জাতীয়

অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন অনুমোদন বাংলাদেশের জন্য সুখবর

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ভ্যাকসিনটি শরীরে প্রবেশ করানোর ২১ দিন পর ভাইরাসের বিরুদ্ধে ৭০ ভাগ পর্যন্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউনিটি) গড়ে তুলতে পারে। তবে ফাইজার-বায়োএনটেক এবং মডার্নার ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হলে শরীরে ৯৪ থেকে ৯৫ ভাগ পর্যন্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে করোনার বিরুদ্ধে। ফাইজার ও মডার্নার ভ্যাকসিন দুইটি বেশি কার্যকর হলেও বাংলাদেশে এই দুইটি ভ্যাকসিন সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। এই দুইটি ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করতে হবে যথাক্রমে মাইনাস ৭০ ডিগ্রি ও মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। কিন্তু অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশে সংরক্ষণের উপযোগী। এটি ৪ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে সংরক্ষণ করা যায়। ফলে এই ভ্যাকসিনটি মানুষের মধ্যে প্রয়োগ করা এবং পরিবহন করা খুবই সহজ। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনটি তৈরি করা হয়েছে বানরের মধ্যে সর্দি-জ্বর তৈরি করে এমন একটি ভাইরাসের মধ্যে জিনগত পরিবর্তন করে। ভাইরাসের জিনে করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের মতো অংশটিকে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এটি শরীরে প্রবেশ করালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এই ভাইরাসটিকে ধ্বংস করে দেয় এবং এই ধ্বংস করার পদ্ধতিটি মানুষের শরীরের ওই রোগ প্রতিরোধকারী কোষটি চিনে রাখে। পরে যখনই শরীরে করোনাভাইরাস প্রবেশ করবে তখন ওই একই পদ্ধতিতে করোনাভাইরাসটিকে ধ্বংস করে দেবে।

ব্রিটিশ কর্র্তপক্ষ যেহেতু অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দিয়েছে সে কারণে বাংলাদেশের জন্য এটা একটি সুখবর হিসেবে দেখছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কারণ বাংলাদেশ ওষুধ, ভ্যাকসিন অথবা মানুষের রোগ-ব্যাধির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় এমন কিছুর অনুমোদনের ব্যাপারে যে ক’টা দেশের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ততে অনুসরণ করে এর মধ্যে ব্রিটেন একটি।

এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: এম মোজাহেরুল হক বলেন, এটা একটা ভালো খবর যে ব্রিটেন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনটির অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ এই কোম্পানির টিকাটি দুইভাবে পাবে। একটি মাধ্যম হলো বেক্সিমকো এবং অন্যটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অব ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি)। বেক্সিমকো ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কিনে আনবে বাংলাদেশের জন্য। প্রতিটি ভ্যাকসিন দাম পড়বে পাঁচ ডলারের অধিক। অন্য দিকে গ্যাভিও ভারতের সিরাম থেকে ভ্যাকসিন পাবে। কারণ গ্যাভি সিরাম ইনস্টিটিউটে আগে থেকে পুঁজি বিনিয়োগ করে রেখেছে। সিরাম ইনস্টিটিউটের সাথে অ্যাস্ট্রাজেনেকার চুক্তি আছে। অধ্যাপক মোজাহেরুল হক বলেন, তবে সিরাম থেকে করোনার ভ্যাকসিন আগে পাবে ভারত সরকার। ভারতের চাহিদা মেটানোর পরই কেবল সিরাম অন্য কোথাও ভ্যাকসিন দিতে পারবে। সে কারণে সিরাম থেকে ভ্যাকসিন পেতে কিছুটা সময় লাগবে।

অধ্যাপক মোজাহেরুল হক বলেন, বাংলাদেশ সরাসরি অ্যাস্ট্রাজেনেকোর সাথে যোগাযোগ করতে পারে ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য। সরাসরি অ্যাস্ট্রাজেনেকার কাছ ভ্যাকসিন আনতে পারলে সিরাম ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিনের চেয়ে দাম তখন কম পড়বে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বেক্সিমকোর মাধ্যমে সিরাম থেকে তিন কোটি ডোজ এবং গ্যাভির মাধ্যমে পাবে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পাবে গ্যাভি থেকে। এই ভ্যাকসিনটা পাবে বিনামূল্যে। মোট সাড়ে ছয় কোটি ডোজ ভ্যাকসিন পেলে অগ্রাধিকারভিত্তিক জনসংখ্যাকে টিকা দিয়ে দিতে পারবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button