জাতীয়

শহীদ আসাদ দিবস আজ

১৯৬৯ সালের ২০ই জানুয়ারী পাকিস্তানি স্বৈরশাসকরে বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্র সমাজের ১১-দফা দাবির মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ছাত্রনেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আসাদ।

শহীদ আসাদের মৃত্যুতে শুধু তৎকালীন সামরিক সরকার আইয়ুব খানের পতন নয়- একধাপ এগোয় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলার স্বপ্নও। এর জের ধরেই ২৪শে জানুয়ারি সংঘঠিত হয় গণ অভ্যুত্থান। আজ শহীদ আসাদ দিবস, বাঙালীর মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন।

১৯৬৬ সালে বাঙালীর নেতা শেখ মুজিবের মুক্তির সনদ ৬ দফা ঘোষণা। তার কৌশলী স্বাধীনতা প্রস্তাবে নড়েচড়ে বসে স্বৈরশাসক আইয়ুব সরকার। পাকিস্তান সামরিক জান্তা আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেয় বঙ্গবন্ধুসহ ৩৮ জনকে। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পুরো জাতি।

১৯৬৯ সালের প্রথম সপ্তাহে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা পেশ করে। পূর্ব পরিকবল্পনা অনুযায়ী ১৯৬৯ সালের ২০শে জানুয়ারি স্বৈরাচার আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের ১১ দফা বাস্তবায়নে মিছিলে একাংশের নেতৃত্বে ছিলেন আসাদ। ঢাকা মেডিক্যাল হয়ে মিছিল চানখাঁর পুলের দিকে অগ্রসর হলে বাধা দেয় পুলিশ। শুরু হয় সংঘর্ষ। পুলিশের গুলিবর্ষণ। এমন সময় পুলিশের গুলির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আসাদ।

আসাদের শোকে ২৪শে জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর ৬দফা ও ছাত্রসমাজের ১১ দফা সমন্বয়ে উত্তাল হয়ে উঠে ঢাকাসহ সারা বাংলা। সংঘটিত হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। পতন ঘটে আইয়ুব খানের। আরেক স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় বসে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। পরে সত্তরের অভূতপূর্ব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু ইয়াহিয়া ক্ষমতা না ছাড়ার জন্য নানা টালবাহানা শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় একাত্তরে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button