি থেকে দেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধে পিএসজি বলের দখল ও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও লড়াইটা সমান তালেই হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় এক পেশে লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে গুঁড়িয়ে দেন পিএসজি। প্রথমার্ধে ১-১ গোলের সমতায় থাকা দলটি পরের অর্ধে গোল আদায় করে নেন ৩টি।

তবে গোল করার মতো প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল বার্সাই। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে পেদ্রির বাড়ানো বলে বাঁ প্রান্তে বল পেয়েছিলেন আতোঁয়ান গ্রিজমান। কিন্তু তার শট ঝাঁপিয়ে পড়ে লুফে নেন পিএসজি গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। যদিও প্রথম দফায় ধরতে পারেননি। তবে কোনো বিপদ হয়নি।

১৯তম মিনিটে ভালো সুযোগ ছিল পিএসজিরও। কিলিয়ান এমবাপের বাড়ানো বলে বাঁ প্রান্তে বার্সা গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেনকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন মাউরো ইকার্দি। কিন্তু এ আর্জেন্টাইন তারকার দুর্বল শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও পেছন থেকে এসে পেদ্রি তা কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন।

নয় মিনিট পর মেসির সফল স্পটকিক থেকে এগিয়ে বার্সা। ডি-বক্সের মধ্যে পেদ্রির বাড়ানো বল ধরতে গেলে ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ংয়ের পায়ে দুর্ভাগ্যবশত ইদ্রিসা গুইয়ের সংযোগ হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

পরের মিনিটে নিজেদের সেরা সুযোগটি মিস করেন দেম্বেলে। পিএসজির তিন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ডি-বক্সে একেবারে ফাঁকায় তাকে বল দিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু জোরালো শট নিতে পারেননি এ ফরাসি তরুণ। তার দুর্বল শট সহজেই লুফে নেন নাভাস।

৩২তম মিনিটে এমবাপের অসাধারণ এক ফিনিশিংয়ে সমতায় ফেরে পিএসজি। ভেরাত্তির নিখুঁত এক পাসে ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্লেমো লংলে কাটিয়ে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন এ ফরাসি তরুণ।

তিন মিনিট পর অবিশ্বাস্য এক সেভে বার্সাকে উদ্ধার করেন বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগেন। এমবাপের পাস থেকে লেইভিন কুরজাওয়ার শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন এ জার্মান গোলরক্ষক।

এর দুই মিনিট পর পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ ছিল বার্সার। মেসির বাড়ানো বল ধরে এগিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে দারুণ এক কোণাকোণি শট নিয়েছিলেন গ্রিজমান। কিন্তু একেবারে বারপোস্ট ঘেঁষে সে শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

পরের মিনিটে ময়েস কিনের দূরপাল্লার শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান টের স্টেগেন। প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বল ভালো হেড নিয়েছিলেন ইকার্দি। কিন্তু অল্পের জন্য লক্ষ্যে থাকেনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারতো পিএসজি। কিনের পাস থেকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপে। কিন্তু অল্পের জন্য লক্ষ্যে থাকেনি তার শট। চার মিনিট পর ইকার্দির দারুণ ব্যাকহিলে কিনের শট আলবার পায়ে লেগে গোলের দিকেই যাচ্ছিল। কিন্তু অসাধারণ সেভ করেন বার্সা গোলরক্ষক।

তবে ৬৫তম মিনিটে পিএসজির এগিয়ে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি স্টেগেন। অফসাইডে ফাঁদ ভেঙে আলেসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জির নেওয়া কাটব্যাক ঠিকভাবে ফেরাতে পারেননি পিকে। তার পায়ে লেগে বল চলে যায় ফাঁকায় থাকা এমবাপের পায়ে। জোরালো শটে দলকে নিতে কোনো ভুল করেননি এ ফরাসি তরুণ।

তিন মিনিট পর বার্সাকে আরও এক দফা রক্ষা করেন টের স্টেগেন। ইকার্দির বাড়ানো বলে এমবাপের শট দারুণ দক্ষতায় ফেরান এ গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর অবশ্য ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় সফরকারীরা। লিয়েন্দ্রো পারাদেসের নেওয়া ফ্রি কিক থেকে লাফিয়ে উঠে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়ান কিন।

৭৬তম মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে বল পেয়ে দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ভালো শট নিয়েছিলেন দেম্বেলে। তবে অল্পের জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। ৮১তম মিনিটে নিজেদের বিপদ প্রায় ডেকে এনেছিলেন পিএসজি গোলরক্ষক নাভাস। গোলমুখে সতীর্থকে পাস দিতে গেলে গ্রিজমানের পায়ে বল লাগলে অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

চার মিনিট পর নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন এমবাপে। পাল্টা আক্রমণ থেকে বদলি খেলোয়াড় হুলিয়ান ড্রাক্সলারের বাড়ানো বলে বাঁ প্রান্ত থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে নিখুঁত এক শটে লক্ষ্যভেদ করেন এ ফরাসি তরুণ। এরপর দুই দলই কিছু সুযোগ পেয়েছিল। তবে আর গোল হয়নি। ফলে ঘরের মাঠে বড় ব্যবধানেই হেরে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button