জাতীয়

নতুন বছরের শুরুতে হাতে হাতে নতুন বই ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের

নতুন বছরের শুরুর দিন প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে ঠিকমতো বই তুলে দেয়া গেলেও সব ক্লাসের বই না পাওয়ায় মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের সূচি অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা যায়নি। গতকাল শুক্রবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বই বিতরণের এই চিত্র পাওয়া গেছে।

প্রাথমিকের শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব বই সময়মতো হাতে না পাওয়ায় শুক্রবার অনেক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেয়া যায়নি। আর মাধ্যমিক স্তরের প্রধান শিক্ষকরা বলেছেন, সব ক্লাসের বই এখনও হাতে পাননি তারা। আগামী দুই থেকে সাত দিনের মধ্যে সব বই পাওয়া যাবে বলে শিক্ষা অফিস থেকে তাদের জানানো হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে এবার বছরের প্রথম দিন একসঙ্গে পাঠ্যপুস্তক উৎসব না করে ভাগে ভাগে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ২২৬ জন শিক্ষার্থীর হাতে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬২ হাজার ৪১২টি বই তুলে দেয়া হবে।

প্রাথমিক স্তরের বইগুলো শুক্র ও শনিবার এবং মাধ্যমিকের বইগুলো ১ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বিতরণ করতে সরকারের তরফ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, তার উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো চাহিদা অনুযায়ী সব বই হাতে পেয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে শুক্রবার নতুন বই হাতে দোলাইরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। সকাল থেকে সব স্কুলে বই বিতরণ করা হচ্ছে। মুখে মাস্ক না থাকলে কাউকে যেন বই না দেয়া হয় আমরা সেই নির্দেশনা দিয়েছি। পাশাপাশি স্কুলগুলোতে স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন জানান, তার উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, এখানে ক্লাস ভাগ করে বই দেয়া হচ্ছে। তবে শুক্রবার যারা স্কুলে এসেছেন তাদের সবাইকে বই দেয়া হয়েছে। ভিড় যেন না হয় সেই বিষয়টি মাথায় রেখে বই বিতরণ করা হয়, মাস্ক পরে সবাই বই নেন।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার সহকারী উজপেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আহসান জানান, তার উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুক্রবার ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান গতকাল শুক্রবার বলেন, আমরা ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই পেয়েছি, শুক্রবার সপ্তম শ্রেণির বই বিতরণ করা হচ্ছে। শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন ২/১ দিনের মধ্যে অন্য বইগুলো পাওয়া যাবে। বই পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সরকারি নিয়ম মেনে গ্রুপ করে বিতরণ করা হবে।

শেরপুর জেলার নকলা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রউফ জানান, শুধু ষষ্ঠ শ্রেণির বই তারা হাতে পেয়েছেন বলে শুক্রবার শুধু সেসব বই বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, শিক্ষা অফিস থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, অন্য শ্রেণির বইগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে। সেসব বই পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিতরণ করা হবে।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী কলেজিয়েট মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস এম মাসুদ কবির বলেন, শুধু ষষ্ঠ শ্রেণির সব বই আর সপ্তম শ্রেণির চারটি বই পেয়েছেন তারা। অন্য বইগুলো উপজেলা শিক্ষা অফিসে আছে, বই হাতে পেলে বিতরণ করা হবে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, আইসিটি বিষয় ছাড়া নবম শ্রেণির সব বই তারা হাতে পেয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা শুধু নবম শ্রেণির বই দিয়েছি। কারণ অন্য শ্রেণির বইগুলো এখনও হাতে পাইনি। সেগুলো পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেব।

প্রাথমিকের সব বই বিতরণের জন্য সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হলেও মহামারির মধ্যে বই ছাপানোর কাজে বিঘ্ন ঘটায় মাধ্যমিকের সব বই এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান নারায়ন চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন। মাধ্যমিকের যেসব বই এখনও বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হয়নি, সেসব বই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ২০১০ সাল থেকে বছরের প্রথম দিন উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছে। গত ১১ বছরে ৩৬৬ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৬টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এবারের বই বিতরণ শেষ হলে সর্বমোট ৪০১ কোটি ২৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৮টি বই বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বই বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং ইবতেদায়ীর এক কোটি ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫৩ শিক্ষার্থীকে ২৪ কোটি ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৭টি বই এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই কোটি ৩০ লাখ ৭৯ হাজার ৭৭৩ জন শিক্ষার্থীর হাতে ১০ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৫টি বই বিতরণ করা হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button