নব্যদীপ্তি_শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

তাদের ক্ষুধা

আমরা প্রতিদিন রাস্তাঘাটে চলাফেরা করি। বিভিন্ন যানবাহন, দোকানপাঠ,অফিস আদালত, বিদ্যালয়,রেস্টুরেন্ট হোটেল,পার্ক, মর্কেট সব জায়গায় জনগনের ভির।

এই ব্যস্ত শহরে যে যার মতো দিন অতিবাহিত করছে।কেউ কারো কথা ভাবার মতো সময় নেই। সবাই যার যার মতো রাস্তাঘাটে চলছে।এই জন গম গম করা জায়গায়ও একটি অপ্রিতিকর মায়াময় দৃশ্যও দেখা যায়। এতিম অনাথ পথশিশু যারা হয়তো সারাদিন ক্ষুধার জ্বালায় ছটপট করে কিন্তু তাদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই।প্রতি বাড়িতে বাড়িতে প্রচুর খাবার নষ্ট হচ্ছে এ দিকে আমাদেরই পরিবেশে কেউ না খেয়ে দিন অতিবাহিত করছে আমরা তাদের কথা ভাবিও না।

রাস্তার একপাশে হয়তো তারা ধুলাবালির সাথে নিজেদের মতো খেলাধুলায় মগ্ন থাকে। কারো গায়ে থাকে না স্বাভাবিক জামা কাপড়। ধুলাবালি দ্বারা অাবৃত থাকে তাদের সম্পুর্ণ দেহ।মমতাপুর্ণ সেই শিশুরা হয়ে ওঠে নোংরা কুৎসিত। ক্ষুধার্ত হয়ে কেউ কেউ সাহায্য চাইতে চলে আসে সভ্য মানুষের কাছে।কেউ হয়তো খাবার বা টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় কেউ তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে তাদের দুরে সরে দেয়। কারো হয় তাদের অসহায়ত্বতা দেখে মায়া আবার কারো হয় ঘৃণা তাদের ধুলাবালি মাখানো নোংরা শরীর দেখে।কেউবা পায় ভয় রোদে পোড়ার ফলে তাদের অপ্রিতিকর চেহারার কারণে।কিন্তু কেউ তাদের আপন ভেবে কাছে টেনে নেয় না।অনেকেই শুধু নাম পাওয়ার জন্য তাদের সাহায্য করে সেই মুহুর্তকে ছবিতে ধারন করে ছারে বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ায়।তারাও যে সমাজের অংশ সেটা সভ্য রুপে অসভ্য মানুষরা ভুলে যায়।তারা পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে রাস্তায় কুকুর বেড়ালদের পড়ে থাকা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে নিজেদের ক্ষুধা মেটাচ্ছে। যার কারণে তারা ভুগছে বিভিন্ন রোগে।

এই শীতেও তারা ঠান্ডায় গরম কাপড়ের অভাবে অতি কষ্টে দিন অতিবাহিত করছে।এই সব কারণেই তারা হয়ে ওঠে হিংস্র।তারা নিজেদের চাহিদা পুরনের জন্য বেছে নেয় চুরি ছিন্তায়,খুনের মতো জঘন্য অসামাজিক কাজ।সমাজে কিশোর অপরাধের এক দিকের কারণ হয়ে ওঠে ওরা। এভাবেই তাদের জীবন চলতে থাকে।

আমদের একটু সাহায্য তাদের জীবন বদলাতে পারতো।তারাও আমাদেরই অংশ এই ভেবে তাদের সাথে আচরণ করলে বাঙালি সত্যিকার অর্থে সভ্য হবে।

নূর এ জান্নাত সাজ
নব্যদীপ্তিশুদ্ধচিন্তায় তারুণ্য

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button