বিনোদন

বাকের ভাইয়ের ফাঁসি চাননি বদিও

নব্বই দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের অন্যতম আলোচিত ধারাবাহিক নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত ও বরকত উল্লাহ নির্দেশিত জনপ্রিয় এই নাটকের অন্যতম মুখ ছিলেন আসাদুজ্জামান নূর ও আব্দুল কাদের। ধারাবাহিকে ‘বাকের ভাই’ চরিত্রে অভিনয় করে কালজয়ী হয়ে আছেন আসাদুজ্জামান নূর আর ‘বদি’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দর্শক-হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন আব্দুল কাদের।

ধারাবাহিক নাটকটি সে সময় এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, ‘বাকের ভাইকে’ ফাঁসি না দিতে ঢাকার রাজপথে মিছিল হয়েছিল। আর যার সাক্ষ্যের জন্য নাটকে ‘বাকের ভাইয়ের’ ফাঁসি হয়েছিল, বাস্তবে তাকে পোহাতে হয়েছিল নানা মধুর যন্ত্রণা।

২০১৬ সালে এনটিভির ‘দি কমেডি কোম্পানি’ আয়োজনে এসে সেসব গল্প জানিয়েছিলেন ‘বদি’ চরিত্রের অভিনেতা আব্দুল কাদের। সেই গল্পে তিনি জানিয়েছিলেন যে ‘বদি’ও ফাঁসি চায়নি তাঁর প্রিয় ‘বাকের ভাইয়ের’।

সেই গল্পে আব্দুল কাদের জানিয়েছিলেন, “শেষের দিকে যখন দেখা গেল বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হবে, এটা প্রচার হয়ে গেল পত্রিকায়, আমি ভয় গেয়ে গেলাম। কারণ সাক্ষ্য আমাকে দিতে হবে রাজসাক্ষী হিসেবে; একটা মিথ্যা সাক্ষী, যার কারণে উনার ফাঁসি হবে। তখন কিন্তু মিছিল হচ্ছে, অনেকে ‘বাকের ভাইয়ের ফাঁসি হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ স্লোগান তুলেছেন। আমার বাড়ির চারপাশে অনেক পোস্টার লাগানো হয়েছিল। (পোস্টারে লেখা ছিল) ‘বদি তুমি সাক্ষী দিলে, ভাসবে তুমি খালে বিলে’। তো আমি একটু ভয় পেয়ে গেলাম। তখন আমি হুমায়ূন ভাইকে বললাম বাকের ফাঁসি না হলে হয় না। আপনি শেষ পর্বটা ঠিক করে দেন। উনি আমার দিকে কিছু সময় তাকিয়ে বললেন, ‘বাকের ফাঁসি কেউ আটকাতে পারবেন না’।”

আব্দুল কাদের এই গল্পে আরো যুক্ত করেছেন সে সময়ের নানা মধুর যন্ত্রণার গল্প। যার একটি এমন, “শেষ পর্ব প্রচারের দিন আমার কাছে ফোন এসেছে এক ভদ্রলোকের, উত্তরা থেকে। তিনি ফোন দিয়ে বলছেন, ‘আমার বাচ্চা তো কানতেছে খুব, বাকের ভাই মারা গেছে। আপনি একটু বলে দেন যে মারা যায়নি’। তখন আমি আবার বলে দিলাম (বাকের ভাই) মারা যায়নি।”

ক্যানসারে আক্রান্ত জনপ্রিয় অভিনেতা আব্দুল কাদের আজ শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আব্দুল কাদেরের পুত্রবধূ জাহিদা ইসলাম জেমি আজ সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এনটিভি অনলাইনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর শহরের সিএমসি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এ অভিনেতাকে। এরপর তাঁর করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।

কাদেরের প্যানক্রিসের (অগ্ন্যাশয়) ক্যানসার জটিল আকার ধারণ করলে গত ৮ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। বেশ কিছু পরীক্ষার পর ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আব্দুল কাদের কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘কোথাও কেউ নেই’ ধারাবাহিক নাটকে ‘বদি’ চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল আলোচনায় আসেন। এ ছাড়া জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র পরিচিত মুখ তিনি। হাস্যরসাত্মক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি তুমুল জনপ্রিয় টেলিভিশনের পর্দায়।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button