জাতীয়

নদী দখলদারদের থেকে উচ্ছেদের খরচ আদায়ের সুপারিশ

নদী তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যয় দখলদারের কাছ থেকে আদায় করতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।

রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য শাজাহান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। কমিটি বলেছে, অবৈধ দখলাদারের কাছ থেকে উচ্ছেদের খরচ আদায় করতে হবে।”

সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়, বৈঠকে নদী রক্ষা কমিশন এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) উচ্ছেদ অভিযানের ব্যয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

উদ্ধার করা জমিতে বনায়ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, “উদ্ধারের পর জমি আবার দখল হয়ে যায়। এ অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। বনায়ন করা হলে দখল করতে পারবে না। সেজন্য আমি এই প্রস্তাবি দিয়েছি।”

নদী ড্রেজিং নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সাবেক এই নৌমন্ত্রী বলেন, “নদী খনন করে তার মাটি আবার নদীতে ফেললে কাজের কাজ কিছুই হয় না। এজন্য বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।”

বৈঠকে নদী রক্ষা কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত উনিশ হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

কমিটি নদীর সীমানার মধ্যে সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থাকে জমি বরাদ্দ-লিজ না দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এছাড়া নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সহযোগিতা করার জন্য হাই কোর্ট যাতে নদী দখলদারদের আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি করে, সে বিষয়ে নদী রক্ষা কমিশনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে জমে থাকা পলিথিন দ্রুত অপসারণ করতে বলেছে কমিটি। গ্রেভ ড্রেজার সংগ্রহ করে জরুরি ভিত্তিতে এ কার্যক্রম শুরু করার জন্য সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে বিআইডব্লিউটিএর অনুমতি ছাড়া যেখানে-সেখানে ড্রেজিং না করারও সুপারিশ করেছে।

কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শাজাহান খান, রনজিত কুমার রায়, মাহফুজুর রহমান, সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, আছলাম হোসেন সওদাগর এবং এস এম শাহজাদা বৈঠকে অংশ নেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button