নব্যদীপ্ত_শুদ্ধ চিন্তায় তারুণ্য

এখনো শেষ হয়নি যুদ্ধ

বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মুক্তিপাগল জনতার সংগ্রামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে স্পষ্টভাবে একথাই প্রতীয়মান হয় যে, বিশ্বের যেখানেই শোষণ, নিষ্পেষণ, অনাচার, বৈষম্যে মানুষ বঞ্চিত হয়েছে সেখানেই মুক্তির জন্য নিজস্ব আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়েছে নির্যাতিত ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠী। এর উদাহরণ হিসেবে ভিয়েতনাম ও ল্যাটিন আমেরিকার মানুষের সংগ্রামের ইতিহাসই যথেষ্ট নয়। বৃটিশ উপনিবেশবাদ পরবর্তিতে পাকিস্তানের হাত থেকে শোষিত মানুষের সংগ্রামী চেতনা বিশ্বের মানচিত্রে জন্মলাভ করেছে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ।

বিজয়ের ৪৯ বছর বঙ্গীয় নামক জনপদের মানুষ কেমন আছে তা যেমন বিচার্য তেমনি স্বাধীনতা অর্জনে প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার মধ্যে কতটুকু ফারাক।

স্বাধীনতা মানে শুধু নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বা পতাকা নয়। স্বাধীনতা মানে আত্মমর্যাদা। পরনির্ভরশীল নয় আত্মনির্ভরশীল। তাই আজ আত্মবিশ্লেষণের দিন। সকল প্রকার অনাচার, বৈষম্য, শোষণ, নির্যাতনের বিপরীতে আইনের শাসন,ন্যায় বিচার, সুষম অর্থনৈতিক বণ্টন, মানবিক মূল্যবোধ,অসাম্প্রদায়িক সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ঐক্যবদ্ধ জনগোষ্ঠীর মাঝে বিভেদ তৈরি হয়। তারা নানা দল উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। শুরু হয় নানা বিতর্ক। ইতিহাস হয় বিকৃত। সংবিধান হয় ক্ষত- বিক্ষত। রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে দেখা দেয় দ্বন্দ্ব, সংঘাত, হানাহানি। তবুও এ বিভেদের মাঝে আমাদের বিরামহীন অগ্রযাত্রা সেই যে জয়ী হয়েছিল বাঙালি একাত্তরে, তার পরেও তাকে জয়ী হতে হয়েছে নানা বাধা পেরিয়ে। হার মানেনি বাংলাদেশের মানুষ।

তবে এখনো আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়নি। এ যুদ্ধ দেশের অগ্রগতি উন্নয়নের যুদ্ধ। সন্ত্রাস,মাদক, জঙ্গীবাদ, দূর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ। একাত্তরের বিজয় লগ্নে আমরা কোথায় ছিলাম এখন কোথায় এসেছি। বিজয়ের ৪৯ বছরে আমাদের অর্জন একেবারেই কম নয়। তবে ব্যর্থতাও রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ঘুরে দাড়াচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। এরকম আরো অনেক উদাহরণ রয়েছে। এদেশের মানুষ খুবই কষ্ট সহিষ্ণু, আত্মবিশ্বাসী ও আত্মশক্তিতে বলিয়ান। আত্মবিশ্বাস ও আত্মশক্তি আছে বলেই এদেশের মানুষ একাত্তরের ইতিহাস সৃষ্টি করতে পেরেছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হোক।একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাক। মাদক,সন্ত্রাস, দূর্নীতি এগুলো আমাদের প্রধান শত্রু। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন একটি সভ্যসমাজ রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষূন্ন করে।উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করে। তাই দূর্নীতিবাজ,লুটেরা, বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। এদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। যে আদর্শ ও চেতনা নিয়ে আমাদের মুক্তিকামী লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁদের তাজা প্রাণ উৎসর্গ করে সে আদর্শ ও চেতনাকে আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আজকের এই দিনে আত্মবিশ্লেষণ ও অঙ্গীকার থাকবে যা কিছু অর্জিত হয়নি তা অর্জনের। বৃহৎ ঐক্যবদ্ধ জনগোষ্ঠীর সামনে কোনো বাধাই টিকে থাকতে পারে না। স্মরণ করি লাখো শহীদদের যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এ ভূখন্ডের মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করে।স্মরণ করি স্বাধীন জাতি ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পায় একটি ভাষাভিত্তিক স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

আজিজুল হাকিম অনিক নব্যদীপ্তিশুদ্ধচিন্তায় তারুণ্য

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button