খেলাধুলাবগুড়া

বগুড়ায় সর্বোচ্চ ১০ করদাতার তালিকায় মুশফিকুর রহিম

বগুড়ায় সর্বোচ্চ করদাতাদের তালিকায় উঠে এসেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক ২০২০-২০২১ করবর্ষে আয়কর দিয়েছেন ৪১ লাখ ৩৪ হাজার ৫২৭ টাকা। স্থানীয় কর বিভাগের করা সর্বোচ্চ ১০ করদাতার তালিকায় ৩৩ বছর বয়সী মুশফিকুর রহিমের স্থান পঞ্চমে।

বগুড়া কর অঞ্চলের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের বগুড়া সফর উপলক্ষ্যে গত ১৫ ডিসেম্বর কর বিভাগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বগুড়া অঞ্চলের কমিশনার স্বপন কুমার রায় ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তাতে বগুড়া কর অঞ্চলের অধীন চার জেলা- সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও বগুড়ার কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এবং আদায় পরিস্থিতির সার্বিক তথ্য তুলে ধরা হয়।

২০০৫ সালে জাতীয় ক্রিকেট দলে সুযোগ পাওয়া বগুড়া শহরের মাটিডালি এলাকার বাসিন্দা মুশফিকুর রহিম আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ব্যবসায়ী বাবা মাহবুব হামিদ তারাকেও ছাড়িয়ে গেছেন। কারণ বাবা মাহবুব হামিদ তারা নিজে একজন নিয়মিত করদাতা হলেও বগুড়ার সর্বোচ্চ ১০ করদাতার তালিকায় নাম লেখাতে সক্ষম হননি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ১৫ বছর আগে খেলা শুরু করা মুশফিকুর রহিম ১২ বছর ধরে কর দিয়ে আসছেন। তবে চলতি কর বর্ষের চেয়েও ইতিপূর্বে বেশি আয়কর দিয়েছেন ওয়ান ডে এবং টেস্টে ৭টি করে শতক হাঁকানো মুশফিকুর রহিম। কারণ এর আগের বছরগুলোতে খেলা বেশি হয়েছে যে কারণে তার আয়ের পরিমাণও বেশি ছিল।

২১৬ ওয়ানডেতে ৬ হাজার ১৭৪ রান করা মুশফিকুর রহিম বগুড়ার সর্বোচ্চ দশ করদাতার তালিকায় স্থান পাওয়ায় দারুণ খুশি তার বাবা মাহবুব হামিদ তারা। তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আয়কর দেওয়া একজন নাগরিকের কর্তব্য। কারণ করের টাকায় দেশের উন্নয়ন হয়। আমার ছেলে বগুড়ার সর্বোচ্চ ১০ করদাতার তালিকায় স্থান পাওয়ায় আমি দারুণ অভিভূত।’

৭০টি টেস্টে ৪ হাজার ৪১৩ রান করা মুশফিকুর রহিমের চেয়ে আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকায় কোন আক্ষেপ নেই তার ব্যবসায়ী বাবা মাহবুব হামিদ তারার। বরং আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে ৮৬টি- টোয়েন্টিতে ১ হাজার ২৮২ রান করা ছেলে মুশফিকুর রহিমের চেয়ে পিছিয়ে থাকাটা তার কাছে যেন দারুণ এক উপভোগ্যের ব্যাপার হয়ে উঠেছে। আয়কর প্রদানে ছেলের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় কেমন লাগছে- এমন প্রশ্নের জবাবে মুশফিকুর রহিমের বাবা মাহবুব হামিদ তারা বলেন, ‘আমি তো অত বড় ব্যবসায়ী নই। আমার যা আয় হয় তার ওপর যতটুকু কর ধার্য্য হয় আমি ততটুকুই আয়কর দিই। তবে ছেলের আয় আমার চেয়ে বেশি হয় বলেই সে আমাকে ছাড়িয়ে গেছে। এটা আমার জন্য আনন্দের।’

কর বিভাগের প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ ১০ আয়কর দাতার তালিকায় মুশফিকুর রহিমের চেয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান বেশি আয়কর দিয়েছেন তারা হলোঃ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘অনি এন্টারপ্রাইজ’ (১১ কোটি ৭২ লাখ ২৭ হাজার ৩২৫ টাকা), ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মাসুমা বেগম’ (৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭৮৬ টাকা), প্লাস্টিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পিসিএল প্লাস্টিক; (১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা), সিরামিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এবি সিরামিকস; ( ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা)। মুশফিকুর রহিমের চেয়ে কম আয়কর প্রদানকারী অপর ৫ প্রতিষ্ঠান হলো- ‘জয়নাল বিড়ি ফ্যাক্টরী’ (৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা), ঢেউটিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ মেসার্স জাহিদ ট্রেডার্স (২৯ লাখ ৮৫ হাজার ২৭৭ টাকা), মিষ্টান্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘এশিয়া সুইট মিটস; (২৬ লাখ ১৮ হাজার ৮৫০ টাকা), চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান ‘ডক্টরস ক্লিনিক’ (১৪ লাখ ৯০ হাজার ২৮০ টাকা) এবং ওষুধ বিপনন প্রতিষ্ঠান ‘সবুজ মেডিকেল হল ( ৭ লাখ ১৯ হাজার ৭ টাকা)।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button