জাতীয়

শেখ হাসিনা ও মোদি বৈঠক বৃহস্পতিবার

করোনাভাইরাস মহামারীকালে আগামী ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে ৫৫ বছর পর নীলফামারীর চিলাহাটি সীমান্ত দিয়ে ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ উদ্বোধন হচ্ছে। গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে দুই সরকার প্রধানের ভার্চুয়াল বৈঠকের নানা দিক তুলে ধরেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

মন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের প্রধানমন্ত্রী মিটিং করবেন ভার্চুয়ালি। সেখানে একাধিক ইস্যু আলোচনা হবে। অনেকগুলো কুইক ইমপ্যাক্ট প্রজেক্ট উদ্বোধন হবে। নীলফামারীর চিলাহাটি ও ভারতের কুচবিহারের হলদিবাড়ির মধ্যে রেল সংযোগ দুই প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর প্রথমে মালবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এরপর মার্চে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দুই সরকার প্রধানের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, আমাদের বড় বড় ইস্যু, যেগুলো আমরা সবসময় তুলে থাকি, সেগুলো আমরা তুলব। পানি সমস্যা, আমাদের সীমান্ত অনিশ্চয়তা সেখানে তুলে ধরব। স্থল সীমান্ত, সমুদ্রসীমা ও পানি সমস্যা আমরা মোটামুটিভাবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করেছি। আরও কিছু যদি সমস্যা থাকে, আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে ফেলব।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিজয়, এটা বাংলাদেশের বিজয়, আর সেইসঙ্গে এটা ভারতেরও বিজয়। কারণ ভারতের সহায়তায় আমরা কিন্তু সেই ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় অর্জন করেছি। তারা যদি আমাদের সাহায্য না করতো তাহলে ইতিহাস অন্যরকম হতো। শুধু ১৬ ডিসেম্বর নয়, তারা (ভারত) অনেকদিন ধরে আমাদের সাহায্য করেছে এবং ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যে অবদান রেখেছেন তা আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী কয়েক মাস আগে থেকেই বাংলাদেশের জন্য পৃথিবীর সব রাষ্ট্রনায়কের কাছে চিঠি লিখেছেন। তারপর তিনি শুভেচ্ছা সফরে গিয়েছেন। তিনি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) ইউরোপ, আমেরিকা, রাশিয়া গিয়েছেন এবং বাংলাদেশে নির্যাতনের তথ্য বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান সরকার যখন ৪ ডিসেম্বর ভারতের ওপর আক্রমণ করল, তখন ভারত যুদ্ধ ঘোষণা করে। ৬ ডিসেম্বর ভারত সরকার ওই সময়ের বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার প্রধানকে জানাল যে ভারত বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এগুলো আমাদের জন্য বড় পাওয়া। ভারতীয় সৈন্যরা আমাদের মুক্তি সংগ্রামে রক্ত দিয়েছে। সুতরাং আমাদের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক, ঐতিহাসিক সম্পর্ক। ভারত আমাদের সবসময়ের বন্ধু, আমাদের বিজয়ে তাদেরও যথেষ্ট অহংকার করার কারণ আছে। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধুকে জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও তৎকালীন ভারত ও ব্রিটিশ সরকারের যে অবদান রয়েছে, তা স্বীকার করতে হবে। এজন্য আমরা ভারতের প্রতি যথেষ্ট কৃতজ্ঞ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তবে স¤প্রতিকালেও ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সোনালি অধ্যায়ে বিরাজ করছে। আমরা পৃথিবীর মধ্যে একটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছি, যে প্রতিবেশি রাষ্ট্র যুদ্ধ, ঝগড়া-ঝাটি না করে বড় বড় সমস্যার সমাধান করতে পারে। সেজন্য বাংলাদেশ এবং ভারত অবশ্যই সকলের প্রশংসা পাওয়া উচিত। আমাদের মধ্যে যদি আরও কিছু সমস্যা থাকে, তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাধান করতে পারব।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button
error: Content is protected !!