জাতীয়

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ সরকারের

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এতে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৫৬৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে মেসার্স সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি।

বেসমারিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধন এবং অ্যাভিয়েশন সেক্টরে রিজিওনাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের বিমানবন্দরগুলো আধুনিকায়নের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দরে উন্নীত করতে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬৭৭৫ ফুট থেকে ৯০০০ ফুটে এবং প্রস্থ ১২০ ফুট থেকে ২০০ ফুট, রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধি, এয়ারফিল্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপনসহ আনুসঙ্গিক কাজ করা হয়েছে। গত ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দরে ই-৭৩৭-৮০০ বিমান উড্ডয়ন-অবতরণের উদ্বোধন করেন। তখন তিনি বিমানবন্দরে পূর্ণ লোডে বিমান চলাচল নিশ্চিত করাসহ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১২০০০ ফুটে উন্নীত করার মৌখিক নির্দেশনা দেন।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়েতে পূর্ণলোডে বিমান উড্ডয়ন-অবতরণ নিশ্চিত করতে বেবিচক মহেশখালী চ্যানেলের দিকে আরও ৩০০০ ফুট রানওয়ে সম্প্রসারণের সমীক্ষা, পেভমেন্ট, এয়ারফিল্ড লাইটিং সিস্টেম, জিওমেট্রিক এবং স্ট্রাকচারাল ডিজাইন, ড্রইং ও ডকুমেন্ট প্রণয়নের জন্য বিআরটিসি, বুয়েটকে নিয়োগ দেয়। এছাড়া, হাইড্রোলজিকাল এবং মরফোলজিকাল স্টাডিজ, বাঁধ রক্ষার ডিজাইন, ড্রইংয়ের জন্য ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম), ডাচ হাইড্রোলিক ইনস্টিটিউট আই রয়্যাল হ্যাসকনিং নেদারল্যান্ডকে বেবিচক নিয়োগ করে।

জিওবি অর্থায়নে জানুয়ারি ২০১৯ থেকে ডিসেম্বর-২০২১ পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ৩ হাজার ৭০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরে রানওয়ে সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয় এবং ২০১৮ অনুমোদিত হয়। তবে, রানওয়ের দৈর্ঘ্য মহেশখালী চ্যানেলের দিকে আরও ৩০০০ ফুট সম্প্রসারণ করার বিষয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৩০০০ ফুটের পরিবর্তে ১৭০০ ফুট সম্প্রসারণ করার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়।
সূত্র জানায়, ১৭০০ ফুট রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য বেবিচক কর্তৃক প্রকল্পের প্রথমবার দরপত্র এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতি অনুসারে ২০১৯ এর নভেম্বর আহবান করে ২০২০ এর মার্চে দরপত্র খোলা হয়। এতে ১০টি দরপত্রের মধ্যে শুধুমাত্র ১টি প্রস্তাব কারিগরি ও আর্থিকভাবে রেসপন্সিভ ও বাকি ৯টি দরপত্র নানা কারণে নন-রেসপন্সিভ হওয়ায় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রকল্পটি পুনঃদরপত্র প্রক্রিয়াকরণের কার্যক্রম নেওয়ার নির্দেশনা দেয়।

এ প্রকল্পের অনুক‚লে ঠিকাদার নিয়োগের লক্ষ্যে এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে সিপিটিইউ এর ওয়েবসাইটসহ ৪টি পত্রিকায় পুনঃদরপত্র আহবান করা হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২৮টি দরপত্র বিক্রি হয়। এসব দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখে ৭টি দরপত্র পাওয়া যায়। পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া দরপত্রগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট সাব-কমিটি করা হয়। সাব-কমিটি প্রতিবেদন দাখিলের পর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি পর্যালোচনা শেষে ২টি প্রতিষ্ঠানকে কারিগরিভাবে রেসপন্সিভ ঘোষণা করে। প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে মেসার্স সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি ও মেসার্স সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড। বাকি ৫টি প্রতিষ্ঠানের দরপ্রস্তাব বিভিন্ন কারণে নন-রেসপনসিভ হিসেবে বিবেচিত হয়।

মূল্যায়ন কমিটি মতামত দেয়, আলোচ্য প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি মূল্য টাকা ২৭৩৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তব কাজের অনুমোদিত প্রাক্কলিত মূল্য ১৯৮৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা (প্রভিশনাল সাম টাকা ৫.০০ কোটি ব্যতিত)। দরদাতা মেসার্স সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি-এর দেওয়া ৫ শতাংশ আনকন্ডিশনাল ডিসকাউন্ট বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়িত দাম দাঁড়ায় ১১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার এবং ৫৭৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা (প্রভিশনাল সাম টাকা ৫.০০ কোটি ব্যতিত)। সর্বমোট মূল্যায়িত দাম এক হাজার ৫৬৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। যা প্রাক্কলিত দাম থেকে ২১ দশমিক ২১শতাংশ কম এবং দরদাতা মেসার্স সাইনোহ্ইাড্রো লিমিটেডের দেওয়া বিশ্লেষণ করে মূল্যায়িত দাম দাঁড়ায় ৬ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং এক হাজার ২০৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা (প্রভিশনাল সাম টাকা ৫.০০ কোটি ছাড়া)। অর্থাৎ সর্বমোট মূল্যায়িত দর টাকা এক হাজার ৭২২ কোটি ২২ লাখ টাকা। যা প্রাক্কলিত দর থেকে ১৩ দশামিক ২৩ শতাংশ কম।
মূল্যায়ন কমিটি ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরে রানওয়ে স¤প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প কাজের কারিগরিভাবে রেসপন্সিভ দরদতা। রেসপন্সিভ দরপত্রদাতা মেসার্স সিওয়াইডব্লিউইবি-সিসিইসিসি। এর দরপত্রটির মূল্যায়িত দর প্রভিশনাল সাম টাকা ৫.০০ কোটিসহ ও ৫ শতাংশ (শতকরা পাঁচ আনকন্ডিশনাল ডিসকাউন্ট বিবেচনায় নিয়ে সর্বমোট মূল্যায়িত দর টাকা ১৫৬৮.৮৬ কোটি (ইউএসডি টঝউ ১১.৬০ কোটি এবং টাকা ৫৭৯.৯৭ কোটি)-এ ১ম সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চূড়ান্তভাবে গ্রহণের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি বিবেচনা করতে পরবর্তী সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠবে উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button