বগুড়া

বগুড়ায় অস্থির চালের বাজার, দাম বাড়ছে

বগুড়ায় অস্থির চালের বাজার। নানা অজুহাতে চালের দাম বাড়িয়ে বেচা-বিক্রি হলেও বাজার মনিটরিং করছে না কেউ। ২ সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বাড়তে বাড়তে এখন সাধারণ মানের চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫ টাকায়।

করোনাকালে নিম্নআয়ের মানুষের রোজগার কমে গেলেও চালের পাশাপাশি দাম বেড়েছে নিত্যপণ্যের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, ধান চাষ ও চাল উৎপাদনে বগুড়া একটি অন্যতম জেলা। সে কারণে বগুড়াকে এখন চালের মোকাম বলা হয়। বগুড়ায় চালের মোকামে দাম বেড়ে গেলে প্রভাব পড়ে সব জায়গায়। এবার জেলায় আমনের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে। তারপরেও জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৩৫ হেক্টর।

আর চাল আকারে ফলন ধরা হয় ৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন। সেখানে প্রায় পৌনে ৬ লাখ মেট্রিক টন ফলন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েক দফায় বিভিন্ন প্রকার চালের দাম প্রতিকেজি  গড়ে ৮ থেকে ১২ টাকা বেড়ে গেছে। এখন খোলা বাজারে সর্বনিম্ন মোটা চাল ৪৭ থেকে ৪৮ টাকায় এবং চিকন চাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ধান ও চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সরকারের চলমান আমন মৌসুমে ধান চাল ক্রয় অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে আরও দেখা গেছে, রনজিৎ ও বিআর-২৯ চাল ৪৭ থেকে ৪৮ টাকায়, স্বর্ণা চাল ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়, বিআর-২৮ চাল ৫২ থেকে ৫৪ টাকায়, মিনিকেট চাল ৬০ টাকায়, নাজির শাইল চাল ৬৪ থেকে ৬৫ টাকায়, পাইজাম চাল ৬৪ থেকে ৬৫ টাকায়, কাটারী (স্থানীয়) চাল ৫৮-৬০ টাকায় এবং কাটারী চাল (উন্নত) ৬৪-৬৫ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও কেজি প্রতি চালের দাম ৮ থেকে ১২ টাকা কম ছিল। বগুড়ার চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ার কারণে চালের দাম বাড়ছে। এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে প্রচ শীতের কারণে চাতালে ধান শুকাতে সমস্যার কারণে বাজারে চাল সরবরাহ কমে যাওয়ায় চালের বাজার বেড়েছে। এদিকে, বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারের অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ অভিযানও ব্যাহত হচ্ছে।সরকারি খাদ্য গুদামে ধানের দাম ২৬ টাকা কেজি হিসেবে ১০৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে ধানের দাম ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা মন দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে সরকারি খাদ্যগুদামে ৩৭ টাকা কেজি দরে যে চাল কেনা হচ্ছে সেই চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৭ টাকা কেজি। একারনে খাদ্য গুদামের সাথে চুক্তিবদ্ধ মিলারগণ ধান-চাল দিতে অনাগ্রহী।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button