নব্যদীপ্তি_শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

পুরুষের পরিচয় রক্ষক নাকি ভক্ষক?

প্রতিদিন নিউজ চ্যানেল বা পত্রিকা খুললেই নারী নির্যাতন, ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণের পর হত্যা নিয়ে এক বা একাধিক খবর আমাদের চোখে পড়ে। এসব যেন এখন দৈনন্দিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশে। ৬ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৬০ বছরের বৃদ্ধা কেউই বাদ যাচ্ছেনা ভুক্তভোগীর তালিকা থেকে। এই পরিস্থিতিতে “নারীর নিরাপত্তা কোথায়?”- এটি এক বিরাট প্রশ্ন যার উত্তর এখনো অজানা।

রাস্তাঘাট, যানবাহন, স্কুল, কলেজ এমনকি নিজের পরিবার সব জায়গাতেই নারীরা অনিরাপদ এবং অত্যাচারের শিকার। বিষয়টি আরো পরিষ্কারভাবে বুঝার জন্য আসুন কিছু উদাহরন দেখিঃ
★৭ই জুন, ২০১৯ জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় দূর্গম চর মুন্নিয়ায় ধর্ষণের শিকার হয় ১৪ বছরের এক কিশোরী এবং সেই ধর্ষক আর কেউ নয় নিজের জন্মদাতা পিতা।
অপরদিকে একই উপজেলার অন্য ইউনিয়নে চাচার দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে গর্ভবতী হয় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী।
★১১জুন, ২০১৮ রাজধানীতে প্রাইভেট কারে তুলে এক তরুণীকে ধর্ষণ।
★৫ই জানুয়ারি, ২০১৬ গভীর রাতে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল চৌরাস্তায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ভেতর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
★১৩ জানুয়ারি, ২০১৯
নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে বিদ্যালয়টির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এরকম হাজার হাজার ঘটনা আছে যা প্রতিনিয়ত ঘটেছে বা ঘটে চলেছে আমাদের সমাজে। নিত্যনতুন এসব ঘটনা আমাদের মনকে বিষিয়ে তুলেছে পুরুষের বিরুদ্ধে।

নিরাপত্তাহীন এই সমাজ নারীর মনে ” পুরুষ মানেই ভক্ষক” এই সন্দেহের বীজ বুনে দিয়েছে সুনিপুণভাবে। কিন্তু আসলেই কি তাই? পুরুষ মানেই কি ভক্ষক? পুরুষ মানেই কি ধর্ষক? আমাদের চারপাশে থাকা সকল পুরুষই কি কামনায় আসক্ত শুধু একটি সুযোগের অপেক্ষায়? উত্তরটা “না”। পুরুষ মানেই ধর্ষক কিংবা ভক্ষক না। সব পুরুষই আপনার দিকে কামনা কিংবা বাসনার চোখ দিয়ে তাকায় না। শুধুমাত্র কয়েকজন দুশ্চরিত্র পুরুষের কথা চিন্তা করে আমরা পুরো পুরুষ সমাজকে দোষী করতে পারিনা।
পুরুষ মানে বাবাও, পুরুষ মানে ভাইও, পুরুষ মানে প্রেমিক কিংবা স্বামীও। এখনও আমাদের চারপাশে এমন অনেক বাবা আছেন যাঁরা নিজের মেয়ের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য দিনরাত এক করে দেন। এমন অনেক ভাই আছে যারা নিজের বোনের সুরক্ষার ব্যাপারে একচুলও ছাড় দিতে ইচ্ছুক নয়। এমন অনেক প্রেমিক বা স্বামী আছে যারা ভালোবাসার মানুষটির সম্মান কিংবা নিরাপত্তার ব্যাপারে অনেক সচেতন।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধর্ষক তারাই যারা নেশা বা বিকারগস্ত, অশিক্ষিত, মানষিকভাবে বিপর্যস্ত, পরিবারের শিক্ষা বা ধর্মীয় নীতিবোধ নেই। এরা পুরুষ বা মানুষ নামের কলংক।

কিন্তু সব পুরুষ তার এই ” পুরুষ” পরিচয়ে কলংক লাগতে দেয়না। কিছু পুরুষ এখনো আছে যারা নারীদেরকে সেভাবেই সম্মান করে যেভাবে তারা নিজের মা’কে সম্মান করে। খেয়াল করলে দেখবেন আপনার আশেপাশে এমন অনেক বন্ধুই আছে যাদেরকে আপনি চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে পারেন, যাদের কাছে আপনার নিজেকে সুরক্ষিত মনে হয় যেমনটা মনে হয় আপনার বাবা কিংবা ভাইয়ের সাথে থাকলে।

“পুরুষের ভয়ে আমরা পুরুষ ছাড়া বের হতে পারিনা রাতের বেলা” বিষয়টা অনেকটা সেরকম। পুরুষ যেমন আপনার অনিরাপত্তার কারণ তেমনি পুরুষই আপনার নিরাপত্তার উৎস। তাই সবাইকে একরকম ভাববেন না। মানুষ চিনতে শিখুন। নিজে সচেতন থাকুন। পুরুষেরা ভক্ষক নয় বরং সবসময় রক্ষক হয়েই আমাদের নারীদেরকে নিরাপদ রাখুক এটাই কাম্য।

তাসনিয়া তাসনিম শ্রুতি
নব্যদীপ্তিশুদ্ধচিন্তায়_তারুণ্য

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button