সারাদেশ

উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহ চলবে আরও ২-৩ দিন

উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এটি ২-৩ দিন স্থায়ী হবে। শৈত্যপ্রবাহটি আরও তীব্রতা পেতে পারে। তাপমাত্রা আরও কমে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে পরিণত হতে পারে। তখন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ গ্রিডি পর্যন্ত নেমে আসতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আবহাওয়াবিদরা জানান, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও সৈয়দপুরে শৈত্যপ্রবাহ থাকবে। এর প্রভাব রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পড়বে। বুধবার রাজধানীর তাপমাত্রাও কমেছে। এদিন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াম। এর আগের দিন রাজধানীতে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। আজ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ছয় থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে চলে আসতে পারে।

এ ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দীন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ রয়েছে। ফলে শীত বেড়ে গেছে। এটি দু-তিন দিন স্থায়ী হতে পারে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছয় থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহটি একই এলাকা দিয়ে বয়ে যেতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

বুধবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, শৈত্যপ্রবাহটি পাবনা, নওগাঁ, দিনাজপুর, সৈয়দপুর ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁর বদলগাছীতে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ কক্সবাজারে ৩০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলে ব্যাহত জীবনযাত্রা : রাজশাহী ব্যুরো জানায়, বুধবার সকাল থেকে আগের কয়েক দিনের চেয়ে বেশি ঠাণ্ডা অনুভূত হলেও সন্ধ্যা হতেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। গোটা উত্তরাঞ্চলের কোথাও বুধবার সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। ফলে এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। রাজশাহীসহ উত্তরের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমার পূর্বাভাষ দিয়েছে রাজশাহী আঞ্চলিক আহবাওয়া অফিস।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আব্দুস সালাম বুধবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে জানান, এ মৌসুমে বুধবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। মেঘ ও ঘনকুয়াশার কারণে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্র চার ডিগ্রি কমে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। দিনের মধ্যভাগে কুয়াশা কিছুটা কেটে গেলেও বিকালে কুয়াশার ভারে অন্ধকারের রূপ নেয় প্রকৃতি। সড়ক-মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। ঠাণ্ডা বাড়তে থাকায় সন্ধ্যার পর থেকেই রাজশাহী মহানগরীতে লোক চলাচল কমতে থাকে। অন্য দিকে নগরীতে ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা বেড়েছে।

দিনাজপুরে তাপমাত্রা কমেছে ৩ থেকে ৬ ডিগ্রি : দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরে এক দিনের ব্যবধানে বুধবার তাপমাত্রা কমেছে ৩ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, মঙ্গলবার দিনাজপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রির উপরে থাকলেও মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে এই অঞ্চলে বইতে শুরু করেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।

ভূরুঙ্গামারীতে বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ : ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, ভূরুঙ্গামারীতে কয়েক দিনের তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘনকুয়াশা আর কন কনে ঠান্ডায় মানুষ অনেকটাই ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। শীতজনিত রোগ-বালাই বেড়েছে।

পঞ্চগড়ে হাড় কাঁপানো শীত : পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমালয়ের হিম বাতাসের কারণে কখনো মৃদু কখনোবা মাঝারি ধরনের শৈতপ্রবাহ বইছে এ জেলায়। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ্ জানান, বুধবার সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঘনকুয়াশা শেরপুরে : শেরপুর প্রতিনিধি জানান, ঘনকুয়শার চাদরে ঢাকা পড়েছে শেরপুর। সেই সঙ্গে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে শিশির। জেলায় কনকনে হিমেল হাওয়া বয়ে চলায় সর্বত্র জেঁকে বসেছে শীত। বিশেষ করে চরাঞ্চলে ও সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় শীতের তীব্রতা বেশি। -যুগান্তর

সম্পর্কিত পোস্ট

Bogura Live
Back to top button
error: Content is protected !!