বগুড়া

বগুড়ায় হিমালয়ি গৃধিনী (শকুন) উদ্ধার সোমবার পাঠানো হবে দিনাজপুরে

গত  চার দিন আগে বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে হিমালয়ি গৃধিনী (Himalayan Griffon) উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সােমবার বগুড়ার  শিবগঞ্জ উপজেলার অনন্তপুর গ্রাম থেকে একটি, এরপর মঙ্গলবার দুপুরে পাইকপাড়া মহল্লা থেকে আরেকটি শকুন উদ্ধার করা হয়।


প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলাের জোট আইইউসিএনের উত্তরবঙ্গের শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের পরামর্শক মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন তির’-এর স্বেচ্ছাসেবীরা একটি শকুন উদ্ধার করে। পরদিন আরেকটি উদ্ধার করা হয়।


 তির এর সদস্য সাব্বির সাকিলের তত্ত্বাবধানে তার নিজ বাসা শাজাহানপুর উপজেলার সুজাবাদে দুটো শকুনের পরিচর্যা করা হচ্ছে।


শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম বদিউজ্জামান জানান, সোমবার দুপুরের দিকে পাইকপাড়া মহল্লায় সাইদুল ইসলামের আমবাগানের গাছ থেকে পড়ে আহত হয় একটি বিশাল আকৃতির শকুন। স্থানীয়রা উত্ত্যক্ত করতে গেলে শকুনের ঠোঁটের কামড়ে দুজন আহত হন। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানার পুলিশ শকুনটি উদ্ধার করে নিয়ে আসে। পরে বন বিভাগকে বিষয়টি জানানাের পর তারা উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবক দল পাঠায়। তাদের কাছে শকুনটি হস্তান্তর করা হয়েছে। 


তির এর সদস্য সাব্বির সাকিল জানান, হিমালয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পাখি হিমালয়ি গৃধিনীগুলো প্রতিবছরই শীতকালে বাংলাদেশে বেড়িয়ে যায়। আসলে হিমালয়ের শীতের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে আসতে বাধ্য হয়। তবে লম্বা ভ্রমণপথের ক্লান্তিতে প্রতি বছরই দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় ক্লান্ত-অসুস্থ হয়ে এরা মাটিতে নেমে আসে, পড়ে থাকে দীর্ঘক্ষণ।

হিমালয়ে প্রচুর ঠান্ডা, হিম ঝড়ের কারণে নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে হিমালয়ি গৃধিনীগুলাে সমতলের দিকে উড়তে শুরু করে। মার্চের দিকে আবার চলে যায়। একেকটা শকুনকে প্রায় এক হাজার কিলােমিটার পাড়ি দিয়ে এর হয়। দীর্ঘ পথ সমতলে এসে এরা পর্যাপ্ত থাবারও জোটাতে পারে না। তাই ভ্রমণ ক্লান্তিতে উত্তরবঙ্গ এলাকায় এদের মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রতিবছর এ রকম ১০০টির মতাে শকুন এ দেশে আসে, যার মধ্যে ৪০টিই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এই শকুন দুটোকে বগুড়া থেকে সোমবারে দিনাজপুরের সিংড়া জাতীয় উদ্যানে শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হবে। 

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button