আইন ও অপরাধ

মরদেহ ধর্ষণের অভিযোগে আটক মুন্না কী নেক্রোফিলিয়ায় আক্রান্ত?

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহ ধর্ষণের অভিযোগে আটক সহযোগী ডোম মুন্না আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। যদিও তার এই কীর্তিকলাপকে নেক্রোফিলিয়া নামের মানসিক ব্যাধি বলছে চিকিৎসা বিজ্ঞান।

মানসিক রোগী বলে কী কাঠগড়া থেকে বেঁচে যাবে মুন্না? ধর্ষণের দায়ে সাজা হবে তার?

লাশকাটা ঘর-মর্গ বা ডোমঘর নামেও পরিচিত। অজানা ভয় আর আতঙ্কে অনেক সাধারণ মানুষের গা ছমছম করে ওঠে এর নাম শুনলে। অথচ দিনের পর দিন এই মর্গেই ঘটেছে এক বিভৎস ঘটনা, তাও মৃতদেহের সাথে।

২০ বছর বয়সী মুন্না ভক্ত রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সহযোগী ডোম হিসেবে কাজ করতেন। এই কাজ করতে গিয়ে কিশোরীদের অবিকৃত লাশ ধর্ষণ করতেন তিনি।

মুন্নার এই অস্বাভাবিক আচরণ মিলে যায় একটি মানষিক ব্যাধির সাথে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় নেক্রোফিলিয়া। এটা একধরনের যৌনবিকৃতি। কারো কাছে স্বাভাবিক যৌনসম্পর্ক আনন্দদায়ক না হলে এতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে অনেকে। মরদেহ ধর্ষণ নেক্রোফিলিয়ার চূড়ান্ত ধাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেক্রোফিলিয়ার কোন কেস এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ধরা পড়েনি। তবে মুন্নার বিষয়টি নেক্রোফিলিয়া হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিকাল সাইকোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড: কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, “নেক্রোফিলিয়ার ক্ষেত্রে এটা বলা কঠিন যে- ঠিক কোন এক্সপোজারে নেক্রোফিলিয়া ডেভেলপ করেছে। যেহেতু এই কেসগুলো আমরা খুব কম সংখক পাই, এখানে যথেষ্ট স্টাডি বাংলাদেশে করা হয়নি, বিশ্বেও এ সংক্রান্তই স্টাডি অত্তন্ত কম।”

মুন্না ভক্ত যদি সত্যিই নেক্রোফিলিয়ায় আক্রান্ত হয়, তবে তার বিচার কোনদিকে গড়াবে? ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪ এর ৪৬৪ থেকে ৪৭৫ ধারায়, মানসিক রোগীকে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার কথা বলা আছে।

সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “মানসিক বিকারগ্রস্ত রোগী আইনের বিধান মত যে পর্যন্ত না মানসিকভাবে সুস্থ হবেন ততক্ষণ তার বিচার কাজ হবে না। যখন যে মানসিক সুস্থ হবেন, তখন কিভাবে বিচার হবে- তার কোনো বিধান নেই।”

মৃত নারীদের ধর্ষণ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মুন্না ভক্ত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগ বলছে, মৃত নারীদের ধর্ষণ করা জঘন্যতম একটি কাজ। মুন্না ভক্ত সচেতনভাবে এই কাজ করেছে, প্রচলিত আইনে যার সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, “নীতিবিরুদ্ধ কোনো কাজ করে থাকলে আইনে আর কোনো সন্দেহ থাকার সুযোগ নেই। সে (মুন্না) স্বীকারও করেছে এমন কাজের কথা। এমন একটা অপরাধ করা মানে তিনি আরো বড় ধরনের অপরাধ করতে পারেন।”

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ গত এক বছরের কয়েকটি নমুনা পাঠিয়েছিল সিআইডিকে। সেখানে মৃত নারীর দেহে শুক্রাণুর উপস্থিতি পেয়ে সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির চেষ্টা করে তারা। পরে তদন্তে দেখা যায় মরদেহে প্রাপ্ত নমুনা ডিএনএ’র প্রোফাইলের সঙ্গে বারবার একই ব্যক্তির ডিএনএ মিলে যাচ্ছে। তারই সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয় মুন্নাকে।

সম্পর্কিত পোস্ট

Back to top button