নব্যদীপ্তি_শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

আওয়াজ থেমে আছে! মিলবে কি ধর্ষনের প্রকৃত শাস্তি?

ঘটনাটি ২৩শে এপ্রিল, ২০২০ এর। গাজীপুরের শ্রীপুরে মা, দুই মেয়ে ও প্রতিবন্ধী ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ২২শে এপ্রিল দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের জৈনা বাজার কলেজ রোড (আবদার) এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

২৩শে এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

বিজ্ঞাপন

নিহতরা হলেন- মালয়েশিয়া প্রবাসী কাজল মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৪০), মেয়ে নূরা (১৬), হাওয়ারিন (১১) ও প্রতিবন্ধী ছেলে ফাদিল (৭)।

ডাকাতি ও ধর্ষণের সময় চিনে ফেলার কারণেই তাদেরকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে অভিযুক্তরা।

এর আগে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে গ্রেফতার কিশোর পারভেজ (১৭) দুই শিশুকে ধর্ষণ ও চারজনকে একাই হত্যা করেছে বলে স্বীকার করলেও বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেরিয়ে আসে নতুন তথ্য। ঘটনায় জড়িত ছিল তার বাবা কাজিম উদ্দিনও।

মঙ্গলবার রাত ও বুধবার সকালে(২৯শে এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কাজিম উদ্দিন (৫০), বশির আহম্মেদ (২৬), হেলাল উদ্দিন (৩০), হানিফ মিয়া (৩২) ও এলাহি মিয়া (৩৫) নামে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তারা সবাই নিহত পরিবারটির প্রতিবেশী ছিল।

তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এক র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, নিহত ফাতেমার স্বামী কাজল মালয়েশিয়া থেকে ২০-২২ লাখ টাকা পাঠিয়েছে, এমন ধারণার ভিত্তিতে ঘটনার সপ্তাহখানেক আগে অভিযুক্ত কাজিম ও হানিফ বাড়িটিতে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় বশির, হেলাল, এলাহি এবং আরও কয়েকজন।

নেশা ও জুয়ার টাকা সঙ্কুলান না হওয়ায় তারা এ অপরাধে যুক্ত হয় বলে জানিয়েছে বশির, হেলাল ও এলাহি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কিশোর পারভেজ ভেন্টিলেটর দিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকে। পাশের একটি গাছ একটি গাছ ও বাড়ির পাইপের সাহায্যে ছাদে ওঠে হানিফ। তারা সিঁড়ির ঢাকনা খুলে বাড়িতে ঢুকে পেছনের দরজা খুলে দিলে অন্যরা ভেতরে প্রবেশ করে।

তারা জানিয়েছে, কাজিম, হেলাল ও আরেকজন প্রথমে ফাতেমার ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফাতেমাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকাগুলো দিতে বলে। অস্ত্রের মুখে ফাতেমা তাদের হাতে ৩০ হাজার টাকা তুলে দেন। ওই টাকা এবং ফাতেমার স্বণার্লংকারগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার পর এবং তাকে গণধর্ষণ করা হয়। একই সময়ে বাড়ির অন্যান্য কক্ষে চলতে থাকে লুটতরাজ।

বশির, এলাহিসহ ও আরেকজন ১৬ বছর বয়সী নুরাকে তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে গলার চেইন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকেও গণধর্ষণ করা হয়।

বশির এবং আরেক পলাতক অভিযুক্ত ধর্ষণ করে ১১ বছর বয়সী হাওয়ারিনকে।

বাবা কাজিম ও অন্যান্যদের সঙ্গে কিশোর পারভেজও হত্যা ও ধর্ষণে অংশগ্রহণ নেয়।

র‌্যাবের হাতে ধরা পড়া অপরাধীরা তাদের আরও কয়েকজন সহযোগীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে।

তারা আরও জানায়, ফাতেমা ও তার মেয়েরা তাদের কয়েকজনকে চিনে ফেলায় সবাইকে হত্যা করা হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও গলাকেটে মা ও দুই মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

তবে, সবশেষে প্রতিবন্ধী শিশু ফাদিলকে হত্যা করা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বিধা দেখা দেয়। কিন্তু ঘটনার স্বাক্ষী না রাখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকেও হত্যা করা হয়।

সবশেষে লুটের মালামাল ও টাকা কাজিম নিয়ে নেয় এবং সুবিধাজনক সময়ে সবাইকে বণ্টন করবে বলে জানায়।

আসামীরা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের দোষ শিকারও করেছে কিন্তু তাদের কি শাস্তি হয়েছে এটা কি আমরা জানি? শাস্তি কি আদৌ হয়েছে? নাকি জামিন নিয়ে সবাই আবারও নতুন কোন অপরাধের পরিকল্পনা করছে?

এই ঘটনার অন্যতম প্রধান আসামী পারভেজ তিনবছর আগেও অর্থাৎ ২০১৮ সালে নীলিমা নামের ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে হত্যা করেছিল যার মামলাও হয়েছিল এবং সে নিজের দোষ শিকারও করেছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ভুয়া জন্ম নিবন্ধনের কাগজ দেখিয়ে নিজেকে নাবালক প্রমাণ করে এবং ঘুষ দিয়ে সে জামিন পেয়ে যায়। জামিনে বের হয়ে নিহত নীলিমার বাবা ও ভাইকে সে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং মামলা তুলে নিতে বাধ্য করে।

প্রশ্ন হলো পারভেজ যদি তার পূর্ববর্তী অপরাধের যোগ্য শাস্তি পেত তাহলে কি আবারও এরকম জঘন্য ও ভয়াবহ অপরাধে নিজেকে জড়াতে পারতো? বা তার এই দুঃসাহসের পেছনে বাংলাদেশ ত্রুটিপূর্ণ বিচার ব্যবস্থা দায়ী নয় কি?

উত্তর টা আশা করি সকলের জানা। একটু ভেবে দেখুত তো আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত যেসব অপরাধ ঘটছে কয়জন অপরাধী তার যোগ্য শাস্তি পাচ্ছে? হাতে গোণা কয়েকজন মাত্র। আর বাকীরা ক্ষমতা বা টাকার জোরে পার পেয়ে যাচ্ছে এবং নতুন করে আবারও কোন অপরাধে মেতে উঠছে।

চিত্রটা তো এরকম হওয়ার কথা ছিলনা। এরকম পারভেজরা যদি প্রথমেই তাদের অপরাধের কঠোর শাস্তি পেতো তাহলে দ্বিতীয়বার কোন অপরাধ করার আগে দুইবার ভাবতো। কিন্তু না অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা পর্যন্তই হয়তো বাংলাদেশে বিচার শেষ, অপরাধী যোগ্য শাস্তি পাবে কিনা এবং ভুক্তভুগীরা সঠিক বিচার পাবে কিনা এটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

কিন্তু একটি স্বাধীন, গগণতান্ত্রিক এবং উন্নয়শীল দেশের বিচার ব্যবস্থা এতো নাজুক হবে এটা এই দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের কাম্য নয়।
শুধু আইন প্রণয়ন নয় বরং তার সঠিক বাস্তবায়ন দরকার। অপরাধীদের যোগ্য শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই দেশে অপরাধের হার অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশা করি।

তাসনিয়া তাসনিম শ্রুতি
নব্যদীপ্তি_শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button