জাতীয়

স্কুলে যৌন শিক্ষার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার তাগিদ বিশ্লেষকদের

রাজধানীর মাস্টারমাইন্ড স্কুল শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় আবারও উঠে এসেছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাক্রম এবং পারিবারিক ও সামাজিকভাবে যৌন শিক্ষার বিষয়টির গুরুত্ব।

ধর্ষণের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর নানা দোষ খুঁজে বের করার প্রবণতাও শিক্ষার অভাব। এ রকম মত দিয়ে মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও আইনজীবীরা বলছেন সঠিক শিক্ষাই কেবল এ ব্যাধি থেকে সমাজকে মুক্ত করতে পারে। এই অবস্থায় স্কুল পর্যায় থেকে যৌন শিক্ষার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার ওপর তাগিদ বিশ্লেষকদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোবেদা খাতুন জানান, “একজন মানুষ পূর্ণ বয়সে কি আচরণ বা মানসিকতার হয়ে উঠবে তার প্রক্রিয়া কিশোর বয়স থেকেই চলতে থাকে। একজন কিশোর স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহলী হয়, এসময় যদি কোনো শারিরীক, মানসিক সংকট তৈরি হয় তার প্রভাব পরবর্তী পূর্ণ বয়সে দৃঢ় হয়। এসময় আমাদের বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়েদের ছেড়ে রাখেন যা উচিৎ নয়।”

তিনি আরও বলেন, “ছেলেমেয়েরা কোথায় কোথায় সমস্যায় পরতে পারে সেগুলো নিয়ে পুরো বিশ্বে কথা হচ্ছে কিন্তু আমাদের মধ্যে এখনো এই বিষয়গুলো লুকিয়ে রাখার মানসিওকতা কাজ করে। যৌন শিক্ষাকে স্কুল কলেজে বাধ্যতামূলক করা হলে সেটি সবচেয়ে ভালো দিক হতো যেখানে শিক্ষার্থীরা কি করা যাবে বা যাবেনা,কিভাবে করা যেতে পারে সেসব বিষয়ে শিক্ষকরা তাদের মতো করে নানা উদাহরণের শিক্ষা দিতে পারেন।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, “সামাজিকভাবে এই বিষয়গুলো নিয়ে শিশু,কিশোরদেরকে সুস্থ সম্পর্ক ও তাদের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে বোঝাতে হবে। কারণ কনসেন্টে এধরণের কোনো সম্পর্ক হতে পারেনা যেখানে একজন মানুষ মারা যেতে পারে।”

সুপ্রিম কোর্টের আইজীবী ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে ধর্ষণের কারণ অথবা ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ধর্ষককে সমর্থন করে যা ধর্ষণের মতোই অপরাধ। পর্ণোগ্রাফির প্রতি আসক্তির ফলে অতিরঞ্জিত, অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্কের বিষয়গুলো তাদের কাছে স্বাভাসবিক মনে হয়”

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৭ই ডিসেম্বর) গ্রুপ স্টাডির কথা বলে কলাবাগানে বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যু হয় স্কুলছাত্রী আনুশকা নূর আমিনের। অভিযুক্ত ফারদিন আদালতে জবানবন্দি দিয়ে বলেছে প্রেমের সম্পর্ক থেকেই তাদের মধ্যে শারিরীক সম্পর্ক হয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button