জাতীয়

করোনা মহামারির মধ্যেই বাড়ছে সোনার দাম

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েই চলেছে। চলমান অর্থনৈতিক মন্দায় মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগ নিরাপদ মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। গত সপ্তাহে বড় উত্থানের পর চলতি সপ্তাহের শুরুতেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান প্রবণতা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার বিশ্ববাজারে লেনদেন শুরু হতেই স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের ওপর বেড়ে গেছে। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম আবারও ১ হাজার ৯০০ ডলার স্পর্শ করেছে।

গত বছরের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১ হাজার ৪৫৪ ডলার। এরপর করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৬৬০ ডলারে গিয়ে ঠেকে দাম। এর পর দাম হু হু করে বাড়ছেই। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ হয় আউন্স হিসাবে। এক আউন্স স্বর্ণ ৩১ দশমিক ১০৩ গ্রামের সমান। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের অনেক অঞ্চলে করোনার সংক্রমণ দ্বিতীয় দফায় বাড়ছে। এর ফলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। এতে দরপতন ঘটছে শেয়ারবাজারে। তাই অস্থির এ সময়ে ব্যবসায়ীরা নিরাপদ হিসেবে মূল্যবান ধাতব পদার্থে তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছেন। ডলার দুর্বল হওয়ায় এটিও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে। তাছাড়া অর্থনীতি সুরক্ষায় অনেক দেশ বিপুল অঙ্কের প্রণোদনা দিচ্ছে, সেই সঙ্গে কমাচ্ছে সুদের হার। এ কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগের চেয়ে এখন ধাতব পদার্থে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের উচ্চ দামের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এর আগে কখনো এত বেশি দেখা যায়নি। গত মাসে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৭৩ হাজার ৮৩৩ টাকায় উঠে যায়। যদিও এ মানের স্বর্ণের দাম এখন কিছুটা কমে ৭২ হাজার ৬৬৬ টাকায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারেও দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

স্বর্ণ মজুত বিষয়ে বাজুস সভাপতি দিলিপ কুমার আগারাওয়ালা ইত্তেফাককে বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সবাই আতঙ্কে আছে। ভবিষ্যতে কী হবে কেউ জানে না। ব্যবসাবাণিজ্যে মন্দা, শেয়ারবাজারে ধস। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগের জায়গাও নেই। স্বর্ণকেই একমাত্র ভরসা মনে করছেন সবাই। এ কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ডলারের পরিবর্তে এ বছর স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি উদ্যোগে বাংলাদেশে স্বর্ণে বিনিয়োগের চর্চা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০১০ সালের পরে আর কোনো স্বর্ণ কেনা হয়নি। চলমান সংকটেও স্বর্ণ কেনার কোনো পরিকল্পনা নেই।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button