নব্যদীপ্তি_শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

কোচিং বাণিজ্য ও বিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের উদাসীনতা

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার আলোচনায় সবার প্রথমে আসে কোচিং বাণিজ্য।আর এই কোচিং-প্রাইভেটে পড়ার কারণে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ের পাঠদান ও অন্যান্য কার্যক্রমে উদাসীনতা দেখা দেয়।

বিজ্ঞাপন

বগুড়া শহরের আলোকে বলা যায় এখানে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে শুরু হয় বিভিন্ন স্বনামধন্য স্কুলসমূহে ভর্তির জন্য যুদ্ধ।এক্ষেত্রে নানা কোচিংয়ে পড়িয়ে বাচ্চাদের সেসব স্কুলে ভর্তি হতেই হবে এমন চাপ দেওয়া হয়।ভালো স্কুলে পড়তেই হবে এমন ধারণায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আসল মর্ম ভুলে যায়।আর যেসব কোচিংয়ে তাদের পড়ানো হয় সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই থাকে না কোনো নিয়ম-শৃঙ্ক্ষলার বালাই,থাকেনা বাচ্চাদের তেমন কোনো নিরাপত্তা।এখানে শিক্ষার্থীদের যারা পড়ান তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো কলেজে অধ্যয়নরত বা সদ্য মাস্টার্স করা চাকরিহীন যুবক যুবতী।তারা অবশ্যই কোনো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোয়ালিফাইড শিক্ষক নন।

বিজ্ঞাপন

এরপর কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের পুনরায় সেই কোচিংয়েই ভর্তি করানো হয়।এর ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পড়ায় মন না দিয়ে কোচিংমুখী হয়।কোচিংয়ে যাতায়াত এবং সেখানকার কার্যক্রমে সময় দেওয়ার ফলে তারা বিদ্যালয়ের কাজে সময় দিতে পারে না।এবং বেশিরভাগ সময় তারা বিদ্যালয়ের ক্লাসে অমনোযোগী থাকে।এর ফলে দুর্নাম টা হয় বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যারা কিনা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনের প্রধান কারিগর।কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের গুরুত্ব উপলব্ধি না করে সময় ও পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বোপরি কোচিংয়ের দিকে ধাবিত হয়।

কোচিংয়ের নোট মুখস্থ করে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের দিকে নজর দিতে ভুলে যায় এবং এতে যে তাদের বড় ক্ষতি হয় তারা তা বুঝতে পারে না।ফলে তাদের শিক্ষা রয়ে যায় অসম্পূর্ণ।এইভাবে বিদ্যালয়,বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষাদান কোচিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে অর্থবহ হয়ে উঠতে বাধা পায়।

শিক্ষার্থীদের উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে, পিতৃগৃহের পর একটি মানুষের জীবনে তার দ্বিতীয় বাসস্থান হলো বিদ্যালয়।বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ,মাঠ,পুরো ক্যাম্পাস তার আপন করে নেওয়া প্রয়োজন।বিদ্যালয়ের প্রতিটি কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ করা উচিত।প্রতিটি ক্লাস মনোযোগের সাথে করা এবং শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে যথাযথভাবে নিজের জ্ঞানার্জনের জন্য বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রমের সাথে একাত্মতা পোষণ করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দায়িত্ব।

কোচিং বানিজ্যের কারণে অতিরিক্ত পড়ার চাপে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ক্লাস ও কার্যক্রমে উদাসীন থাকে এবং এই ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকাও স্পষ্ট।তাঁরাই প্রধানত সন্তানদের কোচিংয়ের প্রতি ক্রমশ আগ্রহী করে তোলে।কিন্তু তাদের উচিত সন্তানদের নিজস্ব বিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট হতে সাহায্য করা।এতে যেমন শিক্ষার্থীদের জীবন হবে সুন্দর, তেমনি শিক্ষাব্যবস্থাও ত্রুটিমুক্ত হবে।

তাই নিজ নিজ বিদ্যালয়কে ভালোবেসে ও কোচিং বানিজ্য বন্ধ করর শিক্ষাব্যবস্থাকে শুদ্ধ করে নিজেদের জীবন আলোকিত করার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যেতে হবে সকল শিক্ষার্থীর।

খায়রুন নিয়াম
নব্যদিপ্তীশুদ্ধচিন্তায়_তারুণ্য

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button