বগুড়া

বগুড়ায় বেড়েছে শীত, শীতবস্ত্র কেনাকাটায় ভিড়

হঠাৎ করেই যেন শীত ও কুয়াশা চেপে বসেছে বগুড়ায়। শীত যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা। দিনে শীত কম অনুভূত হলেও সন্ধ্যা থেকে বেশ শীত পড়ছে। সেই সাথে ঝিড়িঝিড়ি বৃষ্টির মত কুয়াশাও ঝড়ছে। শহরের মধ্যে কুয়াশার পরিমান কম হলেও শহরতলী ও গ্রামে বেশ কুয়াশার কুন্ডলী দেখা মিলছে। দূরের যাত্রীদের পরনের পোশাক কিছুটা ভিজে যাচ্ছে কুয়াশায়।

শীতের কারণে শহরের ফুটপাত ও হকার্সসহ বিভিন্ন মার্কেটে শীতবস্ত্র বিক্রির হিড়িক পড়েছে। একই সাথে বেড়েছে শীতজনিত রোগবালাই ও করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। 

জানা যায়, বগুড়ার শহরতলীতে দুপুর পর্যন্ত থাকছে কুয়াশায় আচ্ছন্ন। বেলা করে কুয়াশা থাকায় প্রতিদিনই তাপমাত্রার পারদ নিচের দিকে কমছে। নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষগুলো জড়সড় হয়ে পড়েছেন। দিনের বেলাও থাকছে প্রচন্ড শীত। শীতের কারণে শহরের ফুটপাত ও হকার্সসহ বিভিন্ন মার্কেটে শীতবস্ত্র বিক্রির হিড়িক পড়েছে। 

তবে শীতকে পুঁজি করে গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা পোশাকের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন কয়েকগুন। ৩০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামে গরম পোষাক পাওয়া যাচ্ছে। গরম কাপড়গুলো মান ও দাম অনুযায়ী কিনছেন ক্রেতারা। দুস্থ ও নিম্ন আয়ের শীতার্ত মানুষদেরকে শহরের স্টেশন এলাকায় খড়কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। এছাড়া শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চারদিকে শীতজনিত রোগবালাই ছড়িয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধরা এই শীতজনিত রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। এদিকে দিন গড়িয়ে রাতে ক্রমেই বাড়তে থাকে কুয়াশা এবং বয়ে যাচ্ছে হিমেল হাওয়া। কুয়াশার দাপটে সকালে মহাসড়কে যানবাহনগুলো হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।

বগুড়া শহরের বনানী, ছিলিমপুর, চারমাথা এলাকার একাধিক যানবাহন চালক জানান, দিনের বেলাতেও হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দুপুরেও থাকছে কুয়াশা। অতিমাত্রার সাবধানতাই চলাচল করতে হচ্ছে। ফাঁকা স্থানগুলোয় কুয়াশার দাপটে গাড়ি চালানো কষ্টকর হয়েছে।

বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু জানান, শীতের কারণে মানুষের নিউমোনিয়া, সর্দি, জ্বর, কাশি, আমাশয় রোগ দেখা দিতে পারে। এজন্য সাধারণ নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে ঠান্ডা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদও পাওয়া যাচ্ছে। এর সাথে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে উল্লেখ্যযোগ্য হারে। 

বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ১৫ ডিসেম্বর ২০২ টি নমুনা পরীক্ষা করে বগুড়ায় নতুন করে ৩৩ জনের দেহে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে। জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ২৭০ জন। নতুন ২৬ জন নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৮ হাজার ৩৮৭ জন। এ পর্যন্ত জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ২১৫ জনের।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button