Techজাতীয়

করোনার ভ্যাকসিন পেতে রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম

দেশে করোনার ভ্যাকসিনের রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে অধিদপ্তরের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) তৈরি করছে সরকার।

করোনার টিকা নিতে হলে প্রথমে এই অ্যাপে নিজেদের তথ্য দিয়ে তালিকাভুক্ত করতে হবে। সেখান থেকে সরকার টিকা গ্রহীতার সম্পর্কে যেমন সব তথ্য পাবেন, তেমনি যারা টিকা নেবেন, তারাও পরবর্তী আপডেট সম্পর্কে জানতে পারবেন।

কীভাবে নিবন্ধন হবে?
দেশে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) তৈরি করছে সরকার। সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগের লাইন ডিরেক্টর ডা. হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানান।

স্মার্টফোনে অ্যাপটি ডাউনলোডের পর ফোন নম্বর ও এনআইডি নম্বর দিয়ে ব্যবহারকারীরা অ্যাপে নিজেরা নিবন্ধন করবেন।

অ্যাপে নিবন্ধন করার সময় নাম, জন্মতারিখ, এনআইডি নম্বর, অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা আছে কিনা, পেশা ইত্যাদি বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।

তবে কারা আগে টিকা পাবেন, সেই অগ্রাধিকারের তালিকাটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকেও সংগ্রহ করা হবে।

প্রত্যেক ব্যক্তি করোনাভাইরাসের দুটি করে ডোজ পাবেন। তাদের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের বিস্তারিতও অ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে।

প্রতিবেশী ভারতেও টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে এরকম একটি অ্যাপের ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে, ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশে প্রথম ধাপে সেরামের ৫০ লাখ ডোজ করোনা ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিলো ৫০ লাখ ডোজের মধ্যে প্রথম ধাপে ২৫ লাখ ডোজ প্রয়োগ করা হবে। পরে ক্রমান্বয়ে প্রয়োগ করা হবে। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫০ লাখ ডোজই প্রথম ধাপে প্রয়োগ করা হবে।

ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর মাথা ঝিমঝিম করা, ব্যথা, বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। তবে সেটা ২ থেকে ৩ ভাগের বেশি না। যে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোধে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ২৮টি জেলায় ভ্যাকসিন সংরক্ষনাগার তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সাড়ে ৭ হাজার কেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে।

এদিকে, প্রথম দফায় যারা ভ্যাকসিন পাবেন তাদের তালিকাও প্রকাশ করেছে অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকানুযায়ী কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যসেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত সরকারি, বেসরকারি ও প্রাইভেট স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রথমে করোনার ভ্যাকসিন পাবেন।

এরপর রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাষ্ট্র পরিচালনায় কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংবাদমাধ্যমকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা।

এরপর বয়স অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কর্মচারী, ধর্মীয় প্রতিনিধি, মৃতদেহ সৎকার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, জরুরি পানি-গ্যাস-পয়ঃনিষ্কাশন-বিদ্যুৎ-ফায়ার সার্ভিস-পরিবহন কর্মী, স্থল-নৌ-বিমান বন্দর কর্মী, প্রবাসী শ্রমিক, জেলা-উপজেলায় জরুরি জনসেবায় সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারী, ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জনগোষ্ঠীরা করোনার ভ্যাকসিন পাবেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button