নব্যদীপ্তি_শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

ইসলাম কি বলে ভালোবাসা দিবসকে

ভালোবাসা শুধু একটি শব্দ নয়। এর মাঝে রয়েছে অনেক সম্পর্কের পবিত্রতা। কিন্তু এই পবিত্রতা নষ্ট হয় বর্তমান সমাজের তথাকথিত ভালোবাসা দিবস উদযাপন করতে গিয়ে দুঃখজনক হলেও সত্য বর্তমান বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের নামের উৎপত্তি হয়েছে নানান অপসংস্কৃতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ছে অশ্লীলতা বেহায়াপনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আগ্রাসন। ইসলামের নীতি ও আদর্শ বহির্ভূত ভালোবাসা নামক এক অনুভূতি যা মানুষের মনের গহীনে প্রবাহমান থাকে। ভালোবাসা সব মাখলুকাতের মাঝে রয়েছে পরস্পরের মধ্যে প্রীতি স্থাপনের জন্য আল্লাহ প্রতিটি প্রাণীর মধ্যে ভালোবাসা তৈরি করে দিয়েছেন আর এই মানবিক গুণাবলী আছে বলেই মনে হয় এখনো টিকে আছে নশ্বর পৃথিবী।

আল্লাহ তায়ালা নিজেই ঘোষণা করেছেন আল্লাহ কুদরত এর মধ্যে অন্যতম একটি নিদর্শন এই যে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকে তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের সাথে শান্তিতে থাকো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পারিক ভালোবাসা অনুগ্রহ সৃষ্টি করেছেন নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নির্দেশাবলী রয়েছে। (সূরা আর রুম আয়াত ২১)। প্রত্যেক মুমিনের ভালোবাসার একমাত্র প্রধান কেন্দ্র মহান আল্লাহ এবং তাঁর প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম। পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্বামী স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ইত্যাদি সকলের প্রতি ভালবাসার মূলভিত্তি হবে আল্লাহর রাসূলের ভালবাসা পরিপূর্ণতার জন্য।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারা যায় যে দুই শত সত্তর সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি তখন রোমের সম্রাট ছিলেন সেসময় ভ্যালেন্টাইন নামে একজন সাধারন প্রেমীদের গোপন পরিণয়-মন্ত্রে দীক্ষা দিতো।অপরাধী সম্রাট কর্ডিয়াস সাধু ভ্যালেন্টাইনের শিরশ্ছেদ করেন। তার ভ্যালেন্টাইন নাম থেকে এই দিনটির নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশে এই দিবসটি পালন করা শুরু হয় ১৯৯৯ সালে এখন বিশ্বব্যাপী দিবসটি ভালোবাসা দিবসে পালিত হচ্ছে। এতে দেখা যায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে যুবক যুবতীরা প্রেমের জোয়ারে ভেসে ওঠে নিজেদের রূপা-সৌন্দর্য উজাড় করে প্রদর্শনের জন্য রাস্তায় নেমে আসে। আর একজন মুমিনের কাছে কখনোই কাম্য নয়।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করা সম্পূর্ণ হারাম ও কুফরী এ সম্পর্কে শরিয়তের বলা হয়েছে, হাদীস শরীফে বলা হয়েছে’ অপচয়কারী শয়তানের ভাই, ব্যালেন্স ডে উপলক্ষে অনেকেই সেখানে অপচয় করে থাকেন সেটি উপলক্ষে কেউ খরচ করলে সে শয়তানের ভাই ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। আর এই দিনটি হল কাফেরদের অনুষ্ঠান সুতরাং মুমিন যদি তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে তাহলে সে তাদের সাথে অন্তর্ভুক্ত হবে আর তাদের পরিণত হবে জাহান্নাম। এদের সঙ্গে অনৈতিক কার্যকলাপ মুসলমানের ঈমানকে ধ্বংস করে দেয়। আল্লাহ আমাদের ইসলামকে দিন হিসেবে পূর্ণ করেছেন।

অতএব মুসলমান হয়েও যারা ইসলামী সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন দেশের ওয়েস্টার্ন কালচার গ্রহণ করে নিচ্ছে তাদের মৃত্যুর পর কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে এই বেহায়াপনা দিবস থেকে রক্ষা করুক।
(আমিন)
-রাফিউল ইসলাম কৌশিক
নব্যদ্বীপ্তি শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button