জাতীয়

অদক্ষ চালক এবং অতিরিক্ত ট্রিপের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা

অদক্ষ চালক ও অতিরিক্ত ট্রিপ আর সড়কের সংযোগস্থল অপরিকল্পিতভাবে করার ফলে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, এমনটিই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে চালকের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তা বাড়াতে পারলে কমে আসবে দুর্ঘটনা। একই সঙ্গে প্রযুক্তির সহায়তা নিলে সড়কে ফিরবে শৃঙ্খলা।

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় আন্দোলনের মুখে আইনের পরিবর্তন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন করা হলেও এখনও কমেনি দুর্ঘটনার সংখ্যা।

বুয়েট অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষণায় উঠে আসে, ২০২০ সালে তিন হাজার ৬৪টি দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আট হাজার আট জন। আর এতে মারা যান তিন হাজার ৫৫৮ জন। গবেষণায় বলা হয়, শুধু সড়ক দুর্ঘটনায় গেল বছরে ১৯ হাজার ৬০২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা জিডিপির শূন্য দশমিক আট শতাংশ।

বুয়েটের এআরআই এর পরিচালক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, করোনার সময় যখন মানুষ বাড়িতে গিয়েছে তখন কিন্তু দুর্ঘটনা বেড়েছে। আমাদের ২০১৮-২০১৯ যে পরিমাণ দুর্ঘটনা ছিল এবার কিন্তু তার সমমান চলে আসছে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দক্ষ চালক তৈরির কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি সড়ক আইন অনুযায়ী মহাসড়কের পাশে চালকদের বিশ্রামাগার দ্রুত নির্মাণেরও তাগিদ দেন তারা।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, চালকদের সচেতন করা আর আমরা যারা যাতায়াত করি তাদেরকে সচেতন করা প্রয়োজন। অন্যদিকে চালকদেরকে নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার।

বিআরটিএ বলছে, দক্ষ চালক তৈরির জন্য কয়েকটি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর বিশ্রামাগারের জন্য রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।

বিআরটিএ এর (রোড সেফটি) পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, আমরা দক্ষ চালক তৈরি করার জন্য যা করার প্রয়োজন তা করছি। এছাড়াও চালক যখন লাইসেন্স নিতে আসে তখন তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিগত কিছু ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন বুয়েট এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পরিচালক। সড়ক দুর্ঘটনা এবং এ খাতে বিশৃঙ্খলা নিয়ে সমাজের সব মানুষেরই রয়েছে উদ্বেগ। তাই এ সমস্যার সমাধানে সবারই উদ্যোগী হওয়া জরুরি।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button