তারুণ্যের কন্ঠস্বর

নারী সহিংসতাকে না বলুন!!

যুগের পর যুগ পাল্টেছে, আমরা আধুনিক থেকে আধুনিকতার হয়েছি, নারীরা পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শিখেছে, নিজের অধিকার আদায় করে নিতে শিখেছে কিন্তু এতকিছুর মধ্যেও অব্যাহত রয়েছে নারী সহিংসতা।

জাতিসংঘের প্রাক্তন মহাসচিব কফি আনান ২০০৬ সালে ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর উইমেন (UNIFEM)- এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ঘোষণা করেছিলেনঃ “নারী ও বালিকাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা একটি পৃথিবীব্যাপী বিরাজমান সমস্যা। সমগ্র বিশ্বজুড়ে তিনজন নারীর অন্তত একজন কে মারা হয়েছে, জোরপূর্বক যৌন ক্রিয়া করতে বাধ্য করা হয়েছে, বা অন্য কোন ভাবে তার জীবনে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে যেখানে নির্যাতনকারী তার পরিচিত ছিল।”

নারীর প্রতি সহিংসতার অন্যতম কারণ হিসেবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও মনোভাব কে দায়ী করা যায়। পুরুষরা তাদের অধিক ক্ষমতা প্রকাশে নারীকে জোরপূর্বক তার অধীনস্হ রাখতে চায় যার ফলাফল হল সহিংসতা।

অনেকে অধিকারবোধ ও সহিংসতার পার্থক্য বোঝে না। নিজের স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা, গালাগালি, অসম্মান এমনকি স্ত্রীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন কে অনেক পুরুষ তার জন্মগত অধিকার বলে মনে করে কিন্তু এটাই আসলে সহিংসতা। পুরুষের এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানো জরুরী।

বাল্যকালে নারীরা নিজের পরিবারের দাঁড়াও সহিংসতার শিকার হয় যার অন্যতম উদাহরণ হল: জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া, মারধর, পরিবারের ছেলে সন্তানকে মেয়ে সন্তানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের মানসিক নির্যাতন।

এছাড়াও সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে ও নারীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে যা একটু চোখ কান খোলা রাখলেই আমরা দেখতে পাই।

এখন কথা হলো নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে করণীয় কি?
আমার মতে, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া উচিত প্রত্যেকটি পরিবার থেকে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের ছেলে ও মেয়ে উভয় সন্তানই আছে সেই পরিবারগুলোতে কখনো মেয়ে সন্তানকে ছেলে সন্তানের চেয়ে ছোট করে দেখা উচিত নয়। এরকম আচরণের দ্বারা ছোট থেকে একটি ছেলের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয় মেয়েরা অবহেলার বস্তু এবং তোমার মর্যাদা মেয়ের চেয়ে বেশি। আর এমন মানসিকতার পুরুষরাই ভবিষ্যতে নারী সহিংসতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রত্যেকটা বাবা-মার উচিত নারীর সন্মানের ব্যাপারে ছেলেকে যথাযথ শিক্ষা দিয়ে বড় করা কেননা আপনার পরিবারের ছেলেটিই একদিন অন্য কারো পরিবার হবে, কারো স্বামী হবে, কারো বাবা হবে।

বাবা-মার আরো উচিত মেয়ের উপর জোর করে কিছু চাপিয়ে না দিয়ে তার মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া এবং মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ রাখা।

প্রত্যেকটা পরিবার যদি নারীর সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় তাহলে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নারীরা তার যথাযথ সম্মান পাবে এবং নারী সহিংসতার অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

সবশেষে এটাই বলব এই ২০২০ সালে এসে নারী নেতৃত্বাধীন একটি দেশে বাস করেও নারীর প্রতি সহিংসতা আমাদের কোনভাবেই  কাম্য নয়। তাই রাষ্ট্রীয়ভাবে উচিত নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে আরো কঠোর আইন বাস্তবায়ন ও তার প্রয়োগ করা এবং নারীরা যাতে আসলেই পুরুষের সাথে সমান তালে যথাযথ মর্যাদায় এগিয়ে যেতে পারে তা নিশ্চিত করা।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button