আন্তর্জাতিক খবর

২০২০ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হানা

২০২০ এ করোনা মহামারিতে নাজেহাল বিশ্ববাসী। সঙ্গে দেশে দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিয়েছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, দাবানল, ভূমিধস আর ভূমিকম্পের ।

বিদায়ী বছরের প্রথম দিনেই ইন্দোনেশিয়ায় বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় মৃত্যু হয় ৬৬ জনের। ঘরহীন হয় ৬০ হাজার। এরপর বছরজুড়েই বিভিন্ন দেশে ঘটতে থাকে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা। এপ্রিল-মে মাসে বন্যা ও ভূমিধসে কেনিয়ায় প্রায় আড়াইশ মানুষের মৃত্যু হয়।

বছরের শুরুতেই পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও আফগানিস্তানে বন্যা, তুষারধস ও বৈরী আবহাওয়ায় ১৩০ জন প্রাণ হারায়। তুরস্কের ভান প্রদেশে পরপর দুবার তুষারধসে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়। অস্ট্রিয়ায় তুষারধসে চেক রিপাবলিকের পাঁচজন ও আফগানিস্তানে তুষারধসে মারা যায় ২১ জন।

বাংলাদেশে বন্যার সময় নৌকা ডুবিসহ অন্যান্য ঘটনায় মৃত্যু হয় দুই শতাধিক। চীনের দক্ষিণাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিতে অন্তত ৬৩ জনের মৃত্যু হয়। ভয়াবহ বন্যায় বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ ভয়ানক বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে যায়। ভারতের কেরালায় ভূমিধসে মারা যায় ১৩২, ইয়েমেনে ১৭৪।

করোনার মধ্যে আরেক দুর্যোগ ছিলেঅ ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এর আঘাতে বাংলাদেশ ও ভারতে অন্তত ১২৮ জনের মৃত্যু হয়। স্পেনে ঘূর্ণিঝড় গ্লোরিয়া ১৪ আর ব্রাজিলের ঝড় প্রাণ কেড়ে নেয় ৭০ জনের। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে টর্নেডোর আঘাতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়।

ঘূর্ণিঝড় স্যালির তাণ্ডবে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা ও ফ্লোরিডার উপকূলে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। গ্রিসে ঘূর্ণিঝড়ে মারা যায় তিনজন । ঘূর্ণিঝড় মোলাভের আঘাতে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় প্রাণ হারায় দেড় শতাধিক মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইটায় সৃষ্ট ভূমিধসে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু, নিখোঁজ একশ’র বেশি। ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড় ভামকোর কারণে বন্যায় অর্ধ শতাধিক মারা যায়।

তুরস্কের ইলাজিগ প্রদেশে ছয় দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্পে ৪১ জন নিহত হয়। আহত দেড় হাজারের বেশি। অক্টোবরে এজিয়ান সাগরে শক্তিশালী সাত মাত্রার ভূমিকম্পে তুরস্কে ১১৭ জন ও গ্রিসে দুজন নিহত হয়। আহত হয় এক হাজারের বেশি।

এ বছর কেনিয়া ও পশ্চিম ভারতের কয়েকটি রাজ্যে আক্রমণ করে পঙ্গপাল। ইথিওপিয়া, কেনিয়া, এরিত্রিয়া, সোমালিয়ার পর পঙ্গপাল আক্রমণে করে উগান্ডাতেও। পূর্ব আফ্রিকায় দেড় লাখেরও বেশি একর জমি পঙ্গপাল বিনষ্ট করে।

২০১৯-এ শুরু হওয়া অস্ট্রেলিয়ার দাবানল এ বছরের শুরুতেও অব্যাহত থাকে। এসময় তিন দমকলকর্মীসহ অন্তত ২০ জন প্রাণ হারায়। পুড়ে যায় ৬০ লাখ হেক্টর জমি । চীনের সিচুয়ান প্রদেশে দাবানলে ১৮ দমকলকর্মীসহ ১৯ জনের মৃত্যু হয়।

ফিলিপাইনে ‘টালগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে চার লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতিরিক্ত খরার কারণে পানি স্বল্পতা থাকায় পাঁচ হাজারের বেশি উট হত্যা করে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button