জাতীয়

শিগগিরই চালু হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় মহিলা কারাগার

কেরানীগঞ্জে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের রাখা হবে। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত নারী বন্দির সংখ্যা বিবেচনায় এবং ঢাকাসহ সারাদেশের নারী বন্দিদের সুবিধার জন্য বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারটি নির্মাণ করা হয়েছে। বন্দিদের জন্য সব ধরনের সুবিধা রয়েছে এই মহিলা কারাগারে। এর আগে প্রথমটি মহিলা কারাগার নির্মাণ হয় গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে। বর্তমানে গাজীপুর মহিলা কারাগারে সাড়ে আটশ’ বন্দি রয়েছে। যা ধারন ক্ষমতার প্রায় তিনগুন। কারা অধিদফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক. কর্নেল মো. আবরার হোসেন গতকাল দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, কেরানীগঞ্জে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার খুব শিগগিরই চালু করা হচ্ছে। মহিলা বন্দিদের সার্বিক সুবিধার বিষয়টি মাথায় রেখেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে। নবনির্মিত কেরানীগঞ্জ মহিলা কারাগারের একটি ভবনে করোনা আইসোলেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এতে বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত উভয় প্রকারের বন্দি রাখা হবে। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হওয়া নারী বন্দির আধিক্য ও ঢাকাসহ সারা দেশের নারী বন্দিদের সুবিধার্থে এ বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারটির নির্মাণ করা হয়েছে।

কারা অধিদফতর সূত্র জানায়, মহিলা এ কেন্দ্রীয় কারাগারটি হচ্ছে দেশের আধুনিক সুবিধাসম্বলিত মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার। কারাগারটিতে মোট ৩০০ বন্দি ধারণক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো পৃথক পৃথক সেলের যাতে বন্দির শ্রেণিবিন্যাস করে রাখা যায় সেজন্য আলাদা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন কারাগারে মোট ১০টি ভবন রয়েছে। এসব ভবনের নাম হচ্ছে, বেগম রোকেয়া বন্দি ব্যারাক। এটিই কারাগারের প্রধান ভবন। এতেই সবচেয়ে বেশি বন্দি আটক রাখা হবে। ৪ তলাবিশিষ্ট এ ভবনটিতে মোট ১২টি ওয়ার্ড রয়েছে। এ ভবনটিতে বর্তমানে কারাবন্দি ও কারারক্ষীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ারেন্টিনে রাখাসহ কোভিড-১৯ এর রোগীদের পরীক্ষার কাজ করা হয়। আইসিআরসির সহায়তায় এর কাজ চালানো হয় বলে জানা গেছে।

অপর ভবনগুলো হচ্ছে ‘ইলা মিত্র সেন ভবন, নতুন কারাগারটিতে ১২ জন ডিভিশনপ্রাপ্ত (প্রথম শ্রেণির বন্দি) রাখা হবে। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘সুলতানা রাজিয়া ভবন’। যেখানে ৪টি সেলে সর্বোচ্চ ৩ জন করে নারী বন্দি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। ডা. কাদম্বিনী মেডিক্যাল ভবন’ বা কারা হাসপাতাল, কারাবন্দিদের চিকিৎসার জন্য ৩ তলাবিশিষ্ট এ হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। ‘প্রীতিলতা কিশোরী ভবন’, কিশোর অপরাধ করে কারাগারে যাওয়া নারীদের অন্য নানা অপরাধে আটক হওয়া বন্দি থেকে পৃথক করে রাখার জন্য যেখানে ১৮ বছরের নিচের যে কোনো বন্দি অস্থায়ীভাবে এ ওয়ার্ডে রাখা হবে।

ওই সূত্র আরো জানায়, জঙ্গি, শীর্ষ সন্ত্রাসী, আলোচিত মামলার আসামি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সকল নারী বন্দিকে আটক রাখার জন্য দেশে এ প্রথমবারের মতো কারাগারের ভেতরেই পৃথকভাবে ‘হাই সিকিউরিটি’ সম্পন্ন সেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সেলে মোট ৩০ জন দুর্ধর্ষ নারী বন্দিকে আটক রাখা হবে। এছাড়া ফাঁসির সেল ও সাধারণ বন্দিদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে। এর বাইরে প্রথমবারের মতো তৈরি করা হয়েছে ‘মেন্টাল ওয়ার্ড’। মানসিকভাবে অসুস্থ নারী বন্দিরা থাকবেন এ ওয়ার্ডে। উৎপাদন ওয়ার্ড ভবন। এতে সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের নানা কর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। নারী বন্দিদের কারাভ্যন্তরে বই পড়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে গ্রন্থাগার বা পাঠাগার। এ ভবনটির নাম দেয়া হয়েছে ‘শহীদ জাহনারা ইমাম গ্রন্থাগার’। এছাড়া কর্তব্যরত সকল কারারক্ষীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে গার্ড হাউস। এর বাইরে এ প্রথমবারের মতো কোনো কারাগারের ভেতরে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ‘ওয়াশিং প্লান্ট ভবন’ তৈরি করা হয়েছে। এ মেশিন দিয়ে এই কারাগারের সকল বন্দির ব্যবহৃত কম্বল ও বিশেষ প্রয়োজনে অন্য যে কোনো কারাগারের কম্বল ওয়াশিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। কম্বল অতি দ্রæত ধোয়া ও শুকাতে এই আধুনিক অটোমেটিক মেশিন ব্যবহার করা হবে। যা স্থাপন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারা অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, বর্তমানে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার ৩ গুণের বেশি বন্দি বসবাস করছে। নতুন এ কারাগারটিতে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক পরিচালিত হবে। যেখানে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী নারী থাকবেন। নারী বন্দিদের সুবিধার্থেই এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রায় ৩০ একর জমিতে গড়ে ওঠা এ কারাগারটিতে বন্দি ধারণ ক্ষমতা ৩০০ জন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ কারা কমপ্লেক্স সীমানায় মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত রোববার ২৭ ডিসেম্বর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, বর্তমানে আদালত থেকে পাঠানো যে কোনো নারী বন্দিদের আমাদের কারাগারে পাঠানোর পর তাদের বাধ্য হয়েই গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারে পাঠাতে হয়। কাশিমপুর অনেক দূর হওয়ায় একজন নারী বন্দিকে সেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টকর ও সময় সাপেক্ষ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আয়তনে ও বন্দি ধারণ ক্ষমতায় দেশের বৃহত্তম এবং দ্বিতীয় মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে কেরানীগঞ্জে এটি নির্মাণ করায় এখন থেকে আর কোনো নারী বন্দিকে কষ্ট করে কাশিমপুর যেতে হবে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button