বগুড়ামুক্তিযুদ্ধ বগুড়া

বগুড়ায় বিজয় ভাস্কর্য রয়েছে অযত্নে অবহেলায়

বগুড়ায় তরুণ মুক্তিযোদ্ধার বিজয় ভাস্কর্য রয়েছে অবহেলায়। সঠিক যত্ন না থাকায় মলিন হয়ে পড়েছে ভাস্কর্যটি। দিনের পর দিন ভাস্কর্যটির এমন অবহেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে।

ভাস্কর্যটি দেখলে বোঝা যায় যে, তরুণ মুক্তিযোদ্ধার ভাস্কর্যটি বা কাঁধে বন্দুক নিয়ে ডান হাত উঁচিয়ে শান্তির পায়রা মুক্ত করে দিচ্ছেন। বঙালি যুবকের আদলে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়। মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে জয়লাভ করে ফেরার পর দেশের শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা উড়িয়ে দিচ্ছেন।

নির্মাণ করার সময়কাল ও প্রকৃত ভাস্কর্য শিল্পীর নাম তাৎক্ষনিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে জেলার মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিকরা বলছেন, ১৯৯১ সালের দিকে বিজয় ভাস্কর্যটি বগুড়া শহরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে উচুঁ বেদির উপর স্থাপন করা হয়েছিল।  

জানা যায়, ২০০৩ সালে বগুড়া শহরের সড়ক সম্প্রসারণ করার সময় ভাস্কর্যটি সরিয়ে জেলা শহরের বনানী বাইপাসমোড়ে স্থাপন করা হয়। ওই সালের আগ পর্যন্ত জেলা শহরের সাতমাথায় পোস্ট অফিসর এর সামনে সেটি যত্নে রাখা হয়েছিল।বগুড় শহরের মধ্যে থাকা তরুণ মুক্তিযোদ্ধার দৃষ্টি নন্দন ভাস্কর্য শোভা পেত। সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মীরা ভাস্কর্যকে ঘিরে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতো।  

২০১১ সালে বগুড়া শহরের প্রবেশপথ বনানী গোল চত্বর মোড়ে ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়। ভাস্কর্যটির পাশ দিয়ে চলে গেছে ঢাকা-বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক। ভাস্কর্যটি স্থাপনের ৫ বছর পর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভাঙ্গা অবস্থায় দেখতে পায় শহুরে লোকজন।

রহস্যজনকভাবে ভাস্কর্যটি ভাঙ্গা দেখে সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রতিবাদ জানায়। এর প্রেক্ষিতে বগুড়া পৌরসভা থেকে কয়েকদিন পর ভাস্কর্যটি ৭ হাজার টাকায় মেরামত করে পুণ:স্থাপন করে। স্থাপনকালে ভাস্কর্যটি বাঙালি মুক্তিযোদ্ধার আদল না হয়ে পাকিস্তান আর্মির আদল পায়। এ নিয়ে বগুড়ার সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা আন্দোলন করলে ওই বছরই সেটি আবারো সংস্কার করা হয়। কিন্তু, রাতের আধাঁরে ভেঙে ফেলা বা কোন যানবাহনের ধাক্কায় ভেঙ্গে যাওয়া ভাস্কর্যটি প্রথমবার নির্মাণের আদলে আর করা যায়নি। নির্মাণকালে ভাস্কর্য শিল্পির ছোঁয়ায় নির্মাণ হয়েছিল আর পরে মেরামত করা হয়েছিল নির্মাণ শ্রমিক দিয়ে। যে কারণে আদলে কিছু পরবির্তন হয়ে যায়। স্থাপনের পর আর যত্ন করেনি বগুড়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। যে স্থানে স্থাপন করা হয়েছে সেখানে এখন বিলবোর্ডে ছেঁয়ে গেছে। আগাছা গজে, রং ফিকে হয়ে গেছে।  

বগুড়ার সিনিয়র সাংবাদিক সমুদ্র হক জানান, বিজয় ভাস্কর্যটি বগুড়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এড. রজাউল করিম মন্টু ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস হোসেনের ত্বত্তাবধায়নে বগুড়া শহরের সাতমাথায় স্থাপন হয়েছিল। ১৯৯১ সালে ভাস্কর্য শিল্পি সুলতানুল ইসলাম বিজয় ভাস্কর্যটি ঢাকায় নির্মাণ করেন। পরে সেটি ট্রাকে করে বগুড়ায় নিয়ে এসে স্থাপন করা হয়।

বগুড়া পৌরসভার প্রকৌশলী আবু জাফর মো: রেজা জানান, ভাস্কর্য শিল্পকর্মটি নতুন করে আবারো পুনস্থাপন করা হবে। যত্ন নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্য খবর

Back to top button