ধর্ম

যাদের আল্লাহ ও তার রাসূল (সা.) অভিসম্পাত করেছেন

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা তার হাবীব (সা.)-কে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ করেছেন : আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়া : ১০৭)। সেই নবী (সা.) কেই আবার তিনি বলছেন : আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদ ও ও সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। (সূরা সাবা : ২৮)। রহমতের নবী যেমন দুনিয়াতে সুসংবাদ নিয়ে এসেছেন, তেমনিভাবে তিনি মানুষকে সতর্কবাণী শোনানোর জন্যও প্রেরিত হয়েছেন।

হাদীস শরিফের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে নবী করিম (সা.) মানবজাতিকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু কিছু কিছু বিষয়ে শুধু সতর্ক করেই শেষ করেননি, বরং তাদেরকে অভিশম্পাত করেছেন। ২৩ শ্রেণীর মানুষকে আল্লাহর রাসূল নিজে ও আল্লাহর পক্ষ থেকে লা’নত করেছেন। সংক্ষিপ্তভাবে সেই অভিশপ্ত মানুষের পরিচয় দেয়া হলো।
(১) নেশাজাতীয় বস্তু বা মদ সেবনকারী, প্রস্তুতকারক ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ইবনু উমর (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেন : মদ পানকারীকে, মদ পরিবেশনকারীকে, তার ক্রেতা ও বিক্রেতাকে, তার প্রস্ততকারককে, যার জন্য প্রস্তুত করা হয় তাকে, তার বাহককে ও যার জন্য বহন করা হয় তাকে আল্লাহ অভিশাপ করেছেন।’ (সুনানে আবূ দাউদ : ৩৬৭৪, সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৩৮০)

(২) সূদখোর, সুদদাতা, সুদের সাথে সংশ্লিষ্ট লিখক ও সাক্ষী প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। (৩) মুর্তি, ভাস্কর্য বা ছবি ইত্যাদি নির্মাণকারী। আবু জুহায়ফা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদখোর, সুদদাতা ও ছবি নির্মাণকারীদের অভিশাপ দিয়েছেন।’ অন্য রেওয়ায়েতে বর্ণিত : রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের সাক্ষী ও সুদের লেখক সকলকে অভিশাপ দিয়েছেন।’ (সহীহ বুখারী : ৫৯৬২; সুনানে আবু দাউদ : ৩৩৩৩)। সহীহ মুসলিমের আরেক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা.) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার সাক্ষীদ্ধয়কে অভিশাপ করেছেন এবং বলেছেন, ওরা সকলেই সমান। (সহীহ মুসলিম : ১৫৯৭)।

(৪) চোর তথা যে ব্যক্তি অন্যের মাল চুরি করে। আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন: ‘চোরের ওপর আল্লাহ্র লা’নত হোক, যখন সে একটি হেলমেট চুরি করে এবং এ জন্য তার হাত কাটা হয় এবং সে একটি রশি চুরি করে এ জন্য তার হাত কাটা হয়। (সহীহ মুসলিম : ১৬৮৭)।
(৫) যে ব্যক্তি জমি-জায়গার চিহ্ন সরিয়ে নিজের অংশ বেশি করে। (৬) যে বাক্তি নিজের মা-বাপকে অভিশাপ দেয়। (৭) যে বাক্তি কোনো মুর্তি বা মাজারের উদ্দেশ্যে কোনো প্রাণী যবাই করে। (৮) যে ব্যক্তি কোনো বিদয়াতিকে প্রশ্রয় দেয়। (৯) যারা সমকামী (পুরুষে-পুরুষে বা মহিলায়-মহিলায় যৌন-মিলন করে।) (১০) যারা পশুর সাথে যৌনসঙ্গম করে। (১১) যে ব্যক্তি অন্ধকে ভুল পথ নির্দেশ করে। (সহীহ মুসলিম : ৩৭৭১; মুসনাদে আহমাদ : ৫৮৯১; সহীহ বুখারী : ১৩৭০)।

(১২) পুরুষের বেশধারিণী নারী এবং নারীর বেশধারী পুরুষ। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন : আল্লাহর রসূল (সা.) নারীদের বেশধারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষের বেশধারিণী নারীদেরকে অভিশাপ করেছেন। (সহীহ বুখারী)। আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসুল (সা.) সেই পুরুষকে অভিশাপ করেন, যে নারীর পোশাক পরিধান করে এবং সেই নারীকে অভিশাপ করেন, যে পুরুষের পোশাক পরিধান করে।’ (সুনানে আবু দাুউদ)।

সম্পর্কিত পোস্ট

হাইলাইট
Close
Back to top button