নব্যদীপ্তি_শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

অবহেলিত পথশিশু

শিশুরা ভবিষ্যতের মূল্যবান সম্পদ। এটা আমরা সবাই জানি কিন্তু প্রশ্ন হলো পথশিশুরা কেমন আছে? কিভাবে কাটছে তাদের দিন? শীতের দিন আর রাত গুলো তারা কী ভাবে অতিবাহিত করছে তা আমরা কজন ভেবে দেখি। আমরা কি কখনো অসহায় পথশিশুদের জায়গায় নিজেকে রেখে প্রচণ্ড শীতে রাত যাপনের কথা কল্পনা করি?
অনেক পথশিশু রাত কাটে ফুটপাতে রেলস্টেশনে অথবা কোন ওভারব্রিজের নিচে গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা এটাই তাদের বাসস্থান। কনকনে শীতে আমরা যখন নানারকম উপকরণ দিয়ে গা গরম করার চেষ্টা করি তখন হয়তো কোনো কোনো শিশুর ফুটপাতে কাটে নির্ঘুম রাত। বাংলাদেশ এখন একটি আজব দেশে পরিণত হয়েছে শীতের প্রভাবে এলাকাতে একেক রকম ভাবে রূপ নিয়েছে। শীতের সবচেয়ে বেশি শিকার অবহেলিত ও বঞ্চিত শিশুরা এবং হত দরিদ্র মানুষগুলো তাদের একটি শীতের কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই প্রচণ্ড শীতে কাঁপতে কাঁপতে বের হয় পথশিশুরা এবং ছিন্নমূল লোকজন থেকে শুরু করে হতদরিদ্র। সমাজের এ সব লোক গুলো বের হয় জীবিকার সন্ধানে। শীতের কাপনে আজ তারা কাবু হয়ে যাচ্ছে।
সারাদেশে তথা পুরো সমাজ থেকে আজ যেন বিবেক, মূল্যবোধ, নীতি, মনুষত্ব, মানবতা বিদায় নিতে চলেছে। আজ যেন মানুষের মনুষত্ব এমন মৃত্যু হচ্ছে যা শারীরিক মৃত্যুর চেয়েও কঠিন।
অপরাজেয় বাংলা সূত্র মতে, শুধু রাজনীতিতে রাজধানীতে থাকা পথ শিশুদের মধ্যে প্রায় 20 শতাংশ শিশু শীতের রাতে উত্তাপের জন্য কুকুরের উপর নির্ভরশীল। আবার অনেকে ময়লা আবর্জনা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া প্লাস্টিক শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করে সেগুলোর জায়গায় জায়গায় ফুটো দিয়ে এত ঠান্ডা বাতাস আছে যেটা গায়ে দেওয়া না দেওয়া একই কথা। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারের আমলে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত।
অন্যান্য দিক দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও পথশিশু শিশুশ্রম এর দিক দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারিনি। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, “মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ দিচ্ছি একটি শিশু আবাসন ছাড়া থাকবে না শিশুরা মানবেতর জীবন যাপন করবে না”।
১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে এই শিশুদের খাওয়াতে পারবে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ সরকার ইউনিসেফ সহায়ক দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সংগঠন আপোষহীন কাজ করছে।
প্রশ্ন হলো তাহলে পথশিশু, শিশুশ্রম কেন রোধ করা যাচ্ছে না? কেন এই শীতে শিশুরা বস্ত্রহীন থাকে? আমি মনে করি পথশিশু রোধে সরকারকে হয়তো সঠিক পরিসংখ্যান দেয়া হচ্ছে না। নইলে এখানেও দুর্নীতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের সামর্থ্যবানদের বঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে বললে তেমন সাড়া মেলে না সরকারের দিকে তাকিয়ে আমরা কেন থাকব আমাদের কি কোন দায়িত্ব নেই? আমরা ১৬ কোটি মানুষকি পারিনা বঞ্চিত শিশুদের দুবেলা দুটো ভাত দিতে একটি গরম কাপড় দিতে? চিকিৎসা নিশ্চিত করতে!!
অবশ্যই পারবো শুধু আন্তরিকতা আর আমাদের ভালবাসা থাকলেই সম্ভব। এজন্য আমাদের মনের আদালতে যথেষ্ট। আর যদি আমরা ব্যর্থ হয় তাহলে একদিন ক্ষুধার্ত শীত ঝড়-বৃষ্টি রোদ আগুনের তাপে মানুষ নয় হবে ইস্পাত সেদিনের আমাদের গলায় ছুরি ধরবে, চাঁদা, খুনখারাপি ইত্যাদির সঙ্গে জড়িত হবে এর জন্য দায়ী সেদিনকে থাকবে অবশ্যই আমরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাজ করলেও তার দলের বা অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের মুখে পথশিশু ও শিশুশ্রম রোধে কোন কথা শোনা কষ্টকর।
দলের নেতাদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা ভালোবাসা পেলে হয়ত এই দেশ থেকে পথশিশু ও শিশু শ্রম রোধ করা অনেক সহজ হতো এসব পথশিশুরা ঠিক মতো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়া বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। তারা অনেক সময় পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়। মাস্তান দের নির্যাতনের শিকার হয়। প্রচণ্ড শীতের কাপড় যে কতটুকু প্রয়োজন আর এই শীতের কাপড় না থাকলে কতটা কষ্ট হয় তা আমরা সহজেই বুঝতে পারি। তাই বলি আসুন একটি নতুন বা পুরাতন কাপড় দিয়ে পথ শিশুদের মুখে হাসি ফোটায় আপনার না থাকলে আপনার সকল বন্ধুদের অনুরোধ করুন। পথশিশুদের পাশে দাড়াতে বিশেষ করে সমাজের ব্যক্তি যারা তারা ইচ্ছে করলেই এই নিষ্পাপ ফুলগুলোকে প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন
  • মো: রাফিউল ইসলাম কৌশিক

নব্যদীপ্তি_শূদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

বিজ্ঞাপন

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button