তারুণ্যের কন্ঠস্বর

নারীর প্রতি সহিংসতা দূরীকরণ দিবস আজ

জাকি তাজওয়ার সমুদ্র
প্রতিবেদক,নব্যদীপ্তি

গত এক দশক থেকে পালিত হয় জাতিসংঘ স্বীকৃত “নারীর প্রতি সহিংসতা দূরীকরণ দিবস”!

সভ্যতার ক্রান্তি লগ্ন থেকে পদে পদে নারীদের হতে হয়েছে সহিংস তা, অবহেলা বা অত্যাচারের মুখোমুখি।

১৯৬০ সালের ২৫ এ নভেম্বর ডোমিকান প্রজাতন্ত্রে তিনজন নারীকে যে অকথ্য নির্যাতন করা হয় তা বিশ্বে সাড়া ফেলে দেয়। সেই সময় থেকে ২৫ শে নভেম্বরকে ঘোষণা করা হয় ”নারী সহিংসতা দূরীকরণ দিবস ”,যা ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক স্কীকৃতি লাভ করে।

বিশ্ব নারী সুরক্ষা কেদ্রের জরিপে দেখা যায় বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ নারী বিভিন্ন ভাবে হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার।
বিংশ শতাব্দীতে লাড়িয়ে অতি লজ্জার সাথে জানাতে হচ্ছে তথ্য, প্রযুক্তি, শিল্প সকল ক্ষেত্রে বিল্পব ঘটিয়ে ফেললেও মানবিক মূল্যবোধে বিল্পব ঘটাতে পারে নি মানুষ। দিন দিন তাই নারী সহিংসতা বেড়েই যাচ্ছে।

নারী সহিংসতার প্রধান কারণ বলা হয় নারীদের অপরের উপর নির্ভশীলতা। তবে দিন দিন নারীরা সেই নির্ভরশীলতার জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছে।শিক্ষা,যোগ্যতা, মেধায় তারা আজ সমানে সমানে ছেলেদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে লড়ে যাচ্ছে অর্থনীতি, গবেষণা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায়।হাজারও বাধা বিপত্তি নিয়ে শিক্ষা অর্জন করা সেই নারীকে রাস্তায় উত্তপ্ত করছে পুরুষ সমাজ,কখনো বা ইভটিজার রুপ নিচ্ছে ধর্ষকে।সব মিলিয়ে দিনশেষে প্রশ্ন ওঠে আরও কত পরীক্ষার সম্মুখিন হলে রেহাই পাবে নারী সমাজ!!!!

একজন কন্যা সন্তানকে পুরুষ সন্তানের সমান প্রাধান্য দেয়া হয় না,শিক্ষার অধিকার থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্য এর শিকার হতে হয় নারীদের।

সমাজের অর্ধেক জনগোস্ঠী যেখানে নারী সেখানে সমাজ, বিশ্ব বা দেশের সুস্পষ্ট উন্নয়নে অবশ্যই নারী সহিংসতা দূর করতে হবে এবং সমান অধিকার সরবারাহের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।

পূর্বের তুলনায় অনেকাংশে সচেতন বর্তমান নারী সমাজ।প্রতিনিয়ত পরিবার,আত্নীয় বা কর্মস্থলে আর নারীরা সহ্য করে না অকথ্য নির্যাতন। সম্প্রতি হ্যাশ ট্যাগ মি টু এর মাধ্যমে বিশ্বের সকল দেশের নারী সরব হয়ে ওঠে সেই সাথে নিজেদের প্রতি হওয়া অবিচার এবং সহিংসতা প্রকাশের মাধ্যম বুঝিয়ে দেয় তারা আজ লড়াইয়ে প্রস্তুত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীরা বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে চলেছে।২০০০ সালে নারী নির্যাতন আইন পাস করার পর দেশে এই নির্যাতনের হার অনেকাংশে হ্রাস পায়। ২০০৩ সালে এই আইন আরও পরিমার্জন করা হয়।
যার ধারার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত
দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ,ধর্ষণ,
ইভটিজিং সহ বিভিন্ন নারী সহিংসতা মুলক কর্মকান্ড।

এছাড়া বাংলাদেশের নারী সহিংসতার অন্যতম মূল কারণ যৌতুক প্রথা।নিজের ইচ্ছামত অর্থ না পাওয়ায় স্ত্রীকে বিভিন্ন ভাবে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে যায় পুরুষ সমাজ। এসকল অপরাধ বন্ধে জোড় আরোপের মাধ্যমে একটু সুন্দর জাতি গঠনে এগিয়ে আসতে হবে সকল মানুষকে। সেই সাথে সচেতন হতে হবে নারী সমাজকে।নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট থাকার পাশাপাশি সমাজ বিকশিত করতে অগ্রণি ভূমিকা পালন করতে হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button
error: Content is protected !!